প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মহাজোটে ত্রিমুখী সংকট

ডেস্ক রিপোর্ট : চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনে মহাজোটে প্রার্থী নিয়ে সংকট লেগেছে। খোদ উপজেলা আওয়ামী লীগ এ নিয়ে ক্ষোভ-বিক্ষোভ ও জুতা মিছিল করেছে। শরিক দল ইসলামী ফ্রন্টও চ্যালেঞ্জ করছে এ প্রার্থীকে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে মহাজোটের মনোনীত প্রার্থী তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সংসদ সদস্য নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী। যার বিরুদ্ধে অনেক আগে থেকেই সোচ্চার ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ।
বিশেষ করে একাধিকবার দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বহিষ্কারের খড়গ মাথায় নিয়ে এবার বিদ্রোহী হিসেবে স্বতন্ত্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। বলছেন নির্বাচন তিনি করবেনই।

তার সঙ্গে রয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী।

যারা মহাজোটের প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বিপক্ষে জুতা মিছিল করেছেন। তার উপর উঠে পড়ে লেগেছেন ইসলামী ফ্রন্টের মনোনীত প্রার্থী সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী।
সম্পর্কে তিনি নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর চাচা হলেও মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চান সাইফুদ্দিন। এমনকি মহাজোটের প্রার্থী হতে না পারলে দলীয় মোমবাতি প্রতীকে নির্বাচন করবেন বলছেন তিনিও।

প্রার্থিতা নিয়ে চট্টগ্রামের এই আসনে মহজোটে এমনই ত্রিমুখী ভজঘট লেগেছে বলে মন্তব্য করছেন ভোটাররা। ভোটাররা মনে করছেন-এ আসন থেকে এবার আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী দেয়া না হলে মহাজোটের প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর ভরাডুবি নিশ্চিত।
ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সমপাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী এ প্রসঙ্গে বলেন, গত পাঁচবছর দল ক্ষমতায় থাকলেও ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগ ছিল বিরোধী দলে। আমাদের কোনো বিপদে-আপদে এমপিকে কাছে পাইনি। এসব কারণে অগ্রহণযোগ্য ও বিতর্কিত নজিবুল বশরকে মনোনয়ন না দেয়ার দাবিতে আন্দোলন করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা। যদি তার মনোনয়ন বাতিল করা না হয় তবে উপজেলা আওয়ামী লীগের সবাই বিদ্রোহী হবে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা মামুন বলেন, নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী গত পাঁচবছর অনেক অনিয়ম-দুর্নীতি করেছেন। এলাকায় দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন করেননি। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে সমপর্ক রাখেননি বরং বিভিন্ন সময় নেতাকর্মীদের মধ্যে বিরোধ উস্কেছেন।
গত ৪ঠা অক্টোবর ফটিকছড়ির আজাদী বাজারে গণ্ডগোল পাকিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী মোশাররফ হোসেনের পথসভা বানচালের জন্যও নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে দায়ী করছেন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা।

১৬ই অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর নামে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ফলক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উপজেলা আওয়ামী লীগকে দাওয়াত না দেয়ায় সেই বিরোধ আরও চরম রূপ নেয়। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা রুখে দেয় ভাণ্ডারীর পথসভা। পরে বাধ্য হয়ে গতিপথ ঘুরিয়ে এমপি ভাণ্ডারী ও তার অনুসারীরা নাজিরহাট-সুয়াবিল-কাজীরহাট হয়ে হেঁয়াকোতে যান।

সর্বশেষ গত ১লা ডিসেম্বর শনিবার সকালে ফটিকছড়ি উপজেলা সদরে মহাজোটের প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীকে নৌকার প্রার্থী দেয়ার প্রতিবাদে এবং আওয়ামী লীগ থেকে প্রার্থী ঘোষণার দাবিতে জুতামিছিল করে উপজেলা আওয়ামী লীগ।
ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতাকর্মীদের দাবি, শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে যেন থাকেন এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। ইতিমধ্যে তারা দেন-দরবারও শুরু করেছেন। সিনিয়র নেতাদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করছেন তৃণমূল নেতারা।

এটিএম পেয়ারুল ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, এমপি ভাণ্ডারী এলাকার সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ীদের নিয়ে রাজনীতি করছেন। ২০০১ সালে তিনি বিএনপি থেকে নির্বাচন করে হেরে যান। গতবার মহাজোট থেকে এমপি হয়ে ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের মধ্যে বিরোধের জন্ম দেন ভাণ্ডারী।
তিনি বলেন, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত নেই। প্রয়োজনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়বো। দল বহিষ্কার করলে করুক।
উল্লেখ্য, ১৯৮৯ সালে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এটিএম পেয়ারুল ইসলাম। ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলেও বিএনপিপ্রার্থী সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর নিকট পরাজিত হন তিনি। ২০১৪ সালে দশম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নবাগত খাদিজাতুল আনোয়ার সনিকে দেয়া হলে এটিএম পেয়ারুল ইসলাম বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেন। যদিও পরে তিনি নির্বাচনে অংশ নেননি। তবে ওই নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হন আওয়ামী লীগ নেতা মরহুম ড. মাহমুদ হাসান।

এবার নজিবুল বশরকে চ্যালেঞ্জ জানাতে নির্বাচনের মাঠে নেমেছেন তাঁরই চাচা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। ইসলামী ফ্রন্টের মোমবাতি প্রতিকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তিনি। প্রথমবারের মতো তিনি ভোটের মাঠে নেমেছেন।
প্রার্থিতা নিয়ে সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী বলেন, চট্টগ্রাম-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি। প্রথমত নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে চাই। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনাও হচ্ছে। তবে বিকল্প হিসেবে মোমবাতি প্রতীকও রেখেছি।

তবে মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী মনে করেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় সংগঠন। দলের ভেতর নানা মত থাকবে- এটাই স্বাভাবিক। এখানে দলের চাইতে মার্কা বড়। তাই নৌকা যেহেতু তাকে দেয়া হয়েছে, সবাই তার পক্ষেই কাজ করবেন।
তিনি বলেন, গত পাঁচ বছরে ফটিকছড়িতে কয়েকশ’ কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। অনেক বড় বড় প্রকল্পের কাজ এখনও চলমান। মানুষ শান্তিতে আছে। নিশ্চয়ই এসবের মূল্যায়ন করবেন ভোটাররা।

স্থানীয়দের মতে, ফটিকছড়ি আসনে মাইজভাণ্ডারী তরীকতপন্থিদের প্রায় এক লাখ ভোট আছে যেখানে এবার ভাগ বসাবেন সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভাণ্ডারী। ফলে মহাজোটপ্রার্থী নজিবুল বশরের জন্য ভোটের তরী পাড়ি দেয়া আরও কঠিন হবে।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ