প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কক্সবাজার ৪টি আসনে প্রচারণায় সরব প্রার্থীরা

কক্সবাজার প্রতিনিধি: ভোটের হাওয়ায় সরব কক্সবাজারের ৪টি সংসদীয় আসন। চলছে জেলার সবর্ত্রে প্রানবন্ত প্রচারণা। দেশের অন্যান্য নির্বাচনী এলাকায় বিচ্ছিন্ন ঘটনার খবর মিডিয়ায় প্রচারিত হলেও কক্সবাজারের ৪ আসনে সকল প্রার্থীরা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন নিবিঘ্নে। গত কয়েকদিনে এসব নির্বাচনী এলাকায় কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিশেষ করে কক্সবাজার ৪ ( উখিয়া-টেকনাফ) আসনে অনেকে আশংকা করেছিলেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী শাহিন চৌধুরীর সাথে বিএনপির প্রার্থী মোঃ শাহজাহান চৌধুরীর কর্মী সমর্থকদের মাঝে যেকোন মুহুর্তে প্রচারণার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বিএনপির কর্মী সমর্থকরা। তবে এ পর্যন্ত নির্বাচনী মাঠে কোন ধরনের উত্তাপ কিংবা সহিংস ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের।

জেলা বিএনপির মুখপাত্রের দাবি, প্রচারণা চালাতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছেন বিএনপির কর্মী সমর্থকরা এমনকি রামু-সদর আসনে বিএনপির প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচোরের অভিযোগ ও করেছেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘লেভেল ফিল্ড’ প্রস্তুত আছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য মাঠে কঠোর নজরদারি রয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন।

জানা যায়, কক্সবাজারের ৪টি আসনে সব ধরনের নিরাপত্তা ও প্রার্থীদের আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়টি নজরদারির জন্য ৬টি টিম কাজ করছে। ৬টি টিমের মধ্যে প্রতিটি উপজেলায় ১ জন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। করা হয়েছে ‘ইলেকট্রোরাল ইরকোয়ারি কমিটি’। জুডিসিয়াল ম্যাজিট্রেটের নেতৃত্বে টিম রয়েছে পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালত থাকবে সার্বক্ষণিক মনিটরিং-এ। এছাড়া মাঠে থাকছে ‘ভিজিলেন্স কো-অবজারভেশন’ টিম। উক্ত টিম ও কর্মকর্তাগণ নির্বাচনের মাঠে বিশৃংখলা প্রতিরোধ এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতি নজর রাখবে।

এদিকে জেলার ৪টি আসনে প্রার্থী ও ভোটারদের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন জানান, প্রাথী-ভোটারদের নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে পুলিশ। নির্বাচন পর্যন্ত জেলা পুলিশের সকলের ছুটি বন্ধ ঘোষনা করা হয়েছে। নির্বাচন উপলক্ষে ডাবল মোবাইল টিম প্রস্তত রাখা হয়েছে। কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র পৌছে যাবে পুলিশ। রামুর গর্জনীয়া একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া এখনো পর্যন্ত কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান পুলিশ সুপার। প্রতিটি থানায় নিয়মিত মোবাইল টিমের পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। বিএনপির প্রার্থী সমর্থকদের উপর ৩টি আসনে বিচ্ছিন্ন ঘটনার বিষয়টি তিনি নাকচ করে দিয়ে বলেন, আমরা এ ধরনের কোন ঘটনার খবর পায়নি।

এদিকে প্রতীক বরাদ্দ পাওয়ার পর থেকে জেলার ৪ আসনের ২৮ প্রার্থীর মধ্যে প্রধান দু’রাজনৈতিক দল আওয়ামীলীগ ও বিএনপির প্রার্থীরা মাঠে দাপুটে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কক্সবাজার-৩ (রামু -সদর) আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপির সাবেক সাংসদ লুৎফর রহমান কাজলের রামুর নির্বাচনী অফিস রাতের আঁধারে ভেঙ্গে পাশের পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

রামু উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ মাহিন রিটানিং কর্মকর্তা বরাবরে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে জানিয়েছেন জেলা বিএনপির মুখপাত্র দপ্তর সম্পাদক মোঃ ইউসুফ বদরী। তিনি অভিযোগ করেন কক্সবাজারের ৪টি আসনের মধ্যে ৩টি আসনে বিএনপির প্রার্থীরা বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন।

তিনি জানান- পেকুয়া-চকরিয়া আসনে বিএনপির প্রার্থী অ্যাড. হাসিনা আহমদের পক্ষে প্রচারণা চালানোর সময় পেকুয়া শীলখালী ইউনিয়ন শ্রমিক দলের নেতা আবদুল মুনাফ ড্রাইভারকে বারবাকিয়া বাজারে হামলা করেছে সন্ত্রাসীরা। এছাড়া উখিয়া-টেকনাফ আসনে হলদিয়া পালং এলাকায় বিএনপির প্রার্থী মোঃ শাহজাহান চৌধুরীর নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর সময় বুধবার বিকালে গাড়ি ভাংচুর করেছে সন্ত্রাসীরা এমন অভিযোগ করেছেন মুখপাত্র ইউসুফ বদরী। তাঁর দাবি আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা যেভাবে প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে সে ভাবে বিএনপির প্রার্থীদের মাঠে প্রচারণা চালাতে দিচ্ছেনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। তিনি মাঠে লেভেল ফিল্ড এর দাবি জানান ।

জেলার নির্বাচনী আসন কক্সবাজার-১ ( চকরিয়া-পেকুয়ায় ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী মোঃ জাফর আলম বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ চালিয়েছেন পাশাপাশি বিএনপির প্রার্থী অ্যাড. হাসিনা আহমেদ চসে বেড়িয়েছেন বিভিন্ন এলাকায়।

কক্সবাজার-২ আসন (মহেশখালী-কুতুবদিয়ায় ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী আশেক উল্লাহ রফিক এবং ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদের পক্ষে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

কক্সবাজার-৩ (রামু-কক্সবাজার সদর) আসনে উত্তাপ ছড়িয়ে প্রচার প্রচারণা চালিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাংসদ সাইমুম সরওয়ার কমল এবং বিএনপির সাবেক সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল।

দিনভর প্রচারনা ও গণসংযোগ করেছেন কক্সবাজার-৪ আসন ( উখিয়া-টেকনাফ) আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাংসদ আবদুর রহমান বদির পত্নি শাহিন চৌধুরী এবং বিএনপির প্রার্থী সাবেক সাংসদ মোঃ শাহজাহান চৌধুরী।

৪টি আসনে জমজমাট প্রচারণা এবং ভোটারদের আগ্রহ বলে দেয় কক্সাবাজারের সব আসনে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মডেল হবে সারাদেশের জন্য।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত