প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বিএনপি জোটে দ্বন্দ্ব নেই
চট্টগ্রামে ভোটের মাঠে নেতা-কর্মীরা

ইনকিলাব : চট্টগ্রাম অঞ্চলে প্রার্থী নিয়ে আওয়ামী লীগ এবং মহাজোটে কলহ-বিরোধ থাকলেও সেদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে বিএনপি জোট। ভোটের লড়াইয়ে একাট্রা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শরিকেরা। গায়েবি মামলা, হুলিয়া আর ধরপাকড় উপেক্ষা করে মাঠে নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটের দিনটিকে সামনে রেখে ধানের শীষের পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি করতে মরিয়া সবাই। জোটের নেতারা বলছেন, এ অঞ্চল জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির দুর্জয় ঘাঁটি। এ অঞ্চলের মানুষ অন্যায় জুলুম ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে। নির্বাচনে বীর চট্টলার ভোটারেরা আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করবে।
ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টিসহ বৃহত্তর চট্টগ্রামের চার জেলার ১৯টি আসনে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের একাধিক প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ে অনেকটা একতরফা বিএনপির হেভিওয়েট আট নেতার মনোনয়নপত্র বাতিল করে দেয় রিটার্নিং কর্মকর্তারা। বাদ পড়া এসব নেতারা নির্বাচন কমিশনে আপিল করেছেন। তাদের প্রত্যাশা আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পাবেন সবাই। জায়ান্ট নেতাদের প্রার্থিতা বাতিল হলেও প্রতিটি আসনে একাধিক বিকল্প প্রার্থী রয়েছে।
এর মধ্যে চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের ছয়টিতে এবং তিন পার্বত্য জেলার দু’টিতে বিএনপি জোটে একক প্রার্থী প্রায় নিশ্চিত। বাকি আসনগুলোতে আপিল নিষ্পত্তির পরই দ্রæতসময়ে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত মেনে এ অঞ্চলের ১৯টি আসনে ৭০ জন নেতা মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। যাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে তারা সবাই নেমে পড়েছেন মাঠে। চালিয়ে যাচ্ছেন কৌশলি প্রচারণা। উঠান বৈঠক, ঘরোয়া সভা, গণসংযোগ, নেতাকর্মীদের সাথে মতবিনিময় করে ভোটের লড়াইয়ের প্রাথমিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।
দুই-একদিনের মধ্যে এ অঞ্চলের ১৯টি আসনের বাকি আসনগুলোতে একক প্রার্থী চ‚ড়ান্ত করবে ঐক্যফ্রন্ট। মনোনয়নপ্রত্যাশীরা তখন দলের সিদ্ধান্ত মেনে একক প্রার্থী তথা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামবেন বলে জানান দলের নেতারা। বিএনপির সিনিয়র কয়েকজন নেতার সাথে আলাপ করে জানা যায়, দলের হাইকমান্ডের সিদ্ধান্ত মেনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলা হয়েছে। মনোনয়ন প্রত্যাশীদের সকলের কাছে এ বার্তা পৌঁছে গেছে। দল এবং জোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করা ছাড়া বিকল্প কোনকিছু চিন্তা করারও সুযোগ নেই। দীর্ঘ একযুগ ক্ষমতার বাইরে বিএনপি।
ওয়ান ইলেভেন পরবর্তী রাজনৈতিক সিডরের পর টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের জুলুম নির্যাতনে বিপর্যস্ত বিএনপি নেতা-কর্মীরা। তারপরেও তারা দলের হাল ধরে আছেন। একসময় নেতায় নেতায় দ্ব›দ্ব থাকলেও এখন সে অবস্থা নেই। দলের চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাবন্দী। দলের দ্বিতীয় প্রধান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশে আসতে পারছেন না। এ অবস্থায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে নির্বাচনকে জীবনপণ লড়াই মনে করছেন দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। আর এজন্যই সকল প্রকার কলহ-বিরোধ আর ভেদাভেদ ভুলে তারা এককাতারে সামিল হয়েছেন বলে জানান দলের নেতারা।
ধানের শীষের ছয় প্রার্থী বিএনপির তিন শীর্ষ নেতা কারাগারে। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনের প্রার্থী নগর বিএনপির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনের প্রার্থী দলের ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী এবং চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুÐ) আসনের প্রার্থী দলের যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী। চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আ ন ম শামসুল ইসলামও কারাগারে। কারাগারে আছেন রাঙ্গুনিয়া ও স›দ্বীপ আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী কুতুব উদ্দিন বাহার ও ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন। একের পর এক নতুন নতুন মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হচ্ছে। কারাগারে বন্দী আছেন বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, নগর বিএনপির সেক্রেটারি আবুল হাশেম বক্করসহ আরও কয়েকশ নেতা-কর্মী।
উচ্চ আদালত থেকে জামিনে কারামুক্ত হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে ফের গ্রেফতার করা হয়েছে বেশ কয়েকজন নেতাকে। গায়েবি মামলায় ধরপাকড় বন্ধের দাবি জানিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনে একাধিকবার স্মারকলিপিও দিয়েছে বিএনপি। কিন্তু তারপরও পুলিশি হয়রানি বন্ধ হয়নি।
আসন বণ্টন নিয়ে শরিকদের সাথে কোন জটিলতা হয়নি বিএনপির। ২০ দলীয় জোটের শরিক কর্নেল অব. অলি আহমদ বীর বিক্রমকে চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে বিএনপি জোটের একক প্রার্থী দেয়া হয়েছে। জোটের অপর শরিক জামায়াতের নায়েবে আমির আ ন ম শামসুল ইসলামকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়েছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনে। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন অপর শরিক দল কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম বীরপ্রতীক। সেখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিনও মনোনয়ন প্রত্যাশী। তার প্রার্থীতা বাতিল হলেও আপিলে তা ফেরত পাওয়ার আশা করছেন তিনি।
খুব শিগগির এ আসনেও একক প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি জোট। বিএনপি জোটের ভিআইপি প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী) আসনে নগর বিএনপির সভাপতি কারাবন্দি ডা. শাহাদাত হোসেন চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে এবং দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে একক প্রার্থী হিসেবে ভোটের মাঠে রয়েছেন। বাকি আসনগুলোতে বিএনপির একাধিক প্রার্থী আছেন। তিন পার্বত্য জেলাতেও বিএনপির বিকল্প প্রার্থী রয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত