Skip to main content

যুবক বয়সে নবীজির কর্মতৎপরতা

আহসান জামিল : প্রিয় প্রাণের রাসুল আমার মুহাম্মদ (সা.)। মুহাম্মদ একটি নাম, একটি চেতনা, একটি আলোর প্রদীপ, মুমিন মাত্রই এই নামটির মাধ্যমে দুনিয়ার সমস্ত শান্তি উপভোগ করে থাকেন। ৫৭০ খ্রিষ্টাব্দে যখন এই পৃথিবী অন্ধকারের আধারে ঢাকা ছিল। এই ধরায় তার সুভাগমনের মাধ্যমে তাদের অন্ধকারের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেয়েছিল। নারীরা তাদের বেচেঁ থাকার অধিকার পেয়েছিল। তখনি পৃথিবীর মানুষ অনুধাবন করতে পেরেছিল যে এই পৃথিবীতে নব সূর্যউদিত হয়েছে, যে সূর্য শুধু আরবকেই আলোকিত করবেনা বরং গোঠা পৃতিবীকেই তার নব উদীপ্ত আলোতে উদ্ভাসিত করবে। আর তিনি তাই করেছিলেন, এই পৃথিবীতে যত মনষী এসেছেন, পৃথিবীকে তাদের জ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন বা করবেন মুহাম্মাদ (সা.) এর মতন বিরল। তিনি শুধু সেই যুগেরই নয় বরং তার আগমেরন আগ থেকে এবং পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত যত মহা-মানবের পদচারনা পড়বে এই পৃথিবীতে তাদের সকলের উস্তাদ সকল বিজ্ঞানীদের মহাবিজ্ঞানী সকল মনষীদের মহা-মনীষী, বিশ^ মানবতার কান্ডারী নবী মুহাম্মদ (সা.) তাই এক খ্রিষ্টান লেখক বিশ্ব নবীর জীবনী লিখতে গিয়ে বলেছেন- “He was the mater mind not only of his own age but of all age” অর্থ্যাৎ মুহাম্মদ (সা.) যে যুগে পৃথিবীতে আবির্ভূত হয়েছিলেন তাকে শুধু সেই যুগেরই একজন মনষী বলা হবেনা বরং তিনি ছিলেন সর্বকালের , সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট মহামনষী। তিনি ছোটকাল থেকেই ইনসাফ শিখেছিলেন,তার মধ্যে মানবাধিকারের এমন কতিপয় গুণ স্রষ্টা প্রদত্তই তার চরিত্রের সঙ্গে মিশ্রিত ছিল যে বিশ্বের কোন মনষীদের বা বিশ্ব মোড়লদের ক্ষেত্রে তা একেবারেই বিরল ও অসম্ভব। বিশ্ব নবীর মা বলেন-শিশু মুহাম্মদ (সা.) যখন দুধ পান করতেন, শুধু ডান স্তনের দুধ পান করতেন, বাম স্তন তার দুধ ভাইযের জন্য রেখে দিতেন। কখনও তিনি বাম স্তনের দুধ পান করেননি। মানবাধিকারের এমন অসাধ্য গুণ কোন বিশ্ব মোড়ল নবী মুহাম্মদ ব্যতিত দিতে পেরেছে? এমন কোন যুবক আছে যে ছোটকালে কাপড় খুলে খেলা করেনি? কিন্তু নবী মুহাম্মদ (সা.) জন্মের পর থেকে কখনও উলঙ্গ হয়নি। তার মা বলেন-শিশু মুহাম্মদ কখনও কান্না করতেন না, একটি সময় ব্যতিত যখন তার লজ্জাস্তানের কাপড় সড়ে যাওয়ার উপক্রম হতো তা ব্যতিত। একবার পাথর টানার সময় সবছেলেরা কাপড় খুলে মাথায় দিয়ে একটি করে পাথর আনছে আর তিনি আনছেন দুটি করে। চাচা বললেন-তুমি তো ছোট কাপড় খুলে নাও। এই বলে কেবল লুঙ্গির ঘুটে হাত দিয়েছেনে আর তখনই শিশু মুহাম্মদ বেহুশ হয়ে জমিনে পড়ে যায়। এমন অসংখ্য লজ্জাশালীতা যুবকদেরকে কে,উপহার দিয়েছেন। একটু বড় হওয়ার পর তার মধ্যে আমানতদারীতার এমন কতিপয় গুণ প্রকাশ পায় যে, তৎখালীন সময়ে পৃথিবীর বড় আমানতদারী হিসেবে তিনি খ্যাতি পান। যে যুগে আপন ভাই তার ভাইকে, পিতা তার সন্তানকে বিশ্বাস করতো না ঠিক সেই যুগে তিনি পৃথিবীবাসীর কাছে আলামিন বা চির বিশ্বাসী নামে পরিচিত ছিলেন। মানুষ স্বর্ণ হিরা, মনি, মুক্তা,অনায়াসে তার কাছে জমা রাখতেন, যখন খুশি ফিরে পেতেন। যুব সমাজকে, কে আমানতদারীতার এমন শিক্ষা উপহার দিতে পেরেছে? সবারই মনে আছে হাজারে আসওয়াদ কালো পাথর স্থাপনের কথা। এই পাথর কে স্থাপন করবে তা নিয়ে কতিপয় গোত্র যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে উপনীত এমন সময় বিশ্বস্ত মুহাম্মদের আগমন দেখে সকলে উৎফুল্ল। মুহাম্মদ যা সিদ্ধান্ত দিবে তা মেনে নিবো। নবীজি (সা.) নিজের শরীর থেকে চাদর মাটিতে বিচিয়ে হাজরে আসওয়াদকে চাদরের মাঝকানে রেখে সকলকে বলেন-চাদরের চারিপাশ ধরে নিয়ে তা স্থাপন করবার জন্য । বিশাল রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ মুহুর্তে মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ ও পরস্পরের মাঝে শান্তি স্থাপন করলেন। এমন আদর্শ পৃথিবীর যুবকদের জন্য কোন বিশ্বমোড়ল স্থাপন করতে পেরেছেন এত গুণে যিনি গুনান্বিত আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করতে হলে তাকেই গ্রহণ করতে হবে। কিন্তু সেই আদর্শবাদী মানুষের মহান জীবনীকে পিছনে রেখে আজকের পৃথিবীর সুশীল সমাজ বা আধুনিক যুব সমাজ যতই সামনে এগুতে চাইবে এতে তাড়া শুধু অন্ধকারেই নিমজ্জিত হবে। বিশ্ব মুসলিম যুবকদের সময় এসেছে নবী মুহাম্মদ (সা.) এর আদর্শে উজ্জিবিত হওয়ার। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই মহিমান্নিত জগৎবিখ্যাত ব্যক্তি Last messenger the prophet (s.m) এর মহান জীবনি অধ্যায়ন করে, আমাদের সামাজিক জীবন, পারিবারিক জীবন,পরনীতি, শ্রমনীতি, রাষ্ট্রনীতি অর্থনীতি, আর্ন্তজাতিকনীতি সব সেই প্রিয় মানুষটির মত করেই প্রতিটি যুবক বৃদ্ধ সর্বোপরি সকল মুমিনদেরকে সাজাবার তাওফিক দান করুন।