প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিকারুন্নিসার খোল নলচে পাল্টে যাক : বিচার হোক

অজয় দাশগুপ্ত, অস্ট্রেলিয়া থেকে: যতো সময় যাবে ততো ঘটনা জুড়িয়ে যাবে। এটাই আমাদের সমাজের রীতি। এখন যে বাচ্চারা সরব বা স্কুলের গেইটে তাদের মনের ভাষা প্রকাশ করছে একসময় অভিভাবকরাই তাদের ঘরে নিয়ে যাবে। রাজনীতির লাভ লোকসান না থাকলে কোনো বিষয় বেশিদিন চাঙা রাখার ইতিহাস নেই আমাদের বরং ধামাচাপা দেয়াই নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছবিতে দেখলাম মন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের চোখের সামনে আঙুল উঁচিয়ে দাঁড়িয়েছে বালিকারা। বঙ্গবন্ধুর দেশের বালিকা তার মতো তর্জনী তুলে অপমান আর আত্মহত্যার প্রতিবাদ করবে এটাই তো স্বাভাবিক। মন্ত্রী মহোদয় কি অস্বীকার করতে পারবেন নানা স্কুলে পাসের হার বাড়ানোর জন্য উত্তরপত্র বাতলে দেয়ার অভিযোগ আছে? তিনি কি জানেন না, নকল বিষয়টা অনেক স্কুলে প্রচ্ছন্নভাবে জায়েজ? জিপিএ পাঁচ বা স্কুলের রেটিং বাড়াতে কি কি অনিয়ম চলে তিনি খুব ভালো জানেন। কিন্তু আজ এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যেখানে চাইলেও দায় এড়িয়ে যাওয়া অসম্ভব।

যেসব খবর বেরিয়ে আসছে তাতে আতংকিত হওয়ার বিকল্প নেই। দশ লাখ টাকা উৎকোচ নিয়ে ছাত্রী ভর্তি , ক্লাসরুমে অকথ্য ভাষায় গালাগাল তুই বিশ্রী, তাই তোর সব বিশ্রী এমন জাতীয় অভদ্র অসভ্য ভাষা ব্যবহার। কোন সমাজে বাস করছে বাংলাদেশের মানুষ? এর নাম উন্নতি? না এর নাম উন্নয়ন? যে সমাজে বাচ্চাদের বিশেষত কন্যাদের এমন অপমান করা হয়, তাও দেশের নামকরা একটি স্কুলে আমরা কি ধরে নেবো না এর চেয়েও ভয়াবহ সব ঘটনা আছে অন্য কোথাও? সেসব বেরিয়ে আসতে শুরু করলে কারো মুখ দেখানোর উপায় থাকবে? না মানুষ ছেড়ে কথা বলবে?

বাংলাদেশের আর যে বিষয়ে উন্নতি হোক লেখাপড়ার বারোটা বেজে গেছে। ভিকারুননিসার এই মেয়েটি অরিত্রী যদি আত্মহত্যা না করতো আমরা জানতেই পারতাম না আসলে কি ঘটছে । এ ধরনের ঘটনা তাই ধামাচাপা দেয়ার লোকের অভাব নেই। সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচনের প্রাক্কালে হিসেব-নিকেশের নামে যেন ঘটনাটি চাপা পড়ে না যায়। এর যথাবিহিত শাস্তি না হলে কারো বাচ্চাই নিরাপদ না।

অরিত্রীর লাশের বোঝা বহনকারী স্কুলটির নামও বদলানো দরকার। বেগম রোকেয়া, জাহানারা ইমাম কিংবা তারামন বিবি যে কারো নামে নামাকরণ করা যেতে পারে। এতে একদিকে যেমন তার নামের পাপ লাঘব হবে তেমনি স্কুলটি ফিরে পেতে পারে নতুন জীবন। তবে সবার আগে চাই অরিত্রী হত্যার ন্যায় বিচার। তা না হলে এই কিশোরীর আত্মা কাউকে ছেড়ে কথা বলবে না।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ