Skip to main content

এগোনো-পেছানো রাজনীতির স্বীকৃত কৌশল : আনোয়ারুল কাদির

বিভুরঞ্জন সরকার : আগামী নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হচ্ছে, এরচেয়ে বড় স্বস্তির খবর আর কিছু নেই। এতোদিন মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিলো মিশ্র, বিএনপি নির্বাচনে না এলে শান্তি বিঘ্নের আশঙ্কা ছিলো। এখন তা নেই। মানুষের মনে নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা আছে বলে মনে হয় না। কথাগুলো বলেছেন খুলনার প্রবীণ শিক্ষাবিদ, লেখক এবং সন্দরবন একাডেমির নির্বাহী পরিচালক আনোয়ারুল কাদির। সম্প্রতি খুলনায় তার সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তিনি বলেন, নির্বাচনের মাঠে বিএনপি সেভাবে নেই। বিএনপি নেতারা যেমন দাবি করেন যে মানুষ সুযোগ পেলে বিএনপিকে ভোট দেবে তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। আওয়ামী লীগের স্থানীয় পর্যায়ের কিছু নেতাকর্মীর নেতিবাচক কর্মকা-ে মানুষের মধ্যে কিছুটা বিরাগ ভাব থাকলেও বিএনপির প্রতি মানুষের অনুরাগ বাড়েনি। বিএনপির প্রতি কোনো কারণেই কারো মোহ তৈরি হয়নি। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সকল স্তরের মানুষের আস্থা, বিশ্বাস, ভালোবাসা বেড়েছে বহুগুণ। একদিকে তিনি বঙ্গবন্ধুর কন্যা, অন্যদিকে তার ক্যারিশমেটিক নেতৃত্বগুণ, তাকে এক ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। চরম দলবাজ, আওয়ামী লীগ ও ভারতবিদ্বেষী এবং কা-জ্ঞানহীন মানুষ ছাড়া আর কেউ শেখ হাসিনা ব্যতীত আর কাউকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ভাবেন বলে মনে হয় না। অধ্যাপক আনোয়ারুল কাদির নানা সামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার দেখা হয়, কথা হয়। সে অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি বলেন, পরস্পর আদর্শবিরোধী শক্তির যে ঐক্য বা সমন্বয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি করেছে তা মানুষ খুব ভালোভাবে নেয়নি। ড. কামাল হোসেনের কথা ও কাজের বৈপরীত্ম্যও কারো নজর এড়াচ্ছে না। বিএনপি গুজব ছড়ানোর কৌশল নিয়ে সুবিধা করতে পারছে না। কারণ প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও এখন সর্বশেষ তথ্য আছে। কওমী মাদ্রাসার সর্বোচ্চ ডিগ্রির সরকারি স্বীকৃতি এবং হেফাজতে ইসলামের সঙ্গে সরকার তথা আওয়ামী লীগের সমঝোতাকেও ইতিবাচকভাবে দেখেন এই ইতিহাসমুখী অধ্যাপক। তিনি বলেন, দেশে পঁচাত্তর-পরবর্তী সময়ে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতির ধারাবাহিক বিকাশের মুখে আওয়ামী লীগকে কৌশলের আশ্রয় নিয়েই এগোতে হচ্ছে। বেশি পাওয়ার জন্য কখনো কখনো একটু ছাড়তে হচ্ছে আওয়ামী লীগকে, এটাই অনেক আওয়ামী লীগ দরদি মেনে নিতে পারেন না। মুষড়ে পড়েন। মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনাকে ক্রমাগত বিপরীত স্রোত নৌকা বাইতে হচ্ছে। আওয়ামী লীগ সব সময় সবাইকে খুশি করতে পারছে না ঠিকই উল্লেখ করে অধ্যাপক কাদির বলেন, তাই বলে আওয়ামী লীগ ভুল ট্র্যাকেও চলে যায়নি। দুপা এগিয়ে এক পা পেছানো রাজনীতির পুরনো এবং স্বীকৃত কৌশল। যারা আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় দেখতে যায় না, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বুকে ধারণ করে না, তারা ছাড়া আর কারো গায়ে জ্বালা নেই। মুক্তিযুদ্ধবিরোধী জামায়াতে ইসলামীর গোপন তৎপরতা, বিশেষ করে জামায়াতের নারী কর্মীদের ব্যাপারে সতর্ক নজর রাখার তাগিদ দিয়ে এই শিক্ষাবিদ বলেন, গ্রামাঞ্চলে গৃহবধূদের মধ্যে জামায়াত কৌশলে কাজ করছে। হিজাব-নেকাবে মুখ ঠেকে তারা বাড়ি বাড়ি গিয়ে নারীদের সঙ্গে প্রথমে ধর্মালোচনা শুরু করে, তারপর আসে আসল প্রসঙ্গে। তারা সরল গ্রাম্য নারীদের পবিত্র কোরান ছুঁয়ে শপথ করিয়ে নেয় যে, স্বামী যে মার্কায়ই ভোট দিক না কেন তারা ভোট দেবে জামায়াত যাকে দিতে বলবে তাকে। জামায়াতের এই কৌশল সম্পর্কে গণতান্ত্রিক প্রগতিশীল মহল সচেতন আছেন কিনা, সে প্রশ্ন তুলে আনোয়ারুল কাদির বলেন, জামায়াত একাত্তরে নারীদের প্রতি কি আচরণ করেছে তা বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার করতে হবে, বিশেষ করে জামায়াত প্রভাবিত এলাকাগুলোতে।

অন্যান্য সংবাদ