প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আজ ৯ ডিসেম্বর গফরগাঁও মুক্ত দিবস

আজহারুল হক, ময়মনসিংহ: আজ ৯ ডিসেম্বর গফরগাঁও মুক্ত দিবস। ৯ডিসেম্বর মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্থানী হানাদার বাহিনীকে বিতাড়িত করে ভোরের সোনালী সূর্য উদয়ের সাথে সাথে মুক্তির উল্লাসে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উড়ানো হয় এবং হানাদার মুক্ত হয় গফরগাঁও। ১৯৭১সালে ২৩মার্চ গফরগাঁও রেলওয়ে ষ্টেশন চত্বরে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বেলাল আহম্মেদ স্বাধীন বাংলার পতাকা আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তোলন করেন।
১৯৭১ এ পাকিস্থানী বাহিনী উপজেলার সর্বত্র তাদের এদেশীয় সহযোগী রাজাকার, আলবদর ও আলশামসদের সহযোগিতায় হাজার হাজার নিরপরাধ নারী-পুরুষ ও শিশুকে র্নিবিচারে হত্যা করে। ধর্ষন, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগ করে বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃর্ষ্টি করে। শুধু মাত্র ১৫নভেম্বরই পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী চরআলগী ইউনিয়নের ৬১৪টি বাড়ি পুড়িয়ে দেয়।

গফরগাঁও হানাদার মুক্ত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত গফরগাঁও সদরের নীলকরদের ঘাটলায় যা পরবর্তীকালে লঞ্চঘাটা বধ্যভূমি হিসেবে পরিচিত সেখানে প্রতিদিন সন্ধায় হানাদার বাহিনী নিরপরাধ মুক্তিকামী অসংখ্য মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে বেয়নেট চার্জ করে/গুলি করে হত্যার পর খরস্রোতা ব্রহ্মপুত্র নদে ভাসিয়ে দিত। এছাড়া গফরগাঁও সদরের ইমাম বাড়ার নিকট ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে, মশাখালী রেলষ্টেশনের দক্ষিনে শীলা নদীর উপর রেলওয়ে সেতুর উপর, গয়েশপুর বাজারের নিকট, নিগুয়ারী মুক্তিযোদ্ধা বাজারের নিকট শত শত মুক্তিকামী মানুষকে বেয়নেট চার্জ করে খুটিয়ে খুটিয়ে অবশেষে গুলি করে হত্যা করে।

১৭এপ্রিল পর্যন্ত গফরগাঁও হানাদার মুক্ত ছিল। ১৭এপ্রিল থেকে হানাদার বাহিনী স্থল ও আকাশ পথে আক্রমন করে ১৯এপ্রিল গফরগাঁও দখল করে নেয়। এরপর অসংখ্যবার গফরগাঁওয়ের মুক্তিযোদ্ধারা হানাদার বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে অবতীর্ন হয় এবং অধিকাংশ যুদ্ধে বিজয় অর্জন করে। উপজেলার ভয়াবহ সম্মুখ যুদ্ধটি সংঘটিত হয় অক্টোবর মাসের প্রথম সপ্তাহে ইকবাল-ই-কামাল এর নেতৃত্বে। কামাল কোম্পানী বাশিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাকবাহিনীর ক্যাম্প আক্রমন করে তিনদিন তিনরাত যুদ্ধকরার পর বিজয়ী হয়। মুক্তিযোদ্ধা ফয়েজ উদ্দিন সে যুদ্ধে শহীদ হন। সর্বশেষ যুদ্ধ হয় ৫ডিসেম্বর। মশাখালী ষ্টেশনের দক্ষিনে শীলা নদের নিয়ন্ত্রন নিয়ে। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা বিজয়ী হলে পাকহানাদার বাহিনী পিছনে হটে গফরগাঁও সদরে আশ্রয় নিলে ইকবাল-ই-কামালের নেতৃত্বে কামাল কোম্পানী এবং আফসার বাহিনীর বোম সিরাজের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা পাকহানাদার বাহিনীর পিছু ধাওয়া করে গফরগাঁও সদরসহ উপজেলার সমস্ত এলাকা হানাদার মুক্ত করেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ