প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মানুষ ধর্ম ধর্ম করে মানব ধর্মটাকেই হারাতে বসেছে!

স্বপ্না দে

মোহনা অফিস থেকে ফিরেছে অনেক ক্ষণ, কিন্তু এখন পর্যন্ত ভাই বোনরা কেউ কোনো গল্প নিয়ে হাজির হয়নি, কেমন যেন দমবন্ধ পরিবেশ। নিশ্চয় ঘোরতর কিছু ঘটেছে । মোহনার মা প্রতিভা দেবী ঠাকুরঘরে সন্ধ্যাপুজো দিচ্ছেন।

ওদের বাবা সদাচরণ বাবু রোজকার সান্ধ্য পরিক্রমায় বেরিয়ে গিয়েছেন। তিনি গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, কখনোই সন্ধ্যের সময় বাড়িতে থাকেন না। স্কুল থেকে ফিরেই পোশাক পরিবর্তন করে সামান্য কিছু জলখাবার খেয়ে চায়নিজ টর্চে আলো ঠিক ঠাক আছে কিনা দেখে নিয়ে বেরিয়ে পড়েন। পাশাপাশি কয়েক গ্রামের সমবয়সী সমমনা বন্ধুদের নিয়ে উনাদের নাম বিহীন একটা ক্লাবের মতো আছে, সেখানে অনেক রাত অব্দি আড্ডা চলে। তাই সন্ধ্যের পর ভাইবোনরা সবাই একত্রে বসে চা মুড়ি খেতে খেতে দারুণ এক পারিবারিক আড্ডা জমে ওঠে কিন্তু আজ কি যে হলো সবাই কেমন মুখ গোমড়া করে আছে। অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে যখন কেউই ঝেড়ে কাশছে না, তখন সে উঠে গিয়ে চা বসালো। অফিসের ব্যাগ থেকে টোস্টের প্যাকেটটা বের করে এনে সবার জন্য চা বানিয়ে নিয়ে পড়ার রুমে হাজির হলো। একজন একজন করে ওদের সামনে চায়ের কাপ রেখে নিজের কাপটা হাতে নিয়ে ছোট বোনটার পাশে গিয়ে বসতেই দেখলো, সে ফুঁপিয়ে কান্না শুরু করেছে। আরো আশ্চর্যের কথা, ওদের মাও আজ এঘরে না এসে প্রসাদের বাটি নিয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেলেন।

ভাইকে চোখ টিপে ইশারা করতে সেও উঠে চলে গেলো। অবশেষে বাধ্য হয়ে মায়ের রুমে গিয়ে তাকেই এই মৌনতার কারণ জিজ্ঞেস করতে হলো। দুপুরে নাকি কেউ ভাত খায়নি, যদি একাদশির দিনে ভিক্ষুককে ভিক্ষা দেওয়া বারণ হয়, তবে কেন পরিবারের সদস্যরা ভাত খাওয়া বন্ধ করে না। আবার একাদশির দিনে ভগবানকেও তো উপোস রাখা হয় না। তিনি বরং সেদিন অন্যদিনের তুলনায় একটু বেশিই উপাদেয় এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খেয়ে থাকেন।

এই সব কুযুক্তির জন্যই আজ মায়ের মন খুব বিগড়ে আছে। আর সবাই চুপাচাপ মুখ বুজে এই অনশন ব্রত চলছে। এবারে একে একে সবাই মুখ খুলতে শুরু করলো, দুপুরে বাড়িতে এক অবাঙালি ভিখারিনি এসেছিলো। সে কোথা থেকে এসেছে তা কেউ জানতে পারেনি, সে বাংলাও জানে না, আকার ইংগিতে কিছু খেতে চেয়েছিলো। কিন্তু তাদের মায়ের কড়া নিষেধ একাদশি দিনে ভিখিরিকে অন্ন দেওয়া যাবে না তাতে গৃহকর্তার অন্নপাপ হয়।

অবুঝ কিশোর মনে তখন এই বুদ্ধি আসেনি, যে খাবার মানেই কেবল ভাত নয়। কলা, কাঁঠাল, পেঁপে, আপেল কিংবা পেয়ারা-যা কিছু ফল ঘরে ছিলো তা থেকে একটা কিছু দিয়ে দিলেও ক্ষুধার্ত মানুষটির ক্ষুধার কষ্ট ক্ষণিকের জন্য নিবৃত হতো। কিন্তু তা না করে সবাই সারাদিন না খেয়ে অনশন পালন করছে। আসলে এর একটা বিহিত হবে তার পরই ওরা ভাত খাবে। এবারে প্রতিভা দেবীও হায় হায় করে উঠলেন, সত্যিই তো। এমনটা তো আগে ভাবিনি। কেন ভাববেন, পরকালের সুখের লোভে আমাদের ধর্মান্ধ মানুষদের সাধারণ বিবেচনা বোধও বিলুপ্ত হয়ে যায়। ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ