Skip to main content

কিছু রাজনৈতিক দলের আস্থাহীনতার কারণেই বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা : মোহাম্মদ জমির

আমিরুল ইসলাম : নির্বাচন কমিশন এবং নির্বাচনকালীন সরকারের প্রতি কিছু কিছু রাজনৈতিক দলের আস্থাহীনতার কারণেই নির্বাচনে বিদেশি কূটনীতিকদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জমির। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, মানুষ যখন আস্থা হারায় তখন তারা একটি খুঁটি খুঁজে বেড়ায়। বর্তমান প্রেক্ষাপটে কিছু কিছু রাজনৈতিক দল লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের নামে নির্বাচনকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করছে। তাদের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হচ্ছে বলে তারা দাবি করে আসছে। যার কারণে সুষ্ঠু নির্বাচনের যতোটুকু সম্ভাবনা আমাদের রয়েছে সেটাকে বিভিন্নভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার নির্বাচন কমিশনকে প্রভাবিত করছে বা স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না বলে দাবি করছে। এগুলো সম্পূর্ণ বাজে কথা বলে মনে করেন তিনি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এবং ক্ষমতাসীন সরকার ৭০- এর বেশি রাজনৈতিক দলের সাথে কয়েকবার আলোচনায় বসেছেন। বিবেচনা হয়েছে, তাদের মতামত নেওয়া হয়েছে। মতামত ছাড়াও কোন ব্যাপারে তাদের অসুবিধা হচ্ছে, তার সমাধান জানতে চেয়েছেন। তারপরও বর্তমানে কয়েকটি রাজনৈতিক দল বিভিন্ন ব্যাপারে তাদের সমস্যা রয়েছে বলে নির্বাচনকে বিতর্কিত করছে। তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে নির্বাচনতো কারো পক্ষের দিকে নয়। বর্তমান নির্বাচন কমিশন নির্বাচনে প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য যা কিছু করার দরকার সবকিছু করছে। তারা যথেষ্ট চেষ্টা করছে, সচেষ্ট আছে। তারা বলছে , পর্যবেক্ষক আসবে, দেখবে, আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তবে বিদেশি কূটনীতিকরা যেনো কোনো সমস্যা সৃষ্টি করতে না পারে। আস্থার জিনিসটা থাকতে হবে। আমাদের দেশের সুশীল সমাজ রয়েছে। এক লক্ষাধিক লোক নির্বাচনটি পর্যবেক্ষণ করবে। আমাদের দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়া থাকবে। প্রিন্ট মিডিয়া থাকবে। আমাদের সোশ্যাল মিডিয়া আছে। আমাদের দেশে বর্তমানে চৌদ্দ কোটিরও বেশি লোক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে। সাত কোটি লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। ছয় কোটির মতো লোক ফেসবুক ব্যবহার করে। তারপরও নির্বাচন নিয়ে এতো উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। আমাদের নিজেদের উপর আস্থা রাখতে হবে। সুশীল সমাজকেও রাখতে হবে আস্থা। সবাই মিলে একত্রিত হয়ে কাজ করতে পারলে অবশ্যই একটি সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বিদেশি পর্যবেক্ষক আসার জন্য বলে তবে তারা আসবে। এতে সরকারের কোনো সমস্যা নেই। এই সরকার বিশ^াস করে সবকিছু মিলিয়ে একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়া যাবে।

অন্যান্য সংবাদ