Skip to main content

‘রাজনীতি এখনো পুরুষতন্ত্রের কবল থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি’

সৌরভ নূর : ‘নারীর জন্যে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো তিনি একজন নারী’, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান নারীদের ক্ষমতায় নিয়ে আসতে। বিভিন্ন স্থানে নারীদের বসিয়েছেন। একজন নারীকে সংসদের স্পিকারও বানিয়েছেন। কিন্তু তার চারপাশে তো সবাই পুরুষ। রাজনীতি তো এই পুরুষতন্ত্রের কবল থেকে এখনো বেরিয়ে আসতে পারেনি। আক্ষেপের সুরে বলছিলেন যুব মহিলা লীগের নেত্রী সাবিনা আক্তার তুহিন। --বিবিসি বাংলা\\ তিনি বলেন, স্বপ্ন ছিল রাজনীতির মাঠে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করে জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে আসা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দল থেকে মনোনয়ন না পাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়েছে।\ \ এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি থেকে যাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে তাদের মাত্র পাঁচ থেকে ছয় শতাংশ নারী। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের জোট থেকে ২০ জন এবং বিএনপির জোট থেকে ১৪ জন নারী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। ছোটখাটো অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর নারী প্রার্থীর সংখ্যাও এর চেয়ে খুব একটা বেশি নয়। যে কয়েকজন নারী মনোনয়ন পেয়েছেন তাদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ তাদের পিতা, স্বামী কিংবা পরিবারের সূত্রে পেয়েছেন।\ \ সাবিনা আক্তার তুহিনের মতো বেশিরভাগ রাজনীতিকেরই হাতেখড়ি হয় ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে। যেসব ছাত্র সংগঠন দিয়ে তাদের কেরিয়ারের সূচনা হয় সেখানেও প্রচুর নারী সদস্য থাকা সত্ত্বেও তাদের নেতৃত্বে উঠে আসা বিরল ঘটনা। ছাত্র রাজনীতিতে যেমন বহু নারী সক্রিয় থাকেন, তেমনি ইউনিয়ন এবং উপজেলা পরিষদের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সংরক্ষিত ও সরাসরি ভোটে অনেক নারীকে অংশ নিতে দেখা যায়। কিন্তু এর পরে জাতীয় নির্বাচনে এই নারীদেরকেই আর চোখে পড়ে না।\ \ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওমেন এন্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষক, সমাজ বিজ্ঞানী ড. সানজিদা আখতার মনেকরেন, বৃহত্তর পর্যায়ে নারীরা পুরুষদের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারে না।\ \ সানজিদা আখতার বলেছেন, এখন নারীবান্ধব রাজনীতির বিষয়টাও ভাববার সময় এসেছে। যে পুরুষ চরিত্র দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হয়, তার মধ্যে নারীরা নিজেদের জায়গা করে নিতে পারে না। দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে রাজনৈতিক দলগুলোর মাইন্ডসেট তৈরি হয়। বিশেষ করে যখন ভোটের সময় আসে, নমিনেশন দেওয়ার বিষয় আসে, তখন যে রাজনৈতিক দলই হোক না কেন, তারা তাকেই নমিনেশন দেবে যার জিতে আসার সম্ভাবনা নিশ্চিত।\ \ এই সমাজ বিজ্ঞানী অারও বলেছেন, নারীরা রাজনীতিতে আসতে পারছে না তার অর্থ এই নয় যে তারা আগ্রহী নয়। বর্তমান প্রজন্মের নারীরা রাজনীতির ব্যাপারে অনেক বেশি আগ্রহী। রাজনীতিতে তাদেরও এখন কিছু বলার আছে।  রাজনৈতিক দলগুলো যদি উদ্যোগ নেয় তাহলে নারীদের সংখ্যা বাড়বে।