প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

চট্টগ্রামের চার আসনে দুই জোটে গৃহবিবাদ

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রামে চারটি আসনে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে দুই জোটে চলছে গৃহবিবাদ। এর মধ্যে চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে তরিকত ফেডারেশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব। আর চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ), চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে নানামুখী সমস্যায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের মূল শরিকদল বিএনপি।
ফটিকছড়ি আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের প্রার্থী দেওয়া হয়েছে তরিকত ফেডারেশনের সভাপতি সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভা-ারীকে। কিন্তু তার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। তিনি ২০০৮ সালে মহাজোট প্রার্থী হিসেবে বিএনপির সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর কাছে হেরেছিলেন। আর ২০১৪ সালে বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হন নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী।
তবে এবারও তাকে মনোনয়ন দেওয়ায় একযোগে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করেছে উপজেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ। এ প্রসঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী বলেন, ‘নজিবুল বশর মাইজভা-ারী আওয়ামী লীগের ক্ষতি করেছেন। এলাকায় গত পাঁচ বছর কোনো উন্নয়নই করেননি। তাই এ আসনে আমরা মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে এটিএম পেয়ারুল ইসলামকে দেখতে চাই।’
সন্দ্বীপ আসনে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য মোস্তফা কামাল পাশা। কিন্তু চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সেলিম উদ্দিন হায়দারকে, তিনি আবার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক। তাই এ ঘোষণার পর পরই সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মী পদত্যাগের হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
বিএনপি সবচেয়ে বেশি বিপদে রয়েছে চান্দগাঁও-বোয়ালখালী আসনে। এরই মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। তবে গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করতে পারেননি। একটি সূত্র জানায়, তিনি গতকাল বেলা সাড়ে ১১টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে অবস্থান করেও চূড়ান্ত মনোনয়নপত্র হাতে পাননি।
তবে এখানে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ক্রমশ নিজের অবস্থান সুসংহত করছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আবু সুফিয়ান। ২০০৮ সালের বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহও ফিরে পেয়েছেন নিজের প্রার্থিতা। অন্যদিকে জামায়াত নেতা হাসান মাহমুদও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বাতিল হওয়া মনোনয়নপত্রের বৈধতা পেয়েছেন। আসনটিতে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট প্রার্থী জাসদের (আম্বিয়া) মইন উদ্দিন খান বাদল।
চট্টগ্রাম-১৬ আসন অর্থাৎ বাঁশখালীতে ২০০৮ সালে বিএনপির প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী জয়ী হন। এবারও তিনি ঐক্যফ্রন্ট থেকে মনোনয়নপত্র পেয়েছেন। কিন্তু ওই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা জামায়াতের আমির ও বাঁশখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল ইসলাম। এ উপলক্ষে তিনি উপজেলা পরিষদ থেকে পদত্যাগও করেছেন।
জহিরুল ইসলাম আমাদের সময়কে বলেন, জামায়াতে ইসলাম শুরু থেকেই এ আসনটি দাবি করে এসেছিল। কিন্তু তারা শেষ পর্যন্ত আমাদের বঞ্চিত করেছে। তাই দলীয় নির্দেশে আমি সর্বদলীয় প্রার্থী হয়েছি। সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদও ছেড়েছি।’ এ ক্ষেত্রে ঐক্যফ্রন্টের ভূমিকা কী হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টে সারাদেশে চার-পাঁচটি আসন ফ্রি রাখা হয়েছে। বাঁশখালীও তার মধ্যে একটি।’
এ আসনটি নিয়ে আওয়ামী লীঘ ও জাতীয় পার্টির মধ্যেও রয়েছে টানাপড়েন। এখানে বর্তমান এমপি মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে ক্ষমতাসীনরা। কিন্তু জাতীয় পার্টিও শুরু থেকেই এখানে তাদের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা দিয়ে রেখেছে চট্টগ্রামের সাবেক মেয়র ও বাঁশখালী আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে।
সূত্র : আমাদের সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ