প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রভাবশালী মুসলিম ব্যক্তিত্ব
কিংবদন্তী জুনায়েদ জামশেদের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আমিন মুনশি : জুনায়েদ জামশেদকে অনেক পাকিস্তানিই নব্বইয়ের দশকের জনপ্রিয় ও অন্যতম পপ তারকা হিসেবে মনে করেন। ‘দিল দিল পাকিস্তান’, ‘তুম মিল গায়ি’ কিংবা ‘উহ কৌন থি’ গানগুলো নব্বইয়ের দশকে পাকিস্তানিদের মুখে মুখে ছড়িয়ে ছিল। ‘ভাইটাল সাইন’স নামক ওই সময়ের একটি আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ড দলের গান গেয়ে জামশেদ নিজেকে জনপ্রিয় পপ তারকা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন । পরবর্তীতে তিনি নিজেকে জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও ইসলামি সংগীতশিল্পীতে পরিণত করেন। দ্য মুসলিম ৫০০ নামের একটি ওয়েবসাইট তাকে মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

২০০০ সালের কিছু পর তাকে প্রকাশ্য মঞ্চে আর গান গাইতে দেখা যায়নি। গুঞ্জন রয়েছে, এ সময় তিনি আর্থিক সংকটে ছিলেন। অবশেষে ২০০০ দশকের মাঝামাঝি জামশেদকে দেউলিয়া ঘোষণা করা হয়। এ সময় জামশেদ ইসলামে গানের অবস্থা জেনে সংগীত ছেড়ে দেন এবং ইসলামি জীবন-যাপনের ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে তিনি উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে পোশাক কারখানা গড়ে তোলেন।

২০১৬ সালের (৭ ডিসেম্বর) এই দিনে পাকিস্তানের স্থানীয় সময় বিকেল চারটে ৪০ মিনিটে একটি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে নিহত হন তিনি। চিত্রলা থেকে ইসলামাবাদে যাবার কালে মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে। ওই বিমানে বিশ্বখ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী জুনায়েদ জামশেদ স্বপরিবারে অবস্থান করছিলেন।

 

১৯৬৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের করাচিতে জন্ম জুনায়েদ জামশেদের। বাবা জামশেদ আকবর খান ও মা নাফিসা আকবরের ৩ ছেলে ১ মেয়ের মাঝে তিনি ছিলেন সর্বপ্রথম৷ তার ভাইদের নাম হুমায়ুন জামশেদ, ওমর জামশেদ৷ আর বোনের নাম মুনিজা জামশেদ৷ তিনি ১ ছেলে ১ মেয়ের জনক ছিলেন৷ মেয়ের নাম আয়েশা জুনায়েদ।

১৯৮৩ সাল থেকে ২০০৪ সাল অবধি জুনায়েদ জামশেদ ছিলেন পাকিস্তানের পপ রকসম্রাট। ১৯৮৭ সাল থেকে ২০০৪ সাল অবধি পাকিস্তানের পপ গীতিকার, সুরকার হিসেবেও কাজ করেন। তার গাওয়া জনপ্রিয় গানগুলোর মধ্যে রয়েছে- ‘সওলি সালোনি’, ‘ইয়ে শাম’, ‘এইতবার’, ‘তুম দূর থা’, ‘কেহ দো জো বি’ ও ‘না তু আয়েগি’।

১৯৯৪ সালে জুনায়েদের প্রথম একক অ্যালবাম ‘জুনায়েদ অব ভাইটাল সাইনস’ মুক্তি পায়। যা দ্রুতই জনপ্রিয়তা পায়। এরপর ১৯৯৯ সালে ‘উস রাহ পার’ এবং ২০০২ সালে ‘দিল কি বাত’ মুক্তি পায়। ২০০৪ সালে সংগীত জীবন সমাপ্তির ঘোষণা দেন তিনি। পরে ২০০৫ সালে ইসলামি সংগীতের অ্যালবাম ‘জালওয়া-এ-জানান’ প্রকাশ করেন। এছাড়া ২০০৬ সালে ‘মেহবুব-এ-ইয়াজদান’, ২০০৮-এ ‘বদর-উদ-দুজা’ ও ২০০৯ ‘বাদি-উজ-জামান’ নামে ইসলামি সংগীতের অ্যালবাম প্রকাশ করেন জুনায়েদ। সূত্র: ডন, জিও টিভি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ