প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভারতের ভোট ও জনগণের ক্ষমতায়ন

কাকন রেজা : ভারতের পাঁচটি রাজ্যের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি হেরেছে। কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা সত্ত্বেও তিনটি রাজ্যে শোচনীয় পরাজয় বরণ করতে হয়েছে বিজেপিকে। পাঁচটির মধ্যে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় ও রাজস্থানের এই পরাজয় হজম করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে। মাস কয়েক পরেই লোকসভা নির্বাচন, এই পরাজয়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে সেই নির্বাচনে। কিন্তু উপায় নেই ক্ষমতাসীনদের। ভারতের নির্বাচন ব্যবস্থায় জনগণকে ডিঙিয়ে, জোর-জবরদস্তিতে ক্ষমতায় আসার কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। ভারতে নির্বাচনকালে নির্বাচন কমিশনই সব। সরকার তার কাছে নস্যি। আর প্রশাসনও এ সময় থাকে সবচেয়ে ভয়ে, কোনো তদবির খাটে না বলে। ফলে ভোটের রায়টা যায় জনগণের পক্ষেই। সামান্য ব্যতিক্রম বাদে তাদের পছন্দই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়।

আমাদের ভোটের প্রাক্কালে ভারতে ক্ষমতাসীনদের পরাজয় একটা নজির। বলছি না যে, আমাদের এখানে ক্ষমতাসীনরা ভোটে পরাজিত হবে। কিন্তু নির্বাচন কমিশন তার কাজ ঠিকঠাক করলে ক্ষমতাসীন ও ক্ষমতাহীনদের মধ্যে নির্বাচনে কোনো পার্থক্য থাকবে না, সেটাই বলছি। এজন্যই এ নজির আমাদের নির্বাচন কমিশনের জন্যও। তাদের কাজ যদি ঠিকঠাক থাকে তবে ভোটে প্রকৃত গণরায়ই প্রতিফলিত হবে। আর সেটাই হবে সকলের জন্যে মঙ্গলের।

আল্লাহ না করুক, ভোট যদি প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তবে এবারের পরিস্থিতি পূর্বেকার মতন থাকবে না। ভোটের শুরুতেই যার নজির আমরা দেখতে পাচ্ছি। প্রচারণার প্রথম দিনেই দেশে মারা গেছেন দুজন মানুষ। অন্তত বিশটি জেলায় হাঙ্গামার ঘটনা ঘটেছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রার্থীসহ সাধারণ মানুষ। বাড়িঘরে আগুন লাগানো হয়েছে, পুড়েছে গাড়িও। এ লেখা যখন লিখছি তখনও হাঙ্গামার খবর, আক্রান্ত হবার খবর দিচ্ছে গণমাধ্যমগুলো। এমন হাঙ্গামা চলতে থাকলে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের দাবিটির যৌক্তিকতা ক্রমেই পোক্ত হতে থাকবে। সাথে প্রাসঙ্গিক হয়ে দাঁড়াবে অনেক দাবির প্রয়োজনীয়তাও। এমন ধারণা যে মিছে নয়, তা গণমাধ্যমের খবরে সিইসির বিব্রত হবার কথা প্রকাশ পাবার মধ্যেই উঠে এসেছে। সিইসি বলেছেন, মির্জা ফখরুলের গাড়িবহরের হামলার বিষয়ে নির্বাচন কমিশন বিব্রত।

এ দেশের মানুষ চায় না, নির্বাচন কমিশন বিব্রত হোক। মানুষ বড় আশা করে আছে নির্বাচন কমিশনের প্রতি। প্রশ্ন করার মতন অনেক বিষয় থাকলেও এখনো মানুষ আশাবাদী। হয়তো শান্তিময় একটি নির্বাচন হবে, মানুষ তার নিজের ভোটটা দিতে পারবে। তাদের নিজের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করতে পারবে। ভোট হলো মানুষের ক্ষমতা। এই ক্ষমতায়ন যদি নির্বিঘœ হয়, তবে আগামী পথচলাও নির্বিঘœ হবে। না হলে, আরো ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময় পেরুতো হবে আমাদের।

পুনশ্চ: অনেকে বলেন ভোট হলো মানুষের একদিনে ক্ষমতা। যারা ক্ষমতায় যায় তাদের ক্ষমতা পাঁচ বছরের। এই ধারণাটি সম্পূর্ণ ভুল। একদিনের ক্ষমতার জন্যই পাঁচ বছর মানুষের কথা ভাবতে হয় ক্ষমতাপ্রাপ্তদের। তাদের সবসময় মনে রাখতে হয়, আবার ফিরে যেতে হবে মানুষের কাছেই। ভয় থাকে মনে প্রত্যাখ্যাত হবার। একদিন প্রত্যাখ্যাত হলেই পাঁচ বছরের চিন্তা শেষ। সুতরাং একদিনের ক্ষমতাকে উপেক্ষা করার কোনো উপায় নেই। আর উপায় নেই বলেই, জনগণের ক্ষমতাকে নিশ্চিত করতে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য করার দ্বিতীয় বিকল্প নেই। ভোটের অধিকার নিশ্চিত না হলে, ‘জনগণই সকল ক্ষমতা উৎস’  কথাটি মিথ্যে হয়ে যায়। আর জনগণের ক্ষমতা মিথ্যে হলে  রাষ্ট্রও মিথ্যে হয়ে যায়।

লেখক : সাংবাদিক ও কলাম লেখক।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত