প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

রাজনীতি থেকে দিনে দিনে চক্ষুলজ্জা কি উঠেই যাচ্ছে ?

সালেহ্ রনক : একজন রাজনীতিবিদ বলতে যেসব গুণাবলী সম্পন্ন একজন মানুষের মূর্তি মানসপটে ভাসে তা হচ্ছে, একজন রাজনীতিবিদ দেশের সেবায় নিয়োজিত এমন একজন ব্যক্তি যিনি একটি দলের নিবেদিতকর্মী ও নিজ দেশের সংবিধান মেনে জনগণের জন্য কাজ করেন। রাজনীতিবিদ দেশের সংবিধানকে অটুট রেখে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ দেশের মানুষের জন্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেন। ঘাত-প্রতিঘাত সহ্য করে, রাজপথ কাঁপিয়ে দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে দাবী আদায়ের জন্য সংগ্রাম করেন। জেল-জুলুম সহ্য করে একটা সময় নির্বাচিত হোন বা হোন না, নীতি আর্দশের সাথে আপোষ না করা একটি প্রতিচ্ছবি, যে অন্যের জন্য অনুকরনীয় ও প্রেরণাদায়ক।

বাংলাদেশ, যার জন্ম কোটি প্রাণের হাহাকার ও আর্তনাদ, লাখো প্রাণের বলিদান, লাখো মা-বোনের ত্যাগ ও সংগ্রামের বিনিময়ে। তাই এই বাংলাদেশে রাজনীতি করতে হলে একজন রাজনীতিককে খেয়াল রাখতে হবে যেন তার কোন কর্মে, কথা ও পদক্ষেপে স্বাধীনতা যুদ্ধের জন্য যারা অকাতরে প্রাণ দিয়েছেন, সম্ভ্রম হারিয়েছেন, আত্মত্যাগ করেছেন তাদের অবদান যেন অপমানিত না হয়। এদেশের সকল রাজনীতিবিদদের কাছে স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান যেমন পূজনীয় হবেন তেমনি স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি হবে ঘৃণিত। কোনো যুক্তিতে ,কোন অবস্থাতেই এরা রাজনীতিতে সুবিধালাভের যোগ্য হবে না ।একাত্তরের সেই ভয়াবহ মুক্তিযুদ্ধের ফসল আজকের এই স্বাধীনতা, সেই দীর্ঘ সাধনার অর্জিত ফসল যদি স্বাধীনতা বিরোধীশক্তি ভোগ করার সুযোগ পায় তাহলে কি প্রশ্ন তোলা অন্যায় হবে যে, এই জন্যই কি দেশ স্বাধীন করেছিলেন আমাদের সূর্য সন্তানরা ?

রাজনীতি থেকে দিনে দিনে চক্ষুলজ্জা যেন উঠে যাচ্ছে। জনগণ কি ভাবছে, কিভাবে নিচ্ছে তাতে যেন কারো কোনো পরোয়া নেই। যে যার মতো যা খুশি বলে যাচ্ছে করে যাচ্ছে। যেখানে সুবিধা পাচ্ছে সেখানেই ভীড় করে আখের গোছাচ্ছে আর সুযোগ পেলেই নীতিকথার বুলি আওড়াচ্ছে। তারা একবারও ভাবে না পূর্বে তারা জনগণের সামনে কি বলেছিলেন আর এখন কি বলছেন। রাজনৈতিক সুবিধা লাভের জন্য, যেকোন উপায়ে ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার জন্য কিংবা নিদেনপক্ষে ক্ষমতার কাছাকাছি থাকার জন্য হেন কাজ নাই যা তারা করছেন না। অথচ এরাই রাজনীতির ময়দানে নামীদামী মানুষ হিসেবে বিবেচিত হয়, সর্বদা কুর্নিশ পায়। নীতিকথার আড়ালে,ছল চাতুরীর বেড়াজালে বছরের পর বছর তারা জনগণকে বোকা বানিয়ে নিজেদেরকে মহাপুরুষ সাজিয়ে রেখেছেন রাজনীতির মঞ্চে। অথচ সব কিছুর পিছনেই তাদের রয়েছে লোভ আর স্বার্থসিদ্ধির বাসনা।

ডা. কামাল হোসেন, যিনি নিজেকে বাংলাদেশের রাজনীতিতে মহাপুরুষ হিসেবে ভাবতে সুখ অনুভব করেন। বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতা আর সংবিধান প্রশ্নে তার কণ্ঠে সুধা ঝরে। কিন্তু তার অতীত ঘাটলে তার কিছুই খুঁজে পাওয়া যায় না। বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর তার ভুমিকা ছিল খুবই বিতর্কিত। বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা হিসেবে তিনি যে সনদ অর্জন করেছেন তা বেচেই খাচ্ছেন এবং পাড়ি দিয়েছেন রহস্যময় রাজনৈতিক জীবনের এতগুলো বছর। প্রতিবছর নির্বাচন এলেই তার দৌড়ঝাপ বেড়ে যায়। তিনি যে তার বিদেশী প্রভুদের ইশারায় রাজনীতির ময়দানে নেমেছেন তা ভালো করেই অনুমান করা যায়। এবার তিনি গাঁটছাড়া বেঁধেছেন ঐক্যজোটের মোড়কে বিএনপি ও তাদের প্রধানমিত্র জামায়েতে ইসলামী বাংলাদেশ সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে। অবশ্য এই প্রেম তার জন্য নতুন কিছু নয়। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের সময় তার মেয়ে সারা কামাল ও তার জামাতার বিতর্কিত ভূমিকার কথা মানুষ কোনদিন ভুলবে না।

রাজনীতিতে দল বদল যতটা লজ্জার, আদর্শ বদল তারও অধিক ঘৃণ্য। ডা. কামালের আদর্শের গুলি আর বুলি বারবার বেরিয়ে গিয়ে আবার ফিরে আসে নতুন কায়দায়, নতুন স্বার্থ হাসিলের মোড়কে । ১৫ নভেম্বর ১৯৮১ সালে হোটেল পূর্বাণীতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ‘ধানের শীষ প্রতীক বাংলাদেশের নির্বাচন ব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করেছে। ধানের শীষ প্রতীক হলো প্রতারণা, প্রবঞ্চনার প্রতীক। ধানের শীষ প্রতীক হলো জানগণের ভোটাধিকার হরণের প্রতীক। এই প্রতীকের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্বাচন ইতিহাসে কলঙ্ক রচনা করা হচ্ছে’। আজ সেই ধানের শীষ প্রতীকের ছায়াতলে তিনি আশ্রয় নিয়েছেন পরম উৎসাহ ও আনন্দে। তার দল গণফোরাম ধানের শীষে বিলিন হয়ে গর্ব অনুভব করছে। আপনার আজকের এই ভূমিকায় নিশ্চিত করে বলতে পারি, ধানের শীষঅলারা পুলক অনুভব করছে আর ঠৌঁট টিপে বিদ্রুপের হাসি হাসছে। ১১ সেপ্টেম্বর ২০১২ সালে প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানব বন্ধনে আপনি বলেছেন, ‘কেবল বাংলাদেশ নয়, জার্মানি ও আমেরিকার আদালতে কোকোকে বিভিন্ন অপরাধে দ- দেওয়া হয়েছে। হাওয়া ভবন আবার ফিরে আসুক আমরা এটা চাই না’। আপনার মধুর কথার ফুলঝুড়ি বলে শেষ করা যাবে না, বেশ সমৃদ্ধ আপনার আদর্শিক কথামালার ভা-ার। মানববন্ধনে আপনি আরো বলেছেন,‘ অতীত ভুলে গেলে জাতিকে চরম মূল্য দিতে হবে। হাওয়া ভবনের কথা ভুলে গেলে চলবে না। এই ভবন থেকে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, ভবিষ্যতে আর সে সুযোগ দেয়া যাবে না। আইনজ্ঞ ডা. কামাল হোসেন, জাতি হাওয়া ভবনের কথা ভুলে নাই। আপনি ভুলে গেছেন, হয়তো এই ভুলে যাবার জন্য বিএনপি আপনাকে ভালোই মূল্য পরিশোধ করেছে। তাতে জাতি যতই চরম মূল্য দিক না কেনো। ভবিষ্যত তো আপনিই নতুন করে রচনা করে দিলেন, সুযোগটাও আপনিই করে দিলেন।

মেজর জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে জামায়েতকে পুনর্বাসিত করে যে ভুল করেছিল তার খেসারত দিচ্ছে পুরো জাতি। বিএনপি তাদের সাথে রাজনৈতিক সংসার পেতে বাচ্চা কাচ্চায় ভরে ফেলেছে রাজনীতির উঠান। সেই উঠান থেকে জামায়েত কে বিতাড়িত করতে, সমূলে বিনাশ করতে শেখ হাসিনা সরকার যে পরিমাণ অগ্রসর হয়েছিল, তাদের নিবন্ধন বাতিল করার মূখ্য ভুমিকা পালন করেছিল তার সুফল জাতি ঘরে তোলার পূর্বেই আপনি তার পুরোটাই নষ্ট করে দিলেন। জোট বাঁধলেন গিয়ে স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে। মুখে বঙ্গবন্ধু, শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর সংবিধানের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কিভাবে পারলেন এক কাতারে দাঁড়াতে?

কর্নেল অলি আহমেদ বিএনপি থেকে বেরিয়ে গিয়ে এলডিপি নামে রাজনৈতিক দল গঠন করলেন। একবার এক বক্তব্যে উনি বলেছিলেন, ‘মা ভালো হলে ছেলে খারাপ হবে কেন? দুটোই বদমাশ’। সময়ের পরিক্রমায় তিনি ও তার দল বিএনপির বড় মিত্র অনেক বছর ধরে। এই মুখ নিয়েই খালেদা জিয়ার সাথে কয়েকবার বৈঠকও করেছেন। ঐ দুই বদমাশই এখন তার ক্ষমতায় যাওয়ার আশ।
হুমায়ুন আজাদ বলেছেন, ‘একজন মুক্তিযোদ্ধা চিরদিন মুক্তিযোদ্ধা নাও থাকতে পারে’। বঙ্গবীর খ্যাত কাদের সিদ্দিকি যেন তার বাস্তব উদাহরণ হয়ে প্রতিদিন জাতির সামনে হাজির হচ্ছেন। উনি মুজিব কোট গায়ে জড়িয়ে, নিজেকে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক পুত্র দাবী করে গত নির্বাচনের আগে প্রতিনিয়ত দিগন্ত টিভির টকশোতে অংশগ্রহণ করেছেন, জামায়েত ইসলামীর গুণগান করেছেন। আর এখন তো জামায়েত এর সঙ্গে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচন করছেন। আমার টাঙ্গাইলে থাকাকালীন সময়ে কাদের সিদ্দিকি ও তার পরিবারের প্রতি মোহভঙ্গ ঘটে। টাঙ্গাইলে অবৈধ জমি দখল, হিন্দুদের বসতবাটী ও জমি দখল, ঠিকাদারী কাজে অনিয়ম,ও জুলুম নির্যাতনে, তার ও তার পরিবারের প্রতি সাধারণ জনগণকে অভিযোগ করতে দেখেছি। কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ গঠন করেও আজ তাকে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করতে হয় নির্বাচনে জয়লাভের আশায়। মসনদে যাবার আশায় যখন বঙ্গবীর যখন বলেন, ‘দেশে কোন জামায়েত নেই’ তখন ভীষণ করুণা জন্মায় তার প্রতি। আজ কাদের সিদ্দিকিকে দেখলে মনে হয়, ‘গায়েতে মুজিব কোট, বুকেতে ধানের শীষ, মুখেতে মধুর বুলি, বুকেতে ভীষণ বিষ’।

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান যখন বলেন, ‘জামায়েতে অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছে’। তখন তাদের রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রকাশ হয়। অবশ্য উনি একেবারে মন্দও বলেননি। বিএনপি জামায়েতে বিলীন হয়ে গেছে অনেক বছর। বেগম খালেদা জিয়া অলিখিত আমীর এর দায়িত্বও পালন করেছেন বহু বছর। সেই হিসাবে বিএনপি জামায়েত মিলেমিশে একাকার এবং এই দলে মুক্তিযোদ্ধা তো আছেই। আবার নজরুল ইসলাম খান মেজর জিয়াকেও ইঙ্গিত করে থাকতে পারেন। কারণ মেজর জিয়াই ছিলেন জামায়েত এর পুনঃজন্মদাতা এবং যে ছিলেন বীর উত্তম ও একজন সেক্টর কমান্ডার।

বাংলাদেশের রাজনীতির ময়দানে মান্না ও রব যতনা বেশি আলোচিত তারচেয়ে বেশি সমালোচিত। রব সাহেব ধানের শীষে আশ্রয় নিয়েছেন তাতে কোন দুঃখ নেই, কিন্তু জামায়েত এর সাথে জোট বেঁধে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে কিভাবে ধারণ করবেন? রব ও মান্না সাহেব যেভাবে চিৎকার করছেন তা তাদের আশ্রয়দাতা দল বিএনপির কোন নেতাও করছেন না। তাদের বর্তমান কর্মকা-ে জনগণের চেয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরাই বেশি হাসাহাসি করছেন। মাহামুদুর রহমান মান্না তো এদেশের রাজনীতিতে জোকার হিসাবে অপ্রতিদ্বন্দী। যে এক সময় বিএনপির গোষ্ঠী উদ্ধার করেছেন, সে এখন বিএনপির ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। এই দল, সেই দল, নানা ঘাটে খেয়ে ঘোলাজল, এখন তিনি ধানের শীষের অন্যতম কা-ারী। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করার জন্য তিনি নাকি জীবন দিবেন অথচ খালেদা জিয়া জেলেই আছেন আর তিনি নমিনেশন ও ধানের শীষ বগলদাবা করে নির্বাচনের মাঠে।
গোলাম মাওলা রনি এখন বিএনপির প্রিয় মানুষ। অথচ সংসদের অধিবেশনে এক দীর্ঘ বক্তৃতায় তিনি বিএনপি ও তারেক জিয়াকে ধুয়ে দিয়েছিলেন। এছাড়া তিনি নানা সময়ে সংসদে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কলাম ও ফেইসবুক স্ট্যাটাসে বছরের পর বছর যেভাবে বিএনপি ও তারেক রহমানের বিষোদগার করেছেন, সেসব ভুলে বিএনপি তা কিভাবে হজম করে নিলো তা আসলেই সমুদ্রসম চিন্তার বিষয়। দলে যোগদান শেষে তারেক রহমান যখন ফোন করে গোলাম মাওলা রনির সাথে কথা বলে তখন রাজনীতিকদের নির্লজ্জতাই ভেসে ওঠে। গোলাম মাওলা রনি যখন বলেন, ‘আমি এখানে মৃত্যু পর্যন্ত থাকব’ এবং এর বিপরীতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের হৃদয় স্পন্দিত হয়েছে’, তখন তাদের সাথে সুর মিলিয়ে বলতেই হয়, আমাদের হৃদয়ও স্পন্দিত হয়েছে তবে তা ভয়ে ও রাজনৈতিক অশনিসংকেতে।

অগ্নিকন্যা খ্যাত মতিয়া চৌধুরী একসময় বঙ্গবন্ধুর চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজাতে চেয়েছিলেন। সেই মতিয়া চৌধুরী এখন পুরোদস্তুর আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথের পরীক্ষিত সৈনিক। পুলিশের লাঠিপেঠায় রক্তাক্ত হয়েছেন বহুবার, খেটেছেন জেলও। খুব জানতে ইচ্ছে করে তিনি যখন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, তখন কি তার সেই দিনের কথা মনে পড়ে ? তার জন্য কি তিনি অনুতপ্ত হন, হন লজ্জিত? মহাজোট সরকারের আরেক নেতা যিনি পরে দুই দুইবার মন্ত্রীও হয়েছেন। তিনি আর কেউ নন, তিনি হাসানুল হক ইনু। বঙ্গবন্ধুর শাসন আমলে বঙ্গবন্ধুকে যে দল ও ব্যক্তি সবচেয়ে বেশি পীড়া দিয়েছে। আজ তাঁর মুখেই সবচেয়ে বেশি বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারিত হয়, সরকারের গুণগান শোনা যায়। তিনি যখন বঙ্গবন্ধুর নাম উচ্চারণ করেন, তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি ও তার দল কি বিগত দিনের বিতর্কিত কর্মকা-ের জন্য অনুশোচনা করেন, লজ্জিত হন ? নাকি ক্ষমতার মসনদে থাকলে সব কিছু গা সওয়া হয়ে ওঠে, চক্ষুলজ্জা ওঠে যায় ?

ডা. কামাল হোসেন, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকি, আ স ম আবদুর রব, আবদুল্লাহ্ আবু সায়ীদ সাহেবরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যা ও জেল হত্যার ক্রিড়ানক মেজর জিয়ার বিএনপি, যুদ্ধাপরাধে জড়িত থাকার অপরাধে দ-িত জামায়েত, দুর্নীতির দায়ে দ-িত ও জঙ্গী সম্পৃক্ততার অভিযোগে অভিযুক্ত তারেক রহমানকে সঙ্গে নিয়ে কিভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বাংলাদেশ গঠন করবেন, সুশাসন নিশ্চিত করবেন তা বোধগম্য নয়। যুদ্ধাপরাধের দায়ে ফাঁসির দ-ে দ-িত সাইদী ও নিজামী ও আলীম এর পুত্রদের মার্কা ধানের শীষের আলিঙ্গনে থেকে কিভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধকে ধারণ ও সংবিধানকে বহন করবেন সে প্রশ্নেরও কুলকিনারা নাই। নাকি রাজনৈতিক নির্লজ্জতার প্রচার ও প্রসারে আপনাদের আজকের কর্মকা- আরও একটি পদক্ষেপ হিসেবেই চিহ্নিত হয়ে থাকবে ?
লেখক : শিক্ষক, সমাজকর্মী

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ