প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে সনদ ও ক্রেস্ট বিতরণ
প্রশিক্ষণ, বৃত্তি ও চাকরির ব্যবস্থা করছে টিটিটিআই

মিল্টন খন্দকার, গাজীপুর প্রতিনিধি: দেশের বেকার সমস্যা সমাধান করতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে গাজীপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কর্তৃক পরিচালিত ট্রাস্ট টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (টিটিটিআই)। প্রশিক্ষণের পাশাপাশি প্রশিক্ষণার্থীদেরকে মাসিক বৃত্তির ব্যবস্থা এবং পাশ করার পর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরিরও ব্যবস্থা করছে প্রতিষ্ঠানটি। এ জন্য টিটিটিআই কর্তৃপক্ষ দেশের বৃহত্তম ও প্রতিষ্ঠিত নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের সাথে যোগাযোগ করে গত ২ বছরে ৮ শতাধিক প্রশিক্ষণার্থীর কর্মসংস্থান করেছে।

চলতি সেশনেও (জুলাই-ডিসেম্বর ২০১৮) ৫৮ জন চাকুরী পেয়েছেন এবং ১০০ জনের চাকুরী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া প্রতিবছর এখানকার প্রশিক্ষণার্থীদের সরাসরি সেনাবাহিনীতে ভর্তি করানো হচ্ছে। নিজস্ব রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি দেশের বাইরেও প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবল রপ্তানী করে দেশের অর্থনীতিতে বিরাট ভূমিকা রাখছে ।

বৃহস্পতিবার প্রতিষ্ঠানটির ১৯তম সেশনের (জুলাই-ডিসেম্বর,২০১৮) প্রশিক্ষণার্থীদের মাঝে সার্টিফিকেট (সনদ) এবং প্রতিটি ট্রেড থেকে ভাল ফলাফল অর্জনকারী প্রথম তিনজনকে পুরস্কার প্রদান করা হয়। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুরস্কার বিতরণ করেন, গাজীপুর সেনানিবাসে অবস্থিত বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরীর লিমিটেডের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. আব্দুল হামিদ, এনডিসি, পিএসসি। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ লেফটেন্যান্ট কর্ণেল (অব) মো. আছয়াদুর রহমান পিএসসি। উপাধ্যক্ষ মেজর (অব) শ্যামলেন্দু কবিরাজ, প্রশিক্ষক, কর্মকর্তা ও গাজীপুর সেনানিবাসের উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

টিটিটিআই সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সালে গাজীপুরের বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরীর ক্যাম্পাসে এটি প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দেশের বিরাট সংখ্যক বেকার ও অদক্ষ জনবলকে প্রশিক্ষিত করে দক্ষ জনবলে পরিণত করা এবং বেকার সমস্যা সমাধান করার জন্য সেনাবাহিনী এ প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সেনাবাহিনীর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবার কারণে ইতোমধ্যেই দেশের সর্বমহলে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে।

এক দল দক্ষ ইন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে এখানে বর্তমানে ৮টি ট্রেডে ৬ মাস ও ৩ মাস মেয়াদী প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়। ট্রেডগুলো হচ্ছে ড্রাইভিং কাম অটোমেকানিক্স কোর্স, ওয়েল্ডিং এন্ড ফেব্রিকেশন কোর্স, রেফ্রিজারেশন এন্ড এয়ারকন্ডিশনিং কোর্স, প্লাম্বিং এন্ড পাইপ পিটিং কোর্স, মেশনরী এন্ড রড বাইন্ডিং , ইলেক্ট্রিক্যাল হাউজ ওয়েরিং, রেডিও টিভি এন্ড মোবাইল সার্ভিসিং এবং কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশন কোর্স । এসব কোর্সে ভর্তিকৃত ছাত্রছাত্রীদেরকে বিনামূল্যে প্রশিক্ষন প্রদান করা হয়। উপরন্ত বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে স্কিলস এন্ড ট্রেনিং এনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট এর প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য মাসিক বৃত্তিরও ব্যবস্থা করেছে কর্তৃপক্ষ। বর্তমান সেশনে ১০৪২ জন ছাত্র-ছাত্রী কোর্স সমাপ্ত করেন, যার মধ্যে ১৩২ জন সামরিক, ১২ জন আনসার-ভিডিপি এবং ৮৯৮ জন বেসামরিক ছাত্রছাত্রী ছিল। বেসামরিক ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ৩০০ জনকে বিশ্বব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত স্কিল এন্ড ট্রেইনিং ইনহেন্সমেন্ট প্রজেক্ট (এসটিইপি) এর মাধ্যমে বিনা টিউশন ফিতে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয় এবং প্রত্যেককে মাসিক ৭০০ টাকা বৃত্তি প্রদান করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ