Skip to main content

একাকিত্বের এই জীবনে স্ত্রীর কথা খুব মনে পড়ে : প্রবীর মিত্র (ভিডিও)

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলা সিনেমার শক্তিমান অভিনেতা প্রবীর মিত্র। ৫০ বছরের বেশি সময় ধরে অভিনয় করছেন। সেই ছোট্ট বেলায় রবীন্দ্রনাথের ডাকঘরে প্রহরীর চরিত্রে অভিনয় শুরু। পরবর্তীতে ১৯৬৮ সাল থেকে নিয়মিত চলচ্চিত্রে অভিনয়। গত বছর দুই যাবৎ প্রবীর মিত্র অসুস্থ। এখন আর অভিনয় করতে পারেন না। সেগুনবাগিচার ছোট ফ্ল্যাটেই কাটে তার দিন। বাইরে যেতে পারেন না। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার চিকিৎসার জন্য ২৫ লাখ টাকা অনুদান দেন। প্রবীর মিত্র জানালেন এই টাকা দিয়ে তার চিকিৎসা ভালোভাবেই চলছে। তিনি মনে করেন এই টাকা দিয়েই তার চিকিৎসা হয়ে যাবে আর টাকার প্রয়োজন পড়বে না। প্রবীর মিত্র বলেন, তার শরীরে প্রতিটি জয়েন্টে ব্যাথা। এছাড়া অন্য কোনো রোগ নেই। ডাক্তার জানিয়েছে ওষুধ খেয়েই বাকি জীবন কাটাতে হবে। এই রোগ ভালো হবে না। তিনি জানান, আজ আমি বড় একা। কাজ করতে শরীর সায় দেয় না বলে মানুষ খোঁজও নেয় না । মাঝেমধ্যে ভাবি, কাদের জন্য এত কাজ করেছি! শারীরিক সুস্থতার জন্য সবার কাছে আশির্বাদ চাওয়া ছাড়া আমার কিছু বলার নেই। তবে কারো উপর রাগ নেই। দুঃখ একটাই, যে অভিনয়ের জন্য সব ছাড়তে পেরেছি আজ সেই অভিনয় করতে পারি না। এফডিসিতে এক সময় যারা সবসময় আমার সাথে ছিল আজ তারাও কোনো খোঁজ খবর নেয় না। সবাই ব্যস্ত, তাদের উপর আমার কোনো অভিমান নেই। তিনি বলেন, ২০০০ সালে স্ত্রী মারা যাবার পর থেকে একাকিত্বের জীবন শুরু। তবে এতোদিন যেহেতু অভিনয়ে ব্যস্ত ছিলাম তাই মোটামুটি কেটে গেছে সময়। কিন্তু এখন তার কথা খুব মনে পড়ে। তবে ছেলে ছেলের বউ আমার দেখাশোনা করছে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না। প্রবীর মিত্রের বাসার প্রধান ফটকে আল্লাহু ও কালিমা তাইয়্যিরা লেখা কেন জানাতে চাইলে তিনি বলেন, ভালোবেসে অজন্তা মিত্রকে বিয়ে করেন। তিনি মুসলিম ছিলেন। আর সে তার ছেলে মেয়েদের মুসলিম ধর্মের রীতিতেই মানুষ করেছেন। যেহেতু কোনো ধর্মের প্রতি আমার অশ্রদ্ধা নেই। তাই আমিও নিষেধ করিনি।সেই হিসেবে বাসায় আমিই একমাত্র হিন্দু বাকিরা মুসলিম। প্রবীর মিত্র বলেন, জীবনের এই শেষ সময়ে বুঝতে পারছি আরও টাকার প্রয়োজন। কিন্তু অনেক প্রযোজকের কাছে পাওনা বাকি থাকলেও তারা দিচ্ছে না। তারা না দিতে পারলেই মনে হয় বেঁচে যায় এমন। নতুন যারা আসছে তাদের সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুনদের মাঝে অভিনয়ের প্রতি দরদ কম। তারা আসছে অভিনয় করছে আবার চলেও যাচ্ছে। অভিনয়ে যদি টাকাটাই প্রধান হয়ে যায় তাহলে আর সেটা অভিনয় থাকে না। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কার প্রাপ্ত এই অভিনেতা চারশর বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সিনেমাগেুলো হচ্ছে- তিতাস একটি নদীর নাম, তীর ভাঙা ঢেউ, অভাগী বড় ভালো লোক ছিল, জন্ম থেকে জ্বলছি, নবাব সিরাজউদ্দৌলা থেকে শুরু করে আজকের আকাশ ছোঁয়া ভালবাসা, ভালোবাসলেই ঘর বাঁধা যায়না, দেবদাস, বলো না তুমি আমার, দেহরক্ষী, সুইটহার্ট, বেদের মেয়ে জোসনা, সর্বশেষ প্রেমী ও প্রেমী। https://youtu.be/rsPPXp7ASms