প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সৈয়দপুরে রেলের লোহা লোপাট

ডেস্ক রিপোর্ট : নীলফামারীর সৈয়দপুরে লোহা-লক্কড়ের ব্যবসা ঘিরে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী চোরাই সিন্ডিকেট। এ সিন্ডিকেটের লোহা-লক্কড় ব্যবসার বড় উৎস সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা, রেলওয়ে সরঞ্জাম ভাণ্ডারসহ বিভিন্ন বিভাগের লৌহজাত মালামাল। এসব উৎস থেকে পাচার করা চোরাই পণ্য কিনে ভাঙ্গারি ব্যবসায়ীরা লাভবান হলেও রেলওয়ের মূল্যবান মালপত্র উজাড় হয়ে যাচ্ছে।

এসব কারবারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি না থাকায় সবই চলছে বোঝাপড়ার মাধ্যমে। ফলে বাড়ছে চোরাই ব্যবসার বিস্তার। এতে রেলওয়ে কারখানা, সরঞ্জাম ভাণ্ডারসহ অন্যান্য দপ্তরের লোহার উপকরণ দিন দিন নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। রাতের আঁধারে সাবাড় হয়ে যাচ্ছে রেলওয়ের সরঞ্জাম। আর এসব চোরাই মালপত্র প্রতিদিন গুদামজাত হচ্ছে ভাঙ্গারির মোকামে। বিশেষ করে রিরোলিং মিলগুলোতে এসব ভাঙ্গারির বিপুল চাহিদা থাকায় সৈয়দপুরে রমরমাভাবে এ ব্যবসা চলছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের গড়ে উঠেছে শতাধিক ভাঙ্গারির দোকান। এসব দোকানির কয়েকজন সিন্ডিকেট করে পরিচালনা করছে এ ব্যবসা। ফলে রেলওয়েকে ঘিরে সক্রিয় রয়েছে লোহা পাচারের একটি সংঘবদ্ধ চক্র। এ চক্র রেলওয়ের বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করে লোহা। এ সিন্ডিকেট ব্যবসা ঝামেলামুক্ত রাখতে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন ও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগসাজশ রয়েছে। ফলে প্রকাশ্যে এ ব্যবসা চললেও আইন-শৃঙ্খলা সংস্থাগুলো কোনো অভিযান চালায় না।

তবে সিন্ডিকেটের একটি সূত্র জানায়, চোরাই চক্রের অভ্যন্তরে ভাগবাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ হলে কেবল অভিযান চালানো হয়। বিশেষ করে রাতের বেলা এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত চোরাই দল মালামাল সংগ্রহ করে ব্যবসায়ীদের গোপন গুদামে পৌঁছে দেয়। এ রকম বেশ কিছু গুদাম গোলাহাট, ইসলামবাগ, মিস্ত্রীপাড়া, মুন্সিপাড়া, বিসিক শিল্পনগরীর পাশের এলাকায় রয়েছে। উচ্চ মুনাফার এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বেশির ভাগ ব্যবসায়ী রাতারাতি লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। একসময় যারা ফেরি করে বেড়াতেন, আজ তারা গাড়ি ও বাড়ি করে ফেলেছেন। ভাঙ্গারি ব্যবসার বড় মোকাম গড়ে উঠেছে শহরের মুন্সিপাড়া, সুইপার কলোনি, বাঙ্গালীপুর, বিসিক, কলা আড়ত বাজার ও রেললাইনের ধার ঘেঁষে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ ব্যবসা নির্বিঘ্ন করতে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের লক্ষাধিক টাকা মাসোয়ারা গুনতে হয়। এ মাসোয়ারার ভাগ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিম্নস্তর থেকে উচ্চস্তর পর্যন্ত পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে কিছু রাজনৈতিক নেতা ও ভুঁইফোড় পত্রিকার সাংবাদিকের কাছে চলে যায়। আর এসব ম্যানেজ করে এ শহরে চলছে ভাঙ্গারির নামে চোরাই লোহার জমজমাট ব্যবসা।

গত ৩ ডিসেম্বর বিকেলে শহরের মুন্সিপাড়ার এক ভাঙ্গারির দোকান থেকে রেলওয়ের লোহা বিসিক শিল্পনগরীর সামনের একটি মোকামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রিকশাভ্যানে করে নিয়ে যাওয়ার সময় লোহাবোঝাই রিকশাভ্যানটি এলাকার লোকজন আটক করেন। পরে শহরের চোরাই লোহা সিন্ডিকেটের এক সদস্য এসে লোকজনকে হুমকি-ধমকি দিয়ে তা ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। অবশ্যই ওই চোরাই লোহা সিন্ডিকেট সদস্য সৈয়দপুর পৌর আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার খুব কাছের লোক বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী বলেন, ‘সরকারিভাবে ঠিকাদাররা রেলওয়ে কারখানার অপ্রয়োজনীয় মালপত্র দরপত্রের মাধ্যমে কেনেন। পরে আমরা তা তাদের কাছ থেকে কিনে স্থানীয়ভাবে বিক্রি করি।’

রেলওয়ে সরঞ্জাম ভাণ্ডার থেকে অবৈধভাবে মালপত্র পাচারের কথা অস্বীকার করে বাংলাদেশ রেলওয়ের সৈয়দপুর জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক প্রকৌশলী এস এম রাশেদ ইবনে আকবর বলেন, ‘দরপত্রের মাধ্যমে আমরা ঠিকাদারকে যে মালপত্র সরবরাহ দিই, তা স্থানীয়ভাবে ব্যবহারের কোনো সুযোগ নেই। আর তা দরপত্রের শর্তাবলিতে রীতিমতো উল্লেখ থাকে।’
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ