প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী বছরে আতঙ্ক কাটছে না বিনিয়োগকারীদের

ভোরের কাগজ : সব দলের অংশগ্রহণে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে- এটি এখন অনেকটাই নিশ্চিত। সারা দেশে নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। তবে নির্বাচন নিয়ে এখনো এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা। তারা বলছেন, বিএনপিসহ সব দলের অংশগ্রহণে একাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও সেই নির্বাচনের পরিবেশ কেমন হবে তা নিশ্চিত নয়।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হলেও এক ধরনের অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে। কোন দল সরকার গঠন করবে, নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারবে না। ফলে বিনিয়োগ কিছুটা হলেও মন্থর হবে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা শঙ্কা দেখা দেয়াই স্বাভাবিক।

বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রায় তিন মাস ধরে পুঁজিবাজারে এক ধরনের অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে। ফলে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স প্রায় এক বছর আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। কমেছে লেনদেনের গতি। বাজার মূলধনেও পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক ডিএসইএক্স ছিল ৫ হাজার ৬০০ পয়েন্ট। সেখান থেকে ৩ ডিসেম্বর লেনদেন শেষে সূচক দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ২৯৬ পয়েন্টে। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে ডিএসইর প্রধান মূল্য সূচক কমেছে ৩০৪ পয়েন্ট। এদিকে সেপ্টেম্বর মাসে ডিএসইতে প্রতি কার্যদিবসে গড় লেনদেন হয়েছে ৭০০ কোটি টাকার ওপরে। তবে অক্টোবর মাসে বাজারটিতে অধিকাংশ দিন ৪০০-৫০০ কোটি টাকার ঘরে লেনদেন হয়। নভেম্বর মাসের শেষ দিকে এসে লেনদেনের কিছুটা গতি বাড়লেও চলতি মাসের প্রথম দুই কার্যদিবসে লেনদেন ৫০০ কোটির ঘরে রয়েছে। বাজার অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে মূলধনেও। আগস্ট মাসের শেষ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধনের পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৯৬ হাজার ২২৬ কোটি টাকা। ৩ ডিসেম্বর লেনদেন শেষ তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৮১ হাজার ৭৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ তিন মাসের বাজার মূলধন কমেছে ১৫ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা।

বিনিয়োগকারী জামাল উদ্দিন বলেন, দুই মাস আগেও জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় ছিল। ঐক্যফ্রন্টের নেতৃত্বে বিএনপি নির্বাচনে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ায় সেই অনিশ্চয়তা অনেকটা কেটে যায়। এরপর বিএনপি প্রার্থীদের মনোনয়ন ফরম ক্রয় ও জমা দেয়ার মাধ্যমে আগামী সংসদ নির্বাচন অংশগ্রণহমূলক হবে- এমনটি স্পষ্ট হয়। কিন্তু এখন যেভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল হচ্ছে তাতে নির্বাচন নিয়ে নতুন শঙ্ক দেখা দিচ্ছে। আবারো ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা একেবারে উড়িয়ে দেয়া যায় না। তিনি বলেন, আমরা ছোট বিনিয়োগকারী, পুঁজিও কম। হাউসে গিয়ে শুনি বড় বড় বিনিয়োগকারী এখন প্রায় নিস্ক্রিয়। তারা বাজার পর্যবেক্ষণ করছেন। হাউসের পরিচিতরাও এখন নতুন বিনিয়োগ না করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিচ্ছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে নির্বাচনের পর নতুন বিনিয়োগের পরিকল্পনা করছি।

ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. বখতিয়ার হাসান বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণ নিয়ে যে শঙ্কা ছিল, তা অনেকটা কেটে গেছে। তবে রাজনৈতিক সংঘাতের আশঙ্কা কাটেনি। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে আশঙ্কা-শঙ্কা-দুশ্চিন্তা তত বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকবে- এটা স্বাভাবিক। কারণ পুঁজিবাজার খুবই স্পর্শকাতর। যে কোনো বিষয়ের প্রভাব এখানে দেখা যায়। ডিএসইর এক সদস্য বলেন, নির্বাচনের মাধ্যমে কোন দল সরকার গঠন করবে, তাও নিশ্চিত নয়। আমাদের বড় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ কোনো না কোনো দলের মতাদর্শের। সুতরাং তারাও বিনিয়োগ নিয়ে এখন সতর্ক অবস্থায় আছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ