প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

খাইছে, সেলিম সাহেব নির্বাচনই হতে দেবেন না!

অসীম সাহা : সত্যি, এবার কিছুতেই নির্বাচন হতে পারবে না! কেন? কারণ এবার আর কেউ নয়, স্বয়ং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম এই হুমকি দিয়েছেন যে, “শ্রমিকদের অভুক্ত রেখে দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেয়া হবে না।” যুক্তিসঙ্গত হুমকি! দেশে শ্রমিকরা না খেয়ে মরবে আর পেটি বুর্জোয়া দলগুলো নির্বিঘ্নে নির্বাচন করবে এবং কমিউনিস্ট পার্টি তা চেয়ে চেয়ে দেখবে, তা কিছুতেই হবে না। যে কোনো মূল্যে তারা নির্বাচন প্রতিহত করবেই। তিনি বলেছেন “আমাদের এক পা নির্বাচনে আর এক পা মাটিতে। কিন্তু যে পা নির্বাচনে আছে, সে পা-ও যদি মাটিতে নামাতে বাধ্য করেন, তা হলে নির্বাচন হতে দেয়া হবে না!” সেলিম সাহেবের এ-কথার পর একটি প্রবাদবাক্য মনে পড়লো, “হাতি ঘোড়া গেলো তল/মাছি বলে কতো জল!” আমি ষাটের দশকের ছাত্রজীবন থেকে মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে চিনি। পূর্ব-পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের স্মার্ট ও নিবেদিত নেতা ছিলেন। নয়া পল্টন লাইনে পিতার বাড়িতে খুব আরাম-আয়েসেই জীবনযাপন করতেন। তখনই ভাবতাম, সে কী করে ছাত্র ইউনিয়নের মতো একটি বাম-ঘরানার সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত হলেন কী করে? কারণ তখন আমাদের নেতা ছিলেন সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, জিতেন ঘোষ, খোকা রায় প্রমুখ। তাদের সাধারণ জীবনযাপন আমাদের উদ্বুদ্ধ করতো। কী শাদামাটাভাবে অকৃতদার এই নেতারা কষ্টকর জীবন কাটিয়ে গেছেন, তা নিজ চোখে দেখার দুর্ভাগ্য আমার হয়েছে। সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে তাঁদের আত্মত্যাগের সঙ্গে সেলিমদের জীবনের কোনো তুলনাই হয় না। এখন যে কোনো তথাকথিত বামপন্থীর ঘরে গেলেই দেখা যাবে, কী আরাম-আয়েসে তারা জীবন কাটাচ্ছেন! কমিউনিস্ট আদর্শের ছিটেফোঁটাও তাদের জীবনে অবশিষ্ট নেই। সংসার-সন্তান ও বিলাসবহুল জীবন নিয়ে এখনো তারা সাধারণ ঘরের সন্তানদের মিথ্যে প্রতিশ্রুতিতে অন্ধকার জগতের দিকে টেনে নিয়ে আসার জন্য বামপন্থীর ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছেন!

বিশেষত সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাঙনের ফলে এদের বহুরূপী ভূমিকা ও সারা বিশ্বজুড়ে করুণ অবস্থা হবার পর বাংলাদেশের বামপন্থার অবস্থা আরো করুণ হয়েছে! পশ্চিমবঙ্গের বামরা তবু অনেকদিন পর্যন্ত ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে বামপন্থার ক্ষীণকায় প্রবাহটি অক্ষুণ্ন রেখেছিলেন। কিন্তু তাদেরও শেষরক্ষা হয়নি। মমতার মতো উন্মাদের কাছেও হেরে তারা অস্তিত্বসংকটে ভুগছেন। এ-অবস্থায় বাংলাদেশের কমউিনিস্ট পার্টির যেখানে শেকড়ই উৎপাটিতপ্রায়, সেখানে তার সভাপতি নির্বাচন একেবারেই হতে দেবেন না বলে হুংকার ছেড়েছেন! এখন যারা নির্বাচনমুখী দল, তারা কী করবেন? ভয়ে পালিয়ে যাবেন? যদি না গিয়ে এই পেটি বুর্জোয়া দলগুলো উল্টো বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সবগুলোকে তাড়া করে বুড়িগঙ্গার পচা জলে ডুবিয়ে দেয়, তখন সাঁতরে পার হওয়ার ক্ষমতা তাদের থাকবে তো? অতএব অবান্তর কথা বলে নিজেদের ছোট করার চেয়ে ৩০ ডিসেম্বরের জন্য প্রস্তুত হোন। তাতে যদি দুএকটি আসনের শিকেও ছেড়ে, তাকে শত জনমের ভাগ্য বলে মেনে নিয়ে নিজেদের চরকায় তেল দিতে থাকুন। এই তেলে আর কিছু না হোক, আপনাদের দলের যন্ত্রটি অন্তত কিছুটা হলেও মসৃণ হতে পারে। সেটাই বা কম কিসে সেলিম সাহেব?

লেখক : কবি ও সংযুক্ত সম্পাদক, দৈনিক আমাদের নতুন সময়

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ