প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশকে ভারতের স্বীকৃতির ৪৭ বছর
নিপীড়িত সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সত্যিকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের গণপ্রজাতান্ত্রিক সরকার: ইন্দিরা গান্ধী

প্রিয়াংকা আচার্য্য: ৬ ডিসেম্বর। আজকের দিনে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ‘গণ প্রজাতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ সরকারকে স্বাধীন সার্বভৌম সরকারের স্বীকৃতি প্রদান করেন।

সেদিন সকল জনপ্রতিনিধিদের সামনে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার সাথে সাথেই অভিন্দন ও ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি-করতালিতে মুখরিত হয়ে উঠে পার্লামেন্ট হাউজ। এমনকি আনন্দ প্রকাশের জন্য স্বল্পসময়ের মধ্যেই অধিবেশন মূলতবি হয়। আনন্দে মুখরিত হয় ভারতের রাজপথ।

আর বাংলাদেশিরা অর্জন করে বিশ্বরে প্রথম রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। এ এক মাহেন্দ্রক্ষণ। যার জন্য জাতি লক্ষ লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অপেক্ষা করেছে দীর্ঘ ৯ মাস। কারণ ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণার পরপর বাঙালিদের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন জায়গা থেকে দাবি উঠতে থাকে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দানের জন্য। কিন্তু শ্রীমতী গান্ধী অত্যন্ত বিচক্ষণভাবে অপেক্ষা করেছিলেন উপযুক্ত সময় আসা পর্যন্ত।

৩ নভেম্বর ভারতের ৪টি বিমানবন্দরে পাকিস্তান সরাসরি হামলা করলে ইন্দিরা গান্ধী সেদিনই রাত দিবাগত ১২টা ২০ মিনিটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করেন।

৫ ডিসেম্বর সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে ৮০০ শব্দে লেখা এক বিবৃতি সেখানকার সংবাদ সংস্থা ‘তাস’ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, ‘ভারত-পাক যুদ্ধ থেকে নিজেদের দূরে রাখুন’। পাকিস্তানকে সমস্ত ঘটনার জন্য ও ভারতের উপর বিমান ও সশস্ত্র অভিযানের জন্য দায়ী করে বলা হয়, পাকিস্তান তার দেশের মানুষের ন্যায়সঙ্গত অধিকার অপহরণ করেছে। ইসলামাবাদের বৃহৎ বন্ধু রাষ্ট্রগুলোকে হুঁশিয়ারী করে বলা হয়, সোভিয়েত সরকার আশা করে, সমস্ত দেশের সরকার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে এমন কাজ করবে না যাতে ভারতীয় উপমহাদেশের অবস্থার অবনতি ঘটায়। এছাড়া পাক সরকারের উদ্দেশ্যে বলা হয়, তারা যেন শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তি দেয় এবং সমস্যার রাজনৈতিক বাস্তবসম্মত সমাধানে প্রবৃত্ত হন।

শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী ৬ ডিসেম্বরের বিবৃতিতে বলেন, ‘চরম পৈশাচিকতার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ যে বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম করেছে সর্বকালের সর্বদেশের সংগ্রামের ইতিহাসে তা এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করলো। বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি মানুষ যে ঐতিহাসিক ঐক্য বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পাক জঙ্গী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করে চলেছেন এবং তাদের সংগ্রামের সাফল্যে একথা আজ পরিস্কার যে তথাকথিত পাক সমিরিক শক্তি বাংলাদেশের সাড়ে ৭ কোটি জনতাকে নিজের অধীনে রাখতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামের পেছনে যে গণসমর্থন তাকে আজ আর বিশ্ব দুনিয়া অগ্রাহ্য করতে পারে না।
… তাদের সংগ্রাম, ঐক্য, তাদের স্থির প্রতিজ্ঞা, সাহস ও মনোবল, তাদের ভবিষ্যৎ বিশ্ব দুনিয়ার গোচরীভূত।
…লক্ষ লক্ষ শরণার্থী আমাদের দরজায় এসে দাঁড়ালে আমরা তাদের মুখের উপর কপাট বন্ধ করে দিতে পারিনি। আমরা পারিনি ঐ সাড়ে ৭ কোটি মানুষকে একটা হিংস্র পাশব শক্তির শিকার হতে দিতে। স্বাভাবিকভাবেই তাদের প্রতি আমাদের সমবেদনা ছিল। কিন্তু ঐ নতুন দেশকে স্বীকৃতি দিতে গিয়ে আমরা ভাবাবেগে পরিচালিত হইনি, ঘটনাবলীর আনুপূর্বিক বিশ্লেষণ শেষেই আমরা এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি যে ঐ নিপীড়িত সাড়ে ৭ কোটি মানুষের সত্যিকারের প্রতিনিধি বাংলাদেশের গণপ্রজাতান্ত্রিক সরকার।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ