প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আ’লীগ নেতা না হয়েও নৌকায় এমন ১৬ প্রার্থী

বিডি২৪লাইভ : আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করলেও নিজ দলের প্রতীক নিয়ে এবার নির্বাচন করছেন না ১৬ নেতা। তারা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে যাচ্ছেন।

শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) মহাজোটের আসনবণ্টনে এমন চিত্র দেখা গেছে।

আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৪০ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী চূড়ান্ত করে মহাজোটের শরিকদের ৫৫ থেকে ৬০টি আসন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী জোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টি ৫টি আসন পেয়েছেন। তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর নেতৃত্বাধীন জাসদকে এবার তিনটি আসন দিয়েছে আওয়ামী লীগ। এবারই মহাজোটে যোগ দেয়া সাবেক রাষ্ট্রপতি ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারাকে তিনটি আসন দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ওয়ার্কার্স পার্টির কোনো নেতাই নিজ দলের প্রতীক কাস্তে-হাঁতুড়ি নিয়ে নির্বাচন করছেন না। তারা আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এই পাঁচ নেতা হলেন, ঢাকা-৮ আসনে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, রাজশাহী-২ সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাতক্ষীরা-১ মোস্তফা লুৎফুল্লাহ, ঠাকুরগাঁও-৩ ইয়াসিন আলী ও বরিশাল-৩ আসনে শেখ টিপু সুলতান।

জাসদে ইনুসহ তিন নেতাই নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। তারা হলেন, কুষ্টিয়া-২ আসনে হাসানুল হক ইনু, ফেনী-১ শিরীন আখতার ও বগুড়া-৪ আসনে একেএম রেজাউল করিম তানসেন।

ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারার নেতারাও নৌকা প্রতীক নিয়ে ভোটযুদ্ধে অবতীর্ণ হবেন। এই তিন নেতা হলেন, মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে বি. চৌধুরীর ছেলে মাহী বি. চৌধুরী, লক্ষ্মীপুর-৪ মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান ও মৌলভীবাজার-২ আসনে এমএম শাহীন।

বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি মইনউদ্দিন খান বাদল এমপি চট্টগ্রাম-৮ আসনে নৌকা নিয়ে ভোট করবেন।

তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী চট্টগ্রাম-২ ও আনোয়ার হোসেন খান লক্ষ্মীপুর-১ আসনে নৌকা প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান বন ও পরিবেশমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পিরোজপুর-২ এবং রুহুল আমিন কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) দুপুরে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাজোটের শরিকদের চূড়ান্ত আসন বরাদ্দের ঘোষণা দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমাদের যারা শরিক তারা ইচ্ছে করলে তাদের দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করতে পারবেন। তবে শরিকদের যেসব আসনে নৌকা প্রতীক দিয়েছি সেসব আসনের প্রার্থীদের আজ চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিলাম। এরমধ্যে মহাজোটের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির ৫ আসন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ-ইনু) ৩ আসনে, বিকল্পধারা ৩ আসনে, বাংলাদেশ জাসদ (আম্বিায়া) ১ আসনে, তরিকত ফেডারেশনকে ২ আসনে এবং জাতীয় পার্টি-জেপিকে (মঞ্জু) ২টি আসনের চিঠি দেয়া হয়েছে। ফলে মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টি বাদে অন্য দলের জন্য ১৬টি আসনের চিঠি দেয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির জন্য ৪০-৪২টি আসন রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এখার থেকেও দু-একটি আসন এদিক-সেদিক হতে পারে।’

কাদের বলেন, আমাদের শরিকরা ইচ্ছে করলে নিজেদের প্রতীকে আরো বেশি আসনে নির্বাচন করতে পারবেন। শরিক দলের নিজেদের শক্তিমত্তার পরিচয় জানান দিতে তাদেরও সুযোগ দিয়েছি।

এ সময় পাশে বশা বিকল্পধারার মহাসচিব নিচু স্বরে আরো আসনের বিষয়ে বলতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, মান্নান ভাই আপনি চাইলে কুলা মার্কায় আরো প্রার্থী দিতে পারেন। আমরা তিনটার বেশি দিতে পারবো না। শ্রদ্ধেয় বি. চৌধুরী সাহেবের সাথে আমাদের নেত্রী আলাপ করবেন। আমি জানি আপনাদের আরো প্রার্থীর প্রত্যাশা আছে। তবে আমরা নৌকা প্রতীকে এর বেশি দিতে পারব না। আমাদের অন্য শরিকরা সবাই একমত হয়েছেন, আশা করি আপনিও একমত হবেন।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, আমরা উন্মুক্ত করে দিয়েছি বিকল্পধারা চাইলে কুলা মার্কায় নির্বাচন করবে, জাসদ মশাল মার্কা, তরিকত ফুলের মালা মার্কায় তাদের প্রার্থী দিয়ে নির্বাচন করতে পারবে। তবে আমরা যাদের নৌকা প্রতীক দিয়েছি তাদের চূড়ান্ত তালিকা এটাই। আমরা দফায় দফায় আলাপ-আলোচনা করে দলের এবং জোটের মনোনয়ন চূড়ান্ত করেছি। শনিবার আমাদের সভানেত্রীর স্বাক্ষর সম্বলিত তালিকা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে আওয়ামী লীগের কে কোথায় ভোট করছেন তার তালিকা পাওয়া যাবে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আব্দুল মান্নান, জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আকতার, তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ ও জাহাঙ্গীর কবির নানক প্রমুখ।