প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পর্দায় ‘ভয়ংকর বিষু’ বাস্তবে ডিপজল সাধারণ মানুষ

মহিব আল হাসান : ঢাকাই সিনেমার এক সময়ের দাপুটে খলনায়ক মনোয়ার হোসেন ডিপজল। অভিনয়কে ভালোবেসে নায়ক হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তিনি পা রেখেছিলেন ঢাকাই সিনেমায়। নায়ক হয়ে অভিনয় শুরু করলেও খ্যাতি অর্জন করেন ভিলেন চরিত্রে অভিনয় করে। পর্দায় একসময় ডিপজল-মান্না জুটির বেশ খ্যাতি ছিল। সময়ের ব্যবধানে ডিপজল ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিনয় করে খ্যাতির চূড়ায় উঠেন ‘ভয়ংকর বিষু’ খ্যাত এ অভিনয়শিল্পী।

ডিপজল অভিনয়শিল্পী হিসেবে উঠে আসা, সংগ্রাম, চলচ্চিত্রের সংকটসহ নিজের ভালোলাগার নানা বিষয় নিয়ে দীর্ঘসময় সাক্ষাৎকার দিয়েছেন আমাদের সময় ডট কমকে। তার কিছু গুরত্বপূর্ণ আলাপাচারিতার বিষয় তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।

শুরুতে শারীরিক অবস্থার সম্পর্কে জানতে চাই…

ডিপজল: কথায় আছে রাখে আল্লাহ, মারে কে? আল্লাহর রহমতে বেশ ভালো আছি। ওপেন হার্ট করার পর নাকি মানুষ বাঁচে কম আবার বাঁচেও বেশি। সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা করালাম। কয়েকদিন আগে চেকআপ করালাম। এখন আমার চাওয়া, সুন্দরভাবে যেন মৃত্যুটা হয়। ডাক্তারের পরামর্শে শরীর ভালো আছে।

আপনি তো ব্যবসায়ী ছিলেন, তবে চলচ্চিত্রে আসলেন কীভাবে?

ডিপজল: আমি প্রথম দিকে ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। মনতাজুর রহমান আকবর পরিচালিত ‘টাকার পাহাড়’ ছবির মাধ্যমে ১৯৮৬ সালে আমি এতে অভিনয় করি। ছবিটি আমার ভাইয়ের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে করা হয়। সেখান থেকে চলচ্চিত্রে আসা। যদিও ছবিটি মুক্তি পায় ১৯৯৩ সালে। এরপর করলাম ‘হাবিলদার’।

‘ভয়ংকর বিষু’ হয়ে ওঠার গল্প শুনতে চাই…

ডিপজল : কাজী হায়াৎ সাহেব একদিন বললেন সিনেমা বানাবেন। ছবির নাম ‘তেজী’। ছবিতে হিরো থাকবে মান্না। আমার এই ছবিতে চরিত্র ভিলেনের। গল্প হাতে পেয়ে ভালো লাগায় ছবিটি করতে রাজি হয়ে যাই। এরপর থেকে আমার ভিলেন চরিত্রে অভিনয় শুরু। আমি আর মান্না একটা জুটি হয়ে যাই। অনেকগুলো ছবিতে একসাথে কাজ করতে দর্শকদের কাছে বেশ পরিচিত হয়ে যাই। সেখান থেকে আজকের ডিপজল আমি।

পর্দার ‘ভয়ংকর বিষু’ আর বাস্তবের ডিপজল তফাৎ কী?

ডিপজল: পর্দার ডিপজলের সাথে পর্দার ডিপজলের কোনও মিল নেই। কারণ পর্দায় দর্শকরা আমার অভিনয়টা দেখে। বাস্তব জীবনটা দেখতে পারে না। পর্দায় ডিপজল খুব খারাপ একজন মানুষ। আর বাস্তবে ডিপজল একজন খুবই ভালো মানুষ। পর্দায় ‘ভয়ংকর বিষু’ বাস্তবের ডিপজলের মিল নেই। মানুষ আমার কাছে আসলে তাকে সাহায্য করার চেষ্টা করি। সর্বদা মানুষের সেবা করতে চাই।

সরাসরি আপনাকে দেখে মানুষ ভয় পেয়েছে?

হা হা হা (হাসি) আরে ভয় পাবে কেনও? আমিও তো মানুষ। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি। কারণ আমি যখন অভিনয়ের বাইরে থাকি তখন আমার সবসময় হাসিমাখা মুখ থাকে। মানুষ আমার হাসিমাখা মুখ দেখে পর্দার কথা ভুলে যায়।

ক্যারিয়ার শুরু নায়ক হয়ে এরপর খলনায়ক, নিজের ক্যারিয়ারের পুরো বাঁকবদল হলো খলনায়ক হিসেবে। নায়ক হয়ে সাফল্য না পেয় কী খলনায়ক হলেন?

ডিপজল: আমি যেসময়টা এসেছি সেসময় সবাই নায়ক ছিল। ভিলেনের সংকট ছিল। তাই ভিলেন চরিত্রে কাজ করি। আবার নায়ক সংকট তখন আবার নায়ক চরিত্রে অভিনয় শুরু করি। আর নায়ক কিংবা ভিলেন এটা অভিনয়ের বিষয় না। অভিনয় জানলে সব চরিত্রেই দর্শক টানবে। প্রায় ১৩ বছর খলনায়ক হয়ে কাজ করছি। এখন নায়ক হয়ে করছি। যতদিন বাচব ততোদিন অভিনয় করবো।

বর্তমানে ইন্ডাস্ট্রি অবস্থার পরিবর্তন কীভাবে হবে?

ডিপজল : দেখেন এখন চলচ্চিত্রের অবস্থা খুবই খারাপ। ভালো ছবি নির্মাণ হচ্ছে না। আর এখন টিভিয়ালারা এফডিসি দখল করে নিয়েছে। সেখানে ছবির শুটিং খুব কম হচ্ছে। এখন অবস্থার পরিবর্তনের জন্য সরকারের ভুমিকা রাখতে হবে। পাশাপাশি বিদেশী ছবিগুলো বন্ধ করতে হবে। চলচ্চিত্রের অভিনয় শিল্পীর সংকট সেটি পূরণ করলেই পরিবর্তন হবে।

চলচ্চিত্রযোদ্ধার বলেন চলচ্চিত্র ধ্বংসের জন্য অশ্লীলতা দায়ি, আপনি সেটা কীভাবে দেখছেন?

ডিপজল: অশ্লীলতার চেয়েও বড় যুগ এখন এসেছে না? ফিল্ম ধ্বংস করে দিয়েছে। অশ্লীলতা যারা করত সেটা বন্ধ করা হয়েছে। কিন্তু এখন যারা ইন্ডিয়ান ছবি এনে এদেশে চালাচ্ছে সেটা অশ্লীলতার চেয়ে বড়। যেটা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইন্ডিয়ান ছবি বাংলাদেশকে আরও বেশি ধ্বংস করে দিয়েছে। কালচারই পরিবর্তন করে দিয়েছে। ইন্ডিয়ান ছবি চলছে বাংলাদেশে।

এই পরিস্থিতিতে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যত কী অবস্থা দেখছেন?

ডিপজল: ইন্ডাস্ট্রি তো এখন বন্ধই হয়ে গেছে। কোনও আলো দেখা যাচ্ছে না। সিনিয়র ডিরেক্টররা নেই, নেতারা নাই; মারা গেছেন বেশিরভাগ। দিলীপ বিশ্বাসও ভালো লোক ছিলেন। আমজাদ ভাই অসুস্থ। এই টাইপের লোক নাই। যার কারণে চলচ্চিত্রের অবস্থা পরিবর্তন হতে সময় লাগবে।

প্রথম কবে প্রেমে পড়েছিলেন?

ডিপজল: আমি প্রেম বুঝি না। প্রেম মানে; বিয়ে করেছি অল্প বয়সে। ওদের নিয়েই ভালোবাসা। পরিবারটাই আমার আসল বিষয়। আমার ছেলে মেয়েকে বিয়ে দিয়েছি । এখন ওদের নিয়ে ভালোই আছি।

খলনায়ক হতে চাইলে একজন তরুণ শিল্পীর কী কী যোগ্যতা থাকা চাই?

ডিপজল: ভিলেনকে সবসময় হিরো চেয়ে সুন্দর হতে হবে। তাকে দেখতে যেন ভয়ংকর রূপে দেখা যায়। তার কন্ঠের বজ্রতা থাকতে হবে।

বেশিরভাগ শিল্পী খলনায়ক না হয়ে নায়ক হতে চায় কেন?

ডিপজল : আসলে এখন যারা কাজ করতে আসেন তারা অভিনয় শিল্পী না। তারা একপ্রকার তারকা অর্জনে আসেন। তারা কখনও বোঝেন না পর্দায় ভিলেনের সময়টা বেশি থাকে।

চলচ্চিত্রে বেশকিছু ছবি প্রযোজনা করেছেন, এখন কেনও করছেন না ?

ডিপজল : আমি অসুস্থার জন্য কিছুটা সময় বিরতি নিয়েছি। এখন আবার শুরু করতে চাচ্ছি। আশাকরি আগামী বছর থেকে ছবি বানাবো।

প্রিয় কাজ?

লেখালেখি বেশি করি। আর ফিল্ম নিয়েই থাকতে চাই। সাতটা গল্প লিখছি।

প্রিয় মানুষ?

ডিপজল: বাবা-মা ছিল; মারা গেছেন।

প্রিয় জায়গা?

ডিপজল: মসজিদ; নামাজঘর।