প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কখনো চাইবো না স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নিক : রানা দাশগুপ্ত

আশিক রহমান : বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে কখনো চাইবো না স্বাধীনতাবিরোধীরা ক্ষমতায় এসে একাত্তরের পরাজয়ের বদলা নিক। আমরা সব সময়ই চাই বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার ও সংসদ হোক। বাংলাদেশকে পাকিস্তান বা মধ্যপ্রাচ্যের কোনো রাষ্ট্রের মতো পরিণত করে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাক তা তো আমি চাই না। আমি ব্যক্তিগতভাবে নয়, যে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব করছি আমি, সেই সম্প্রদায়ের সিংহভাগ মানুষ এই ধারায় মতপোষণ করেন।

এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘুদের আতঙ্ক ও উদ্বেগের কথা গত কয়েকমাস ধরেই বলে আসছি। যদি প্রশ্ন করেন, এই উদ্বেগ-শঙ্কার ভিত্তি কী? নব্বই-পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত যতোগুলো নির্বাচন হয়েছে, নির্বাচনের পূর্বাপর সময়ে আমরা লক্ষ করেছি যে, একটি বিশেষ মহল ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে অব্যাহতভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য আছে বলে আমার মনে হয়। সংখ্যালঘুদের বাংলাদেশ থেকে তাড়িয়ে দেওয়া। এর মাধ্যমে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীকে ক্রমাগতভাবে কমিয়ে ফেলা। এরা হচ্ছে সেই শক্তি, যারা গণহত্যা, ধর্ষণ করে ভেবেছিলো পাকিস্তানকে রক্ষা করতে পারবে। কিন্তু সে সময় তাদের সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। কিন্তু এখনো সে লক্ষ্য থেকে তারা সরে এসেছে বলে মনে হয় না।

তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আমলে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের চেতনার যে লড়াই হয়েছিলো, সেখানে সংখ্যালঘুদের পূর্ণ সহযোগিতা ও একাত্মতা ছিলো। এই ভাষা ও সাংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদী চেতনায় বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ করেছে একাত্তরে। মুক্তিযুদ্ধে তাদের সার্বিক অবস্থান ছিলো। সংখ্যালঘুদের মধ্যে কোনো রাজাকার, আলবদর, আলসামস ও শান্তি কমিটি ছিলো না। স্বাধীনতা আন্দোলনের সময়ে তারা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছে। ফলে ভাষা ও সংস্কৃতিভিত্তিক জাতীয়তাবাদের যে স্পিরিট, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের স্পিরিট তার থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। আমরা নির্বাচনেও সেই স্পিরিট ধারণ করা রাজনৈতিক শক্তির সঙ্গে থাকবো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ