প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দৌড়ে আছেন ৯ প্রভাবশালী
কে হচ্ছেন গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলী!

ভোরের কাগজ : সরকারের এ গ্রেডের কর্মকর্তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী কে হচ্ছেন, এমন আলোচনা এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সবখানে। বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ফলে সরকারের নির্মাণ-সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকা সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান প্রধানের এ চেয়ারে পরবর্তী কে আসছে বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। এ পদে যেতে ৮ জন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী প্রতিযোগিতায় রয়েছেন। এ ছাড়া বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলামও এ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেতে চেষ্টা করছেন বলে জানা যায়।

জানতে চাইলে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহিদ উল্লা বলেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলীর পদটি সরকারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সংস্থাটি সরকারের উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বড় ভূমিকা রাখে। এখন এ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা, দক্ষতা ও সততার ওপর জোর দেয়া জরুরি। বেশ কয়েক জনকে নিয়েই কাজ করছে মন্ত্রণালয়। আমরা সম্ভাব্য কয়েক জনের প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠাব। সেখান থেকে একজনকে নিয়োগ দেয়া হবে। গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হতে ইতোমধ্যে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন ৯ জন প্রকৌশলী। এরা হলেন গণপূর্ত ক্যাডারের ৮২ ব্যাচ ও ১৫তম ব্যাচের প্রকৌশলী। প্রচলিত বিধান অনুযায়ী প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার কথা রয়েছে ৮২ ব্যাচের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. খুরশেদ আলম। কুমিল্লা জেলার বাসিন্দা খুরশেদ আলমের চাকরির মেয়াদ আছে মাত্র ৯ দিন। তিনি বর্তমানে জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের সদস্য (পরিকল্পনা) হিসেবে প্রেষণে কর্মরত রয়েছেন। তার পরে রয়েছেন ময়মনসিংহ জোনের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. জয়নুল আবেদিন। ৮২ ব্যাচের জয়নুল আবেদিনের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলায়। তিনি বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে নির্মাণ কাজে গাফিলতির অভিযোগে প্রত্যাহার হয়ে পরে অবমুক্ত হন।

জয়নুল আবেদিনের পরে রয়েছে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (সম্বয়ন ও সংস্থাপন) মো. শাহাদাত হোসেন। কুমিল্লার বাসিন্দা একই ব্যাচের এ প্রকৌশলী চাকরি জীবনে নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালনকালে জমি-সংক্রান্ত জটিলতায় প্রত্যাহার হন। প্রকৌশলী শাহাদাত হোসেনের চাকরির মেয়াদ আরো ১ বছরের বেশি সময় থাকায় তাকেই এখন পর্যন্ত পরবর্তী প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার যোগ্য মনে করা হচ্ছে। এরপর ২৮ ব্যাচের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) মো. আব্দুল হাইও রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এরপর ৮২ ব্যাচের পর গণপূর্ত ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের আরো ৪ জন প্রকৌশলী রয়েছেন প্রধান প্রকৌশলীর দৌড়ে। ১৫তম ব্যাচের প্রথম হওয়ায় আশরাফুল আলম রয়েছেন প্রতিযোগিতায়। বগুড়ার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রংপুর জোন) দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বাংলাদেশ সংসদ সচিবালয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী থাকাকালে ভুয়া ভাউচারে নিয়োগ দিয়ে অনিয়মের অভিযোগে প্রত্যাহার হন। আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা মেট্রোপলিটন) উৎপল কুমার দে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন প্রধান প্রকৌশলী হতে। চট্টগ্রামের বাসিন্দা উৎপল কুমার কেরানীগঞ্জ জেলখানা নির্মাণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালককালে অনিয়মের অভিযোগে ব্যাপক সমালোচিত হন। ১৫তম ব্যাচের দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মো. মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদের সম্ভাবনাও আছে বলে জানান একাধিক সূত্র। পেশায় মেধাবী ও সততার সুনাম থাকায় নোয়াখালী জেলার বাসিন্দা মো. মোসলেহ উদ্দিন আহম্মেদ বর্তমানে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে চট্টগ্রাম জোনে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রধান প্রকৌশলীর চেয়ার পেতে দৌড়ে রয়েছেন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (প্রকল্প ও বিশেষ প্রকল্প) ড. মইনুল ইসলামও। তবে বর্তমান প্রধান প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম চুক্তিতে নিয়োগ পাবে বলেও জানান কেউ কেউ। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেয়ার পর বদলি বাণিজ্য বন্ধ, ই-জিপি চালু ও স্বল্প সময়ে একাধিক বহুতল ভবন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে সুনাম অর্জন করেন। ফলে তার পুনরায় এ পদে ফিরে আসার ব্যাপারেও আশাবাদী কেউ কেউ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ