Skip to main content

পিতার ওপর প্রতিশোধ নিতে শিশু সিয়ামকে হত্যা

মাসুদ আলম : নিহত সিয়ামের বাবা মোফাজ্জল হোসেনের ইটের টলিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মিঠু মিয়া (২৬)। সেই সুবাদে মিঠু তার মালিকের বাসাতেই থাকতেন। একদিন মিঠুর সঙ্গে হৃদয় নামে অপর এক শ্রমিকের ঝগড়া হয়। এর সমাধান করতে মিঠুকে চড়-থাপ্পর ও বকাবকি করেন মোফাজ্জল। এর প্রতিশোধ নিতে সিয়ামকে (৬) নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেন মিঠু। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানার গন্ধবপুর এলাকায় থেকে অপহরণকারী ও খুনি মিঠুকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় র‌্যাব-১ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ব্যাটালিয়নের কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার হোসেন। তবে সিয়ামের লাশ এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, চার মাস আগে সিয়ামের বাবার ইটের ট্রলিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন মিঠু। মালিকের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে মিঠু তার মালিকের ছেলেকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। সে অনুযায়ী ১৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে সিয়ামকে রূপগঞ্জের বিরাব খালপাড়ের বাসা থেকে কাঞ্চনব্রিজে ঘুরতে নিয়ে যান। সেখানে সন্ধ্যা নেমে এলে একপর্যায় ব্রিজের রেলিং থেকে ধাক্কা দিয়ে সিয়ামকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। ঘাতক মিঠু পালিয়ে তার নিজ বাড়ি গন্ধবপুরে চলে যায়। ১৭ সেপ্টেম্বর সিয়ামের মা ফারজানা বাদী হয়ে পলাতক মিঠু ও তার বাবা আনোয়ারসহ অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে রূপগঞ্জ থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটি ধীরে ধীরে আলোচিত হতে থাকলে মিঠু ও তার পরিবাবের সব সদস্যরা বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে অন্যত্র চলে যান। সিয়াম বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির ছাত্র ছিল।