প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাবনার চরকোমরপুরে হঠাৎ কুমির আতঙ্ক!

কাজী বাবলা, পাবনা: পাবনার একটি গ্রামের মানুষের মধ্যে কুমির আতঙ্ক দেখা দিয়েছে। শহর থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে দোগাছি ইউনিয়নের গ্রাম চরকোমরপুরে এ আতঙ্ক বিরাজ করছে। প্রায় ৬ফুট দৈর্ঘ কুমিরটি খাদ্য সংকটে হিংস্র হয়ে ওঠায় বিপাকে পড়েছেন গ্রামের কৃষি ও মৎসজীবীরা। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা নদী শুকিয়ে ছোট খালে পরিণত হওয়া নদীর অল্প পানিতে প্রায় ১৫দিন ধরে ভেসে বেড়াচ্ছে একটি কুমির। কুমিরটি বেশ কটি মাছ ধরা নৌকায় হামলা করলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে গ্রামবাসীর মধ্যে। ভয়ে নদীতে কেউ আর মাছ ধরতে যাচ্ছে না। নদী পাড়ের চরে গরু ছাগল চরানো এবং চরের জমিতে আবাদ করাও বন্ধ হয়ে গেছে। বনবিভাগের মাধ্যমে কুমিরটি দ্রুত উদ্ধার না করলে গ্রামের লোকজন কুমিরটিকে পিটিয়ে হত্যা করার আশংকা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে চরকোমরপুর গ্রামে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। চরকোমরপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. জামাল হোসেন জানান, কয়েকদিন আগে পদ্মা নদীর চরের ছোট খালে বরশি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে হঠাৎ কুমিরটিকে মাথা তুলতে দেখি। ভয়ে আঁতকে উঠে আমি বরশি ফেলে দৌড়ে এসে সবাইকে খবর দেই। এরপর অনেকেই কুমিরটিকে দেখেছে। শুকিয়ে খালে পরিণত হওয়া পদ্মার নদীর পানিতে প্রায় ছয় ফুট লম্বা কুমিরটি ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তিনি আরো জানান, কখনো কখনো নদী পাড়ে বিশ্রামও নিতে ওঠে কুমিরটি। ফলে কুমিরের ভয়ে নদীতীরে কৃষিকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন গ্রামবাসী। গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। একাধিকবার অতি উৎসাহী যুবকরা কুমিরটিকে হত্যার উদ্যোগ নিয়েছেন। কুমির আতঙ্কে স্থানীয় মৎসজীবীদের জীবিকা বন্ধের উপক্রম হয়েছে। গেল সপ্তাহে নৌকা নিয়ে আবু তালেব নামের একজন জেলে মাছ ধরতে গেলে কুমিরের হামলার শিকার হন। হাতের বৈঠা দিয়ে কুমিরটিকে সরিয়ে কোনমতে প্রাণ নিয়ে ফেরেন তিনি।

কুমিরের হামলার শিকার আবু তালেব জানান, বেশ কয়েকদিন অসুস্থ থাকার পর এখন কিছুটা সুস্থ তিনি। ভয়ঙ্কর সে অভিজ্ঞতার কথা কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। কুমিরটি খুবই ক্ষুধার্ত, তাই প্রচন্ড হিংস্র হয়ে আছে। দ্রুত তাকে না সরালে, যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। স্থানীয়রা বিক্ষুব্ধ হয়ে কুমিরটিকে হত্যাও করতে পারে।

পাবনার জেলা প্রশাসক জসিম উদ্দিন জানান, কুমির উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খবর দেয়া হয়েছে। বিভাগীয় বন কর্মকর্তাকে এ ব্যাপারে অনুরোধ করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুততম সময়ে কুমিরটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। সে পর্যন্ত স্থানীয়দের ধৈর্য্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

পাবনার বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ আন্দোলনের আহবায়ক এহসান বিশ্বাস লিঠু বলেন, বন্যার স্রোতে দলছুট হয়ে অনেক সময় কুমির লোকালয়ে চলে আসে। এ সময় তাকে উত্যক্ত না করে নিজের মত থাকতে দিতে হবে। দ্রুততম সময়ে কুমিরটি উদ্ধার করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সংরক্ষণের দাবিও জানান তিনি।

পাবনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। রাজশাহী বিভাগীয় বণ্যপ্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কুমিরটিকে নজরদারীতে রাখতে গ্রামবাসি ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করছি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই কুমিরটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত