প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘জীবনের শেষ প্রান্তে এসে ড. কামাল এত বড় বেঈমানী করতে পারলেন?’

নিঝুম মজুমদার : পেছনে ধানের শীষের প্রতীক, ভোট দিন স্লোগান আর নীচে বসে রয়েছেন কামাল হোসেন সাহেব, সুলতান মনসুর সাহেব, রব সাহেব, রেজা কিবরিয়া সাহেব। আজকের দিনের জন্য এর থেকে ভয়ংকর ছবি আর কি হতে পারে? পুরো ব্যাপারটিকে মনে হচ্ছিলো এক পরাবাস্তব জগতের রূপকথা। মনে হচ্ছিলো এক ফেইরী টেইলের জগতে বসে রয়েছি, চারিদিকে এক অসীম শূন্যতা, অসীম বিষাদ।

ডক্টর কামালের বুদ্ধিবৃত্তিক প্যারামিটার ঠিক এই স্থানে চলে আসবে এটি আমার মত এই সময়ের যুবকের জন্য কল্পনা করা রীতিমত কঠিন-ই নয় বরং এটি দেখতে পাওয়া অনেকটা কষ্টের। এই কষ্ট ঠিক কিসের কষ্ট, এই বিষাদ ঠিক কিসের বিষাদ, বিশ্বাস করুন, আমার একদম জানা নেই।

ধানের শীষে নির্বাচন করবে বলেই কি এই এতদিনের হুম-ধাম-উল্টে ফেলবো-ঠিক করে ফেলবো-পরিবর্তন করে ফেলবো’র ডাক? এই কি তবে সে তথাকথিত পরিবর্তনের সূচনা? এই কি তবে সেই পরিবর্তনের ইঞ্জেকশন জেটি এই তরুনদের পাছায় গত একটি বছর ধরে দেবার সব রকমের চেষ্টা করে আসছিলেন কামাল সাহেব?

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এত বড় বেঈমানী তিনি বাংলাদেশ জাতির সাথে করতে পারলেন? এই তাঁর কথায় কথায় “সংবিধান আমি করেছি”, “আমিই বুঝি”, “আমি-ই হনু”, “আমি-ই সেই লোক” আমি আমি আমি আমি আমি আমি’র সারকথা?

পরিবর্তন, সুশাষন, গুড গভর্নেন্স, স্টেট্ম্যানশিপ, মূল্যবোধ, সমাজতন্ত্র, এণ্টি সাম্রাজ্যবাদের মূল কথা কি তবে ধানের শীষের তলে বসে পুরোনো পোকার মুখের ভেতর সকল প্রজ্ঞাকে জলাঞ্জলি দেয়া? এর-ই নাম কি পরিবর্তন কামাল হোসেন?

কামাল হোসেন, আপনি এত বড় ধোকা দিতে পারলেন এই বাংলাদেশকে? আপনি এত বড় নোংরামি করতে পারলেন এই বাঙালী জাতির সাথে?

বঙ্গবন্ধুর হত্যার সাথে যে দলের প্রধানের সরাসরি যোগাযোগ সেই জিয়ার ধানের শীষে আপনাকে আজকে দেখতে হোলো আমাদের? কামাল, আপনি এটি পারলেন? কি করে পারলেন কামাল?

কামাল হোসেন, আপনি না মুখের সকল বুলি ফুটিয়ে বঙ্গবন্ধুর কথা বলতেন?

কামাল হোসেন, আপনি না বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের কথা বলেন?

কামাল হোসেন, আপনি না আইনের শাষন চাইবার লড়াই করেন?

তাহলে ঠিক করে কামাল হোসেন… তাহলে ঠিক কি করে আজ আপনি বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীর দলের নীচে ঢুকে গেলেন? কি করে পারলেন শেখ হাসিনাকে গ্রেনেড মেরে হত্যা করতে চাওয়া খুনীর দলে ঢুকতে? আপনি কি করে পারলেন কর্ণেল তাহেরের খুনীদের দলে যোগ দিতে? কি করে পারলেন হাওয়া ভবনে ঢুকতে? একটুও কি আপনার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে ওঠেনি?

এই যে আজকের কামাল হোসেন হয়েছেন, এই যে জ্ঞানের সকল সমূদ্র সফেন হয়ে গেছেন বলে আপনি আর আপনার পাশে থাকা কুৎসিত চামচারা আমাদের বলে বেড়ান, এই যে সংবিধানের পিতা হয়েছেন বলে সারাটিদিন আপনি তীব্র আর্তনাদ ছড়িয়ে বেড়ান, এসব সব কিছুতেই আজও রয়ে গেছে বঙ্গবন্ধুর ঘ্রাণ। আপনার মত এমন এলিট বদমাশদের বঙ্গবন্ধু চিনতে ভুল করে ফেলেছিলেন, দীর্ঘ ৪৭ বছর লেগে গেলো আপনার সত্যকারের লেজটুকু বের করতে। কোথায় লুকিয়ে রেখেছিলেন এই লেজটুকু কামাল?

আমেরিকায় নাকি ইসরাইলে নাকি পাকিস্তানে?

কামাল হোসেন, আমার পুরো বুকটা বিষাদে নীল হয়ে গেছে, আমি এক ভীষন কষ্টে ডুবে গেছি। মনে হচ্ছে চোখের সামনে একটা আশ্চর্য বদমাশকে দেখলাম, মনে হোলো একটা প্রাচীন গুন্ডা তার সকল প্রজ্ঞা নিয়ে ইতরদের নেতা হয়েছে, মনে হোলো একটা নেকড়ে খামচে ধরেছে বাংলাদেশকে।

কামাল, কি করে পারলেন আপনি? ঠিক কি করে?

লেখক, ব্লগার ও অনলাইন এক্টিভিস্ট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ