প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

জোট-মহাজোটের লড়াই
লক্ষ্মীপুরে ৪টি আসনে ভোটের লড়াইয়ে বাদ পড়বেন একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী

জহিরুল ইসলাম শিবলু, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুর জাতীয় রাজনীতিতে রয়েছে এই জেলার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তি। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কেন্দ্রীয় পদে রয়েছেন অনেকে, আবার জোটগত রাজনীতির হিসেবেও এই জেলায় রয়েছেন একাধিক জাতীয় নেতা। এখানেই জন্ম নিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক ও স্বাধীনতার প্রথম পতাকা উত্তোলক জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি সাবেক বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব ও বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ঠ সহচর যিনি বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে হয়েছিলেন সংসদ সদস্য বর্তমান বে-সামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এ কে এম শাহাজাহান কামাল এমপি। রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, বিএনপি চেয়ারপাসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, বর্তমান এমপি মোহাম্মদ নোমান, এলডিপির সিনিয়ার যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। আগামী নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরে ৪টি আসনে নির্বাচন করবেন এই সব জাতীয় নেতারা।

আসছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে লড়াই হবে আওয়ামীলীগের মহাজোটের সাথে বিএনপি জোটের (ঐক্যফ্রন্ট)। জোট মহাজোটের হিসেবে লক্ষ্মীপুরে বাদ পড়েছেন বর্তমান ২জন সংসদ সদস্য ছাড়াও হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ তাদের শরিকদের লক্ষ্মীপুরে ৪টি আসনের মধ্যে ৩টিই ছেড়ে দিয়েছে। আর ১টিতে তাদের দলীয় প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি-জামায়াত অধ্যুষিত এই জেলায় বিএনপি জোট জামায়াতকে কোন আসন ছাড়া না দিলেও তাদের অন্য জোটকে ২টি আসন ছেড়ে দিয়েছে। এদিকে বড় দু’দল তাদের শরিকদের একাধিক আসন ছেড়ে দেওয়ায় স্থানীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রায়পুরে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী না দিয়ে জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়ায় আওয়ামী লীগের এক নেতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদেরকে ‘রহিঙ্গা’ বলে উল্লেখ করেছেন। আর জামায়াতকে এখানে কোনে আসন ছাড় না দেওয়ায় বিএনপির সাথে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের দূরত্ব চলছে।

আওয়ামী লীগ মহাজোটকে ছেড়ে দিয়েছে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-সদর আংশিক ও লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসন। আর নিজেদের প্রার্থী দিয়েছে লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনে।
লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে আওয়ামী জোটে চূড়ান্ত চিঠি পেলেন যারা, লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ থেকে আওয়ামী লীগ নেতা তরিকত ফেডারেশন থেকে আনোয়ার হোসেন খান। লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-সদর আংশিক থেকে এরশাদের উপদেষ্টা ও জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি, বর্তমান এমপি জাতীয় পার্টি থেকে মোহাম্মদ নোমান। লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসন আওয়ামীলীগ থেকে বে-সরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম কে এম শাহাজাহান কামাল এমপি। লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসন থেকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান।

অপরদিকে বিএনপি তাদের জোটকে ছেড়ে দিয়েছে লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসন। আর নিজের প্রার্থী দিয়েছে লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-সদর আংশিক ও লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনে।
লক্ষ্মীপুরের ৪টি আসনে বিএনপি জোটের (ঐক্যফ্রন্ট) চূড়ান্ত চিঠি পেলেন যারা, লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ থেকে এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-সদর আংশিক থেকে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া। লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসন থেকে কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসন থেকে জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা আ স ম আবদুর রব।

হিসেব মিলালে দেখা য়ায়, লক্ষ্মীপুর-৪ রামগতি-কমলনগর আসনে বিএনপি জোট (ঐক্যফ্রন্ট) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সভাপতি, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আ স ম আবদুর রব আর আওয়ামী জোট থেকে নৌকা প্রতীকে লড়বেন বিকল্পধারা বাংলাদেশের মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মেজর (অবঃ) আবদুল মান্নান। সাবেক দুই মন্ত্রীর ভোটের লড়াই হবে এই আসনে। এতে আসছে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ভোটে জিনিই নির্বাচিত হন না কেন বাদ পড়বেন একজন সাবেক মন্ত্রী।

লক্ষ্মীপুর-৩ সদর আসনে আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে লড়বেন বর্তমান বে-সরকারি বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম কে এম শাহাজাহান কামাল এমপি আর বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। শাহজাহান কামাল আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আর এ্যানী চৌধুরী বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক। এই দুই নবিন-প্রবীণ নেতার ভোটের লড়ায়ে জিনিই নির্বাচিত হবেন, তাতে বাদ পড়বেন একজন হেভীওয়েট প্রার্থী।

লক্ষ্মীপুর-২ রায়পুর-সদর আংশিক আসনে বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও জেলা পিএনপির সভাপতি আবুল খায়ের ভূঁইয়া আর মহাজোট থেকে জাতীয় পার্টির হয়ে লাঙ্গল প্রতীকে লড়বেন এরশাদের উপদেষ্টা, জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও বর্তমান এমপি মোহাম্মদ নোমান। এই আসনটিকে বলা হয় বিএনপির ঘর, কারন এই আসন থেকে দু’বার নির্বাচন করে নির্বাচিত হয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির আবুল খায়ের ভূঁইয়াও এখান থেকে দু’বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আর মোহাম্মদ নোমান ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারী নির্বাচনে এমপি হন। তাই আগামী নির্বাচনে দুই নেতার দুই উপদেষ্টার ভোটের লড়াইয়ে জিনিই নির্বাচিত হন না কেন বাদ পড়বেন একজন উপদেষ্টা।

লক্ষ্মীপুর-১ রামগঞ্জ আসনে আওয়ামী জোট থেকে নৌকা প্রতীকে লড়বেন রামগঞ্জ আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি তরিকত ফেডারেশনের হয়ে ঢাকার আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন খান আর বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন এলডিপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহাদাত হোসেন সেলিম। বলা চলে স্থানীয় আর জাতীয় দুই নেতার লড়াই হতে চলেছে এখানে। তবে দু’জনেই এখানে হেভিওয়েট প্রার্থী, তাই ভোটের মাঠে লড়াইয়ে যিনিই জয় লাভ করেন না কেন বাদ পড়বেন একজন হেভিওয়েট প্রার্থী।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত