প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শরিকদের সঙ্গে বিএনপির সমঝোতা
ঐক্যফ্রন্ট ১৯ আসন, ২০ দল ৪১

সমকাল : শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত দরকষাকষির মাধ্যমে দুই জোটের শরিকদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে সমঝোতা করল বিএনপি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শনিবার দফায় দফায় বৈঠকের মাধ্যমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ৫৯টি আসন দিয়েছে দলটি। এর মধ্যে ঐক্যফ্রন্টকে ১৯টি ও ২০ দলীয় জোটকে ৪১টি আসন দেওয়া হয়েছে। জোটের এসব প্রার্থী সবাই ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন। তবে রংপুর-৫ আসন জামায়াত ও নাগরিক ঐক্যকে দেওয়া হয়েছে।

গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শনিবার দিনভর দুই জোটের শরিক নেতাদের সঙ্গে আসন ভাগাভাগি নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৫৯টি আসনে ছাড় দেওয়ার তথ্য জানা গেছে। তবে রোববার সকালে সর্বশেষ দরকষাকষির মাধ্যমে আরও কিছু আসন ছাড় দিতে পারে বিএনপি।

বিএনপির ছাড় দেওয়া আসনের মধ্যে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের গণফোরাম ৬, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ ৩, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ৫ ও নাগরিক ঐক্যকে পাঁচটি আসন দেওয়া হয়েছে। ২০ দলীয় জোটে জামায়াতে ইসলামী ২৫, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি ৫, বাংলাদেশে জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ২, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি ১, এনপিপি ১, পিপিবি ১, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) ২ ও খেলাফত মজলিসকে একটি আসন দেওয়া হয়েছে।

এসব আসনের মধ্যে রংপুর-৫ আসনটি শরিক জামায়াত ও নাগরিক ঐক্য দুটি দলকেই দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক দল-জাগপার প্রয়াত নেতা শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে পঞ্চগড়-২ আসনটি ছাড় দেওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম শরিক গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু রাতে গুলশানের কার্যালয় থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে সাংবাদিকদের বলেন, আসন বণ্টন নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই। যারা জনপ্রিয় ও যোগ্য, তাদেরই আসন দেওয়া হচ্ছে। গণফোরাম কয়টি আসন পেয়েছে- এমন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ১০-১২টা আসন চেয়েছি। এখন কতটা দেবে, সেটা বিএনপির ওপর ছেড়ে দিয়েছি। রোববার ভোরে এসে চিঠিগুলো নিয়ে যাবেন তারা।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট : সূত্র জানায়, শনিবার রাত পর্যন্ত যোগ্য ও শক্তিশালী প্রার্থী বিবেচনা করে গণফোরামকে সাতটি আসন দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু ঢাকা-৭, রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১, সাবেক প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সায়ীদ পাবনা-১, মৌলভীবাজার-২ আসনে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর, কুড়িগ্রাম-২ আসনে মেজর জেনারেল (অব.) আ ম সা আমিন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে অ্যাডভোকেট খালেকুজ্জামান মনোনয়ন পেয়েছেন।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডিকে পাঁচটি আসন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রব লক্ষ্মীপুর-৪, দলটির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন কুমিল্লা-৪, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শহিদউদ্দিন মাহমুদ স্বপন ঢাকা-১৮, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে ড. সাইফুল ইসলাম ও শরীয়তপুর-১ আসনে নুরুল ইসলামকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, নাগরিক ঐক্যকে পাঁচটি আসন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দলটির আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে এস এম আকরাম, বরিশাল-৪ আসনে জে এম নুরুর রহমান, রংপুর-১ আসনে শাহ মো. রহমতউল্লাহ ও রংপুর-৫ আসনে মোফাখখারুল ইসলাম নবাব চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েছেন।

কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে তিনটি আসন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে টাঙ্গাইল-৪ আসনে অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, টাঙ্গাইল-৮ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে ব্যারিস্টার কুড়ি সিদ্দিকী ও গাজীপুর-৩ আসনে দলটির যুগ্ম সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

২০ দলীয় জোট : অনেক দরকষাকষি করে বিশ দলীয় জোটকে ৩৯টি আসন দিয়েছে বিএনপি। নিবন্ধন হারানো জামায়াতে ইসলামী ২৫টি আসনে বিএনপির ধানের শীষে নির্বাচন করবে। এসব আসনে জামায়াত নেতারা বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের মনোনয়ন পেয়েছেন। আসনগুলো হলো- ঠাকুরগাঁও-২ আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ মোহাম্মদ হানিফ, দিনাজপুর-৬ আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-২ আসনে মনিরুজ্জামান মন্টু, নীলফামারী-৩ আজিজুল ইসলাম, রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান সরকার, সিরাজগঞ্জ-৪ রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-৫ ইকবাল হুসেইন, ঝিনাইদহ-৩ মতিউর রহমান, যশোর-২ আবু সাঈদ মুহাম্মদ শাহাদত হোসাইন, বাগেরহাট-৩ আবদুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-৪ আসনে আবদুল আলিম, খুলনা-৫ মিয়া গোলাম পরওয়ার, খুলনা-৬ আবুল কালাম আযাদ, সাতক্ষীরা-২ মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-৪ গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ শামীম বিন সাঈদী, ঢাকা-১৫ জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল শফিকুর রহমান, সিলেট-৫ ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ হাবিবুর রহমান, কুমিল্লা-১১ সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, চট্টগ্রাম-১৫ শামসুল ইসলাম ও কক্সবাজার-২ হামিদুর রহমান আজাদ।

এই ২৫টি আসনের মধ্যে দিনাজপুর-১ আসনে মোহাম্মদ হানিফ এবং রংপুর-৫ আসনে গোলাম রব্বানীর প্রার্থিতা বাছাইয়ে বাতিল হয়েছে। তাদের আপিল শুনানি শনিবার রাত ১০টায় এ রিপোর্ট লেখার সময়ও শেষ হয়নি। শনিবার রাত পর্যন্ত সিদ্ধান্ত ছিল, গোলাম রব্বানী প্রার্থিতা ফিরে না পেলে রংপুর-৫ আসনে ঐক্যফ্রন্টের শরিক নাগরিক ঐক্যের মোফাখখারুল ইসলাম নবাবকে জোটের মনোনয়ন দেওয়া হবে।

১৫টি আসনে জামায়াত নেতারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। দলের সূত্র জানিয়েছে, এর মধ্যে অন্তত তিনটি আসনে তারা নির্বাচন করবেন। বাকিগুলোতে বিএনপির সমর্থনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করবেন জামায়াত নেতারা। তারা জানিয়েছেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে নুরুল ইসলাম বুলবুল, পাবনা-১ আসনে নাজিবুর রহমান মোমেন ও চট্টগ্রাম-১৬ আসনে জহিরুল ইসলাম স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ভোটে থাকবেন।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপিকে পাঁচটি আসন দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ চট্টগ্রাম-১৪, মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ কুমিল্লা-৭, নুরুল আলম চট্টগ্রাম-৭, শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ এবং মাহবুব মোর্শেদকে ময়মনসিংহ-১০ আসনে মনোনয়ন দেওয়া হয়।

জাতীয় পার্টিকে (কাজী জাফর) দুটি আসন ছাড় দিয়েছে বিএনপি। এর মধ্যে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. টি আই ফজলে রাব্বী গাইবান্ধা-৩ এবং আহসান হাবীব লিঙ্কন কুষ্টিয়া-২ আসনটির জন্য ধানের শীষ প্রতীক দেওয়া হয়েছে।

কল্যাণ পার্টির মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম চট্টগ্রাম-৫, বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-১, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম যশোর-৫ আসনে মুফতি ওয়াক্কাস, হবিগঞ্জ-২ আবদুল বাসিত আজাদ এবং সুনামগঞ্জ-৩ আসনটিতে শাহীনুর পাশা চৌধুরী রয়েছেন। খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদের হবিগঞ্জ-৪ আসন ও মুফতি মনির হোসেন নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং মশিউর রহমান যাদু মিয়ার মেয়ে পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশের রিটা রহমানকে রংপুর-৩ আসন ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির আরও যারা মনোনয়ন পেলেন : শুক্রবার ২০৬ আসনে দলীয় চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করে বিএনপি। শনিবার জোটের সঙ্গে সমঝোতার পর বাকি ৩৪টি আসনেও দলীয় নেতাদের মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। তবে প্রথম দিনের মতো আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। শুধু চূড়ান্ত মনোনয়নপ্রাপ্তদের ডেকে মনোনয়নের চিঠি দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন- গাইবান্ধা-২ আবদুর রশীদ সরকার, পটুয়াখালী-২ শহীদুল আলম তালুকদার, নারায়ণগঞ্জ-১ কাজী মুনীর, ময়মনসিংহ-১ আলী আজগর, কুমিল্লা-৬ হাজী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, জামালপুর-১, রশীদুজ্জামান মিল্লাত, সিলেট-১ খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, নেত্রকোনা-৫ আবু তাহের তালুকদার, চাঁদপুর-৩ শেখ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও বরগুনা-২ খন্দকার মাহবুব হোসেন।