প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডা. জাফরুল্লাহর ভবিষ্যৎবাণী ও ঝুঁকি

মাসুদ কামাল : কারাগারে থাকা বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির একটা তারিখ পাওয়া গেছে। ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি! এই তারিখের কথা জানিয়েছেন ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। পেশায় তিনি বিচারক নন, আইনজীবীও নন। তিনি একজন চিকিৎসক, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা। তার গুরুত্বপূর্ণ পরিচয় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আর এই সময়ের আলোচিত পরিচয় জাতীয় যুক্তফ্রন্টের প্রভাবশালী অন্যতম উদ্যোক্তা।

এই এতো পরিচয়ের মধ্যে যেটিকেই বিবেচনায় নেয়া যাক না কেন, তিনি কি এ ধরনের কথা বলতে পারেন? অথচ দুদিন আগে প্রকাশ্য সমাবেশে উনি বলেছেন, এই কথা। ঠিক কি প্রক্রিয়ায়, আইনগত কি কি পদক্ষেপের মাধ্যমে বেগম জিয়া ঠিক ওই দিনই মুক্তি পেতে পারেন, তা কিন্তু বলেননি ডা. জাফরুল্লাহ। তবে তিনি একটা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, বলেছেন ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে ঐক্যফ্রন্ট বিজয়ী হবে এবং তারপর আইনগত প্রক্রিয়ায় ২ জানুয়ারি মুক্তি পাবেন বেগম জিয়া।

আসলে এই দেশের যে রাজনৈতিক কালচার, তাতে ক্ষমতাসীনরা সাধারণত কারাগারে থাকেন না। সেই হিসেব করেই হয়তো বলেছেন ডা. জাফরুল্লাাহ। তারপরও কিন্তু হিসেবটা ঠিক মেলে না। ৩০ তারিখে বিজয় হলে ৩১ তারিখেই মুক্তি নয় কেন? বছরের শেষ দিন অশুভ হয় নাকি? আচ্ছা, তাই যদি হয়, তাহলে বছরের প্রথম দিন, ১ জানুয়ারিই বা নয় কেন? আমি আসলে লজিকগুলো ঠিক মেলাতে পারছি না। আচ্ছা, ডাক্তার সাহেব কি ইদানীং জ্যোতিষ বিদ্যার চর্চাও করছেন নাকি?

যদি জ্যোতিষী হিসেবে এমন ভবিষ্যৎবাণী করে থাকেন, তবুও আমি বলবো একটা বড় ঝুঁকি নিয়েছেন উনি। অন্যদের কথা না হয় বাদই দিলাম, খোদ বিএনপি সমর্থকরাও তো উনার এমন প্রেডিকশনে খুশি হবে না। বলবেন, নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কেন মুক্ত হবেন না তাদের নেত্রী? আইনগত বাধ্যবাধকতা? কেন, এই দেশে আইন কি ক্ষমতাকেই অনুসরণ করে না? দলীয় সমর্থকদের এমন সব প্রত্যাশা আর চিন্তার বিষয়ে ডা. জাফরুল্লাাহ একেবারেই ওয়াকিবহাল নন, সেটাই বা ভাবি কি করে!

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত