প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

লেখকের কাজ নয়, পাঠকের মনের মাপে লেখা…

জুয়েল মাজহার

লেখক কাউকে বা কোনো কল্পিত অডিয়েন্সকে সামনে রেখে, সমাজের ও নানাবিধ নৈতিকতা-ফৈতিকতার কথা মাথায় রেখে লিখতে বসে না। সবচে খারাপ কাজ হচ্ছে অন্যের প্রত্যাশার সামনে হাঁটু গেড়ে বসা, অন্যের গ্রহণক্ষমতার কথা ভেবে নিজের ডিশ/রেসিপি ঠিক করা। তবে কোটি কোটি গাড়ল লেখক অন্যের আকাক্সক্ষার মাপে নিজের কোট বানায়। এখানেই অমুক …সাহার, তমুক …হাফিজ বা উল্লাহর সঙ্গে রাহমান, মাহমুদ, উৎপল, জয়, অগাস্টিন গোমেজ, ইলিয়াস, শ্যামল, অমিয়ভূষণ ও সতীনাথ ভাদুড়ীদের ফাঁরাক।

আম আর সংখ্যাগরিষ্ঠ পাঠকের রুচির, পছন্দের দিকে না থাকিয়ে নিজের মনের দিকে তাকানো জরুরি। বিনিময়ে আপনার ভাগ্যে কী জুটলো কী জুটলো না, সেটা ভাবাও প্রকৃত লেখকের কাজ না। প্রকৃত লেখকের জন্য সবার চেয়ে জরুরি তার নিজের মনের মানের কাছে পৌঁছা। তবে তা উলম্ফন নয়, ব্যাঙের বা ব্যাঙাচির হঠাৎ-লম্ফ নয়;  বরং তা হচ্ছে সকল দেখনদারির ঊর্ধ্বে উঠে ধ্যানী হওয়া। লেখনকর্ম যেন হয় সৃজনকর্ম, কোনো না কোনো অর্থে। যেন হয় একটা জার্নিÑ একটা ভেতর-বাইরের ভ্রমণ। গড় পাঠকের রুচির কাছে গড় না হওয়ার সাহস থাকতে হবে প্রকৃত লেখকের।

ইয়েটসের ‘দ্য সেকেন্ড কামিং’ কবিতায় যে উচ্চাঙ্গের রস, যে শিখরস্পর্শিতা তার নাগাল পেতে চাইবে না গড় পাঠক। আল মাহমুদের সেরা কোনো সনেট বা রাহমানের মাতাল ঋত্বিকের কোনো সনেট তাকে পড়তে বলুন, সে নাক কুঁচকাবে। কিন্তু তাকে যদি পড়তে দেন ‘অমুক করে নাম রেখেছি তমুক/তোমার লগে পীরিতিটা জমুক’, তাহলে সে নাচবে আর বগল বাজাবে। প্রচুর রস গড়িয়ে পড়া ঝোলাগুড়ের মতো শব্দ-বাক্য আর সস্তাদরের বারুদ যদি থাকে, থাকে যদি ‘তুমি-আমি’র তেঁতুলাচার তাহলেই সে তৃপ্ত। গড় পাঠককে কাঁধে চড়াবেন না। মানে তার রুচির পরকলাতে নিজের দেখার সীমানা-নির্দেশ করবেন না। নিখাদ সাহিত্য সবার জন্য নয়। কোনো উচ্চাঙ্গের শিল্পও নয় আমজনতার জন্য। ‘ওহ ঃযব ৎড়ড়স ঃযব ড়িসবহ পড়সব ধহফ মড়/ ঃধষশরহম ড়ভ গরপযবষবহমবষড়’, আপাত-এলিট কিন্তু প্রকৃত প্রস্তাবে-বেকুব নারী-পুরুষের মেকি শিল্পরুচির মতো হাস্যকর করে তুলবেন না নিজের শিল্পরুচি। সুধীন্দ্রনাথ দত্ত বা শামসুর রাহমানের, আল মাহমুদের, -উৎপলের, জয়ের, সুব্রতর, বিনয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ও তাৎপর্যপূর্ণ কবিতাটি এরা পড়ে না, পড়বে না। তাই রস সবার জন্য নয়। তরল খিচুড়ি আর আবেগের ‘মায়াবড়ি’ খেয়েই এরা মনের পেট ভরাবে।

এদেরকে আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের বই কিনে উপহার দিয়ে দেখুন এরা কী করে! সে বই ফুটপাতে বিক্রি করে দিয়ে মনের হরষে এমডি মুরাদের ‘ফুল বাগানের অন্তরালে’ নামের অপন্যাস পড়বে। গাধা অনাবিল জলে তুষ্ট হয় না; তার দরকার আপন রুচিসম্মত ঘোলাজল! ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ