প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টেস্ট অনীহার অভিযোগ অস্বীকার রুবেলের

কালের কন্ঠ :  ‘যাই, (ক্যারিয়ারের) শেষ ম্যাচটি খেলে আসি’, মাঠে নামার আগে নাকি এই এত দিন পরও কথাটা বলেন রুবেল হোসেন। ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ত দুই ফরম্যাটে নিয়মিত পেসার অবশ্য প্রসঙ্গটা তুলতেই হাসেন, ‘না, ওরকম কিছু না।’ মাস ছয়েক আগের রুবেল হোসেন এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী। তাই মিনমিন করে নয়, টেস্ট খেলতে না চাওয়ার অভিযোগকে ‘মিথ্যা কথা’, ‘রটনা’ বলে উড়িয়ে দেন ক্ষোভের সঙ্গে। আবার ঘরের মাঠে টেস্টে ব্রাত্য হয়ে যাওয়ার বিষয়টিকে দুঃখজনক বলেও মেনে নিচ্ছেন নীরবে।

ক্রিকেট ম্যাচের রং বদলানোর মতো করে গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সংবাদমাধ্যমের সামনে অনুভূতির সব কুঠরির কবাটই উন্মুক্ত করে দিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ডেথ বোলিং বিশেষজ্ঞ, ভক্তকুলে যিনি আকর্ষক তাঁর ‘কিলার স্মাইল অ্যান্ড লুকে’র কারণে!

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের দিনগুলো কর্মহীনই কাটিয়েছেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ কোর্টনি ওয়ালশ। ঢাকা টেস্টে তো কোনো পেসারই খেলায়নি বাংলাদেশ। কোচ না হয় আড়াল নিয়ে গা বাঁচাতে পারেন। কিন্তু দেশীয় পেসারকুল? ঘরের মাঠে ব্রাত্য হয়ে পড়ার দুঃখের আঁচ ঠিকই গায়ে লাগছে রুবেলের, ‘একটু তো দুঃখজনকই। অবশ্য কন্ডিশনের কারণেই হয়তো ঘরের মাঠে আমরা একটা পেসারও না নিয়ে টেস্ট খেলেছি। তাতে আমরা সফলও হয়েছি। দলের পরিকল্পনা হয়তো এটাই ছিল। তবে পেস বোলারদের জন্য একটু তো খারাপ লাগবেই।’

সেই ‘খারাপ লাগা’টা আবার নতুন চ্যালেঞ্জের সামনেও দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে রুবেল অ্যান্ড কম্পানিকে। টেস্টে স্পিনাররা যখন নাকানি-চুবানি খাইয়েছে ক্যারিবীয়দের, তেমনটা কি ওয়ানডেতে পারবেন পেসাররা? পরোক্ষ সে চাপ অতীত সাফল্য দিয়ে অনায়াসে বয়ে বেড়ানোর ঘোষণাই দিয়েছেন রুবেল, ‘অবশ্যই আমরা সে ক্ষমতা রাখি। ওয়াডেতে অনেক ম্যাচই পেসাররা জিতিয়েছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরেও আমরা ম্যাচ জিতিয়েছি। এখানেও (দেশে) পারব। কারণ টেস্টের মতো স্পিন সহায়ক উইকেট হবে না।’

মাশরাফি বিন মর্তুজা, মুস্তাফিজুর রহমান ও রুবেল হোসেন—ওয়ানডেতে সমীহ জাগানিয়া পেস আক্রমণ বাংলাদেশের। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপকে সামনে রেখে এ ত্রয়ীর সঙ্গে একজন পেসার-অলরাউন্ডার একাদশে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও আরিফুল হককে স্কোয়াডে রাখা সে লক্ষ্যেই। তাতে সেমি পেস কোয়ার্টেট দাঁড়িয়ে যায় বাংলাদেশ দলের, নিজেদের স্পিন সহায়ক কন্ডিশনে!

দলীয় পরিকল্পনার মতো জটিল অঙ্কে অবশ্য গেলেন না রুবেল হোসেন। তবে সব শেষ ক্যারিবীয় সফর থেকে দুর্দান্ত বোলিং করে যাওয়া বাগেরহাটের এ যুবক গুরুত্বপূর্ণ জায়গা জুড়ে আছেন বাংলাদেশ দলের গেম প্ল্যানে। বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সেটুকু পরিকল্পনা খুব ভালো করে জানেন রুবেলও, ‘আমি ৯ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি। তাতে অবশ্যই কিছু অভিজ্ঞতা হয়েছে। এর পরও ডেথ ওভারে (ইনিংসের শেষভাগে) বোলিং নিয়ে অনেক কষ্ট করছি। আমার মূল শক্তিই ডেথে বোলিং। ওই সময়টায় আমাকে বোলিং করতেই হবে। ওই সময়টা এমন যে, ম্যাচ জেতানো যায় আবার হারানোও যায়। সে কারণে আমাকে আরো বেশি ফোকাসড থাকতে হয়।’

এই ‘ফোকাস’ হারিয়ে ফেলা নিয়ে কম গঞ্জনা সইতে হয়নি রুবেল হোসেনকে। একটা সিরিজ ভালো তো পরেরটিতেই নিজেকে হারিয়ে খুঁজেছেন তিনি। ফর্মের তুঙ্গ থেকে তলানিতে নেমেছেন দ্রুতগতিতে। দলে নিয়মিত হতে অনেকটা সময় পেরিয়ে গেছে তাঁর। সবশেষ ১৪ ওয়ানডের সবকটিতে উইকেট নিয়েছেন, রানও আটকে রুবেল এখন নিয়মিত। টি-টোয়েন্টিতেও তা-ই। নিজেও বলছেন, ‘গত দু-তিনটি সিরিজ আমি খুব ভালো ছন্দে আছি। যদি সুযোগ পাই আমার সেরা ক্রিকেটটা খেলার চেষ্টা করব।’

চেষ্টা তিনি টেস্ট ম্যাচ বোলিংয়ের জন্যও নাকি করেন। তবু দলের টেস্ট ভাবনায় রুবেল এক অর্থে হারিয়েই গেছেন। সামর্থ্যের চেয়ে টেস্টের প্রতি তাঁর অনাগ্রহের ভূমিকাই বেশি বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও এ ধারণা কাল জোর গলাতেই উড়িয়ে দিয়েছেন রুবেল, ‘এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা! এ ধরনের কথা কারা ছড়িয়েছে জানি না। আমি কেন টেস্ট খেলতে চাইব না? ক্রিকেট আমার রুটি-রুজি। এটার ওপরেই আমি চলি। এটার সঙ্গে প্রতারণা করার কিছু নেই। আমি কখনোই বলি নাই যে আমি টেস্ট খেলতে চাই না। যদি তা-ই হবে, তাহলে বিসিএলে (বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগ) বোলিং করছি কেন? যদি উপভোগ না-ই করতাম, তাহলে তো এটা (প্রথম শ্রেণির ক্রিকেট) এড়িয়েই চলতাম।’

বাইশ গজে কোনো ব্যাটসম্যান এমন প্রশ্ন তুললে নির্ঘাৎ বাউন্সারই দিতেন রুবেল হোসেন!

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ