Skip to main content

যে ৫৮ আসন দিলো বিএনপি

ভোরের কাগজ : আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট শরিকদের ১৯টি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে এখনো গণফোরামের সাথে কয়েকটি আসন নিয়ে দরকাষাকষি চলছে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ছাড়া ২০ দলীয় জোটের শরিকদের ১৫টি আসন ছেড়েছে বিএনপি। মনোনয়নের পূর্ণাঙ্গ তালিকা রোববার নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সর্বশেষ হিসেবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডিকে ৫টি, গণফোরামকে ৫টি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগকে ৩ টি, নাগরিক ঐক্যকে ৫ টি এবং জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে একটি আসন ছেড়েছে। বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা ‘ধানের শীষ’ প্রতীক নিয়ে এবারের নির্বাচনে লড়বেন। ২০ দলীয় জোটের প্রার্থীরাও ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। শুধুমাত্র এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ নিজ দলের ‘ছাতা’ প্রতীকে ভোট করবেন। ঐক্যফ্রন্টের যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন জেএসডি: জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক জেএসডিকে পাঁচটি আসন দিয়েছে বিএনপি। দলটির সভাপতি আ স ম আবদুর রবকে লক্ষ্মীপুর-৪, সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতনকে কুমিল্লা-৪, শহীদউদ্দিন মাহমুদ স্বপনকে ঢাকা-১৮, সাইফুল ইসলামকে কিশোরগঞ্জ-৩ ও নুরুল ইসলামকে শরীয়তপুর-১ আসন দেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার সন্ধ্যায় এই মনোনয়ন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন জেএসডির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মালেক রতন। তিনি বলেন, আমাদের আরো প্রার্থী আছেন। বাকি কারা পেলেন, রোববার সকালে বলা সম্ভব হবে। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ- টাঙ্গাইল-৮ আসনে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর মেয়ে কুঁড়ি সিদ্দিকী, টাঙ্গাইল-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম ও গাজীপুর-৩ আসনে ইকবাল সিদ্দিকী। গণফোরাম- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামকে পাঁচটি আসন দিয়েছে বিএনপি। দলটির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফা মোহসীন মন্টুর জন্য ঢাকা-৭ আসন ছেড়ে দিয়েছে তারা। ময়মনসিংহ-৮ আসনে এএইচ এম খালেকুজ্জামান, হবিগঞ্জ-২ আসনে ড. রেজা কিবরিয়া, আওয়ামী লীগ থেকে গণফোরামে যোগ দেওয়া অধ্যাপক আবু সাইয়িদকে পাবনা-১ ও আমসা-আ আমিনকে কুড়িগ্রাম-২ আসন দিয়েছে বিএনপি। এদিকে ঢাকা-৬ আসনের জন্য বিএনপির সঙ্গে এখনো দেন-দরবার করছেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী। ওই আসনে বিএনপির প্রার্থী হলেন দলটির সাবেক নেতা সাদেক হোসেন খোকার ছেলে ইশরাক হোসেন। জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া- জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের জন্য মৌলভীবাজার-২ আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। নাগরিক ঐক্য- জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যকে পাঁচটি আসন দেওয়া হয়েছে। নাগরিক ঐক্যের কেন্দ্রীয় নেতা শহিদুল্লাহ কায়সার এ তথ্য জানিয়ে বলেন, শনিবার নাগরিক ঐক্যের প্রার্থীদের ধানের শীষ প্রতীকের চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বগুড়া-২, এস এম আকরাম নারায়ণগঞ্জ-৫, মোফাক্কারুল ইসলাম রংপুর-৫, শাহ রহমত উল্লাহ রংপুর-১ ও নুরুর রহমান জাহাঙ্গীর বরিশাল-৪ আসনে নির্বাচনে অংশ নেবেন। ২০ দলীয় জোটের যারা চূড়ান্ত মনোনয়ন পেলেন ২০ দলীয় জোটের মধ্যে বিজেপি একটি, খেলাফত মজলিশ দুইটি, এলডিপি পাঁচটি, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) দুইটি, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম তিনটি, এনপিপি একটি ও পিপিবিকে একটি আসন ছেড়ে দিয়েছে বিএনপি। তবে জামায়াতসহ ২০ দলকে কতটি আসন ছাড়ছে এ বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম খানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এই বিষয়ে এখন কথা বলবেন না। তিনি বলেন, আসন ভাগাভাগির আলোচনা চললে, শেষ না হলে বলাটা ঠিক হবে না। বিজেপি- ঢাকা-১৭ আসনে বিজেপির আন্দালিব রহমান পার্থ। খেলাফত মজলিশ- হবিগঞ্জ-৪ আসনে আহমেদ আবদুল কাদের ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে মুফতি মুনির হোসেন। এনপিপি- নড়াইল-২ আসনে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ। এলডিপি- বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এলডিপিকে পাঁচটি আসন দিয়েছে দলটি। শনিবার সন্ধ্যার পর রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ের মাইকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। আসনগুলো হলো- চট্টগ্রাম-১৪ আসনে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, কুমিল্লা-৭ আসনে দলটির মহাসচিব রেদোয়ান আহমেদ, লক্ষ্মীপুর-১ আসনে শাহাদত হোসেন সেলিম, চট্টগ্রাম-৭ আসনে নুরুল আলম ও ময়মনসিংহ-১০ আসনে সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ। এলডিপির নেতা শাহাদত হোসেন সেলিম বলেন, ‘বিএনপি পাঁচটি আসন দিলেও আমরা আরো দুটি আসনের জন্য দেন-দরবার করছি।’ জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর)- গাইবান্ধা-৩ আসনে টিআই ফজলে রাব্বী ও কুষ্টিয়া-২ আসনে আহসান হাবিব লিংকন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম- সুনামগঞ্জ-৩ আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামীর শাহিনুর পাশা, হবিগঞ্জ-২ আসনে আবদুল বাসিদ আজাদ, যশোর-৫ আসনে মুফতি মোহাম্মদ ওয়াক্কাস। পিপিবি- রংপুর-৩ আসনে রিটা রহমান। কল্যাণ পার্টি- চট্টগ্রাম-৫ আসনে কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। এছাড়া জামায়াত ইসলামীর আসনের বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে কোনো কিছুই বলা হচ্ছে না। তবে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতার সাথে আলাপ করে জানা গেছে তারা ২৪টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। জামায়াত ইসলামী- ঢাকা-১৫ আসনের ডা. শফিকুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে রফিকুল ইসলাম খান, খুলনা-৬ আসনে আবুল কালাম আজাদ, কুমিল্লা-১১ আসনে সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, খুলনা-৫ আসনে মিয়া গোলাম পারোয়ার, চট্টগ্রাম- আসনে শামসুল ইসলাম, কক্সাবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, সিলেট-৫ আসনে ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী, সিলেট-৬ আসনে হাবিবুর রহমান, ঠাকুরগাঁও -২ আসনে আবদুল হাকিম, দিনাজপুর-১ আসনে আবু হানিফ, দিনাজপুর-৬ আসনে আনোয়ারুল ইসলাম, নীলফামারী-৩ আসনে আজিজুল ইসলাম, গাইবান্ধা- ১ আসনে মাজেদুর রহমান, সাতক্ষীরা-২ আসনে মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ আসনে গাজী নজরুল ইসলাম, পিরোজপুর-১ আসনে শামীম সাঈদী। এছাড়া বাগেরহাট, পাবনা ও যশোরের আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে দলটি। উল্লেখ্য, গত ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ২৫৯টি আসনে এককভাবে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। ওই নির্বাচনে জোটের শরিক জামায়াতে ইসলামীসহ শরিকদের ৪১টি আসন ছেড়ে দিয়েছিলো।