প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডিম আগে না মুরগি?ডিম আগে না মুরগি?

মাহমুদুর রহমান : প্রতি বছর চাকরির বাজারে নতুন যোগ হওয়া শিক্ষিত কর্মক্ষমদের সুযোগ তৈরি করে দিতে না পারার জন্য প্রায়ই সরকারের সমালোচনা শোনা যায়। সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও এটা নিঃসন্দেহে বলা যায়, দেশে বেকারত্ব এখন এমন পর্যায়ে আছে যে, তা সমাজবিজ্ঞানীদের উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। কারণ তো জানাই। অলস মস্তিষ্ক শয়তানের কারখানা। কিন্তু এ নিয়ে হওয়া সব আলোচনায় আসল বিষয়টাই থেকে যায় অনুচ্চারিত।

সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান হলো, অর্থনৈতিক কর্মকা-র মূল উদ্যোক্তা না হয়ে ব্যক্তিখাতকে কার্যকর উদ্যোক্তা হতে সহায়তা করে যাওয়া। বহুদিন ধরেই সরকারি উদ্যোগে নতুন কোন শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়নি। বেসরকারি বিনিয়োগকারিদের বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগেই সরকার তৎপর। তাতে কিছু কর্মসংস্থান তৈরি হলেও প্রয়োজনের তুলনায় তা নগণ্য।

একই সময়ে উচ্চ ও মধ্যম পর্যায়ে পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল দেশে না থাকায় তৈরি পোষাক খাত ও অন্য অনেক বেসরকারি অফিসে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ বেড়েছে মারাত্মকভাবে। ভারত সব থেকে বেশি রেমিটেন্স পায় বাংলাদেশ থেকে – এই তথ্যে আমাদের জন্য গর্ব করার মত কিছু নেই।

আদমজী জুট মিলের উল্লেখ এখানে প্রাসঙ্গিক হবে। বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় তৎকালীন বিএনপি সরকার বড় এই পাটকলটি বন্ধ করার সময় যুক্তি দেয়া হয়েছিলো, তা খোলা রাখার চাইতে বন্ধ রাখাই সরকারের জন্য লাভজনক। গোল্ডেন হ্যান্ডশেকের নামে শ্রমিকদের দেয়া হয়েছিলো বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ। নিশ্চয়ই তখন এ বাবদ সাহায্য দেবার আগে বিশ্বব্যংক অনেক গবেষণাও করেছিলো। কিন্তু পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকার দেখিয়ে দিলো আগের হিসাবে ভুল ছিলো এবং শ্রমিকদের আবারো নিয়োগ দিলো। কিন্তু এটা নিয়ে তদন্ত হলো না। কেউ সরকার বা বিশ্বব্যাংকের কাউকে এই প্রশ্নটি করলো না, কীভাবে আগের হিসাবে এত বড় ভুল হয়েছিলো। বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনি থেকে টন টন কয়লা গায়েব হওয়ার উত্তর খুঁজলেও একই জবাব পাওয়া যাবে। প্রশাসন ভয়াবহ রকমের ত্রুটিপূর্ণ। বাংলাদেশে সরকার ব্যবসা করতে গিয়ে যে তালগোল পাকিয়ে ফেলে তার বড় উদাহরন বিমান ও টেলিটক।

একটা উন্নয়নশীল দেশে সরকার পরিচালিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন আছে। কিন্তু বাংলাদেশে তা যেভাবে চলছে তাতে পরিবর্তন জরুরি। বিপণন, বিক্রয় আর বিক্রয়োত্তর সেবা – সব ক্ষেত্রেই আধুনিকতা আনতে হবে। তাহলেও সৃষ্টি হবে নতুন চাকরির সুযোগ। কখনো কখনো সরকারি শিল্প কারখানা লোকসান দিয়েও চালানো উচিত। যেমনটি করেছে ভারত। তার সুফল এখন পাচ্ছে দেশটির অর্থনীতি।

সুযোগ ও ঝুঁকি দুই দিক থেকেই বাণিজ্যযুদ্ধ ভয়ঙ্কর ফল দিতে পারে। বিশ্বজুড়ে এখন যে বাণিজ্যযুদ্ধ চলছে তা থেকে সুবিধা আদায় করার মত অবস্থানে বাংলাদেশ নেই। আমদানি কমিয়ে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য যেমন একটা শিল্পায়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন, তা গ্রহণ করার এখনই সময়। সম্পাদনা : সালেহ্ বিপ্লব

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ