প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শিক্ষক কেন নিষ্ঠুর?

মাসুদ কামাল : নগরীর সেরা হিসেবে পরিচিত ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের নাম এখন প্রতিটি সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামে। সাধারণ মানুষের আলোচনায়। তবে এবারের আলোচনা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলের জন্য নয় বরং শিক্ষকদের আচরণের জন্যে। ইন্টেরেস্টিং হচ্ছে, এই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষকদের কারণে যতোবার আলোচনায় এসেছে ততোবারই সেটা হয়েছে নেতিবাচক বিষয় নিয়ে। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি।

অরিত্রী নামের মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। মেনে নিতে পারেনি তার শিক্ষকের কাছে কাছে পিতামাতার অপমান। গলায় দড়ি দিয়ে নিজের জীবনাবসান ঘটিয়েছে সে। এ নিয়ে হৈচৈ, শিক্ষার্থী ও অভিভাকদের বিক্ষোভ এবং তিনদিনের মাথায় সরকারের ব্যবস্থাগ্রহণ। সরকার গঠিত তদন্ত কমিটি এই ঘটনার জন্য প্রধান শিক্ষকসহ তিনজনকে দায়ী করেছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেয়ার কথা বলা হয়েছে। সরকারের এই দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি প্রশংসনীয়। কিন্তু তারপরও কি পরিবর্তন আসবে শিক্ষকদের আচরণে?

ভিকারুননিসা দেশের সবচেয়ে নামী স্কুলগুলোর একটি। কিন্তু এর চেয়ে অনেক কম পরিচিত স্কুলের পরিবেশ কি এর চেয়ে খুব বেশি ভালো? এ প্রশ্নের জবাব পেতে জনে জনে তদন্ত করার দরকার পড়ে না। প্রত্যেকে তার নিজের অভিজ্ঞতার দিকে তাকালেই বিষয়টা উপলব্ধি করতে পারবেন। আপনি হয়তো আপনার অফিসে বেশ বড় একজন কর্মকর্তা, অনেকের কাছ থেকে সম্মান পেয়ে থাকেন। সেই আপনি যখন আপনার সন্তানের স্কুলে যান, কি ব্যবহার পান? সন্তানের স্কুলে কেউ বেড়াতে যায় না, তার লেখাপড়া বিষয়ে খোঁজখবর নিতে কিংবা কোনো বিষয়ে নিজের মতামত দিতেই যায়। কিন্তু কতোটুকু সাদরে গ্রহণ করা হয় সেই অভিভাবককে? আমার নিজের অভিজ্ঞতা কিন্তু মোটেই ভালো নয়।

দেশের স্কুল এবং তার শিক্ষকদের ব্যবসায়িক মনোভাব নিয়ে এর আগে কম কথা হয়নি। এমন কোনো শিক্ষক পাওয়া কঠিন যিনি বাইরে প্রাইভেটে পড়ান না। স্কুলের ক্লাসরুম আসলে তার কোচিংয়ের জন্য ছাত্রছাত্রী সংগ্রহের একটা জায়গা। এসব নিয়ে বলতে বলতে অভিভাবকরা এখন ক্লান্ত এবং হতাশ। তারা যেন এখন এটা মেনেই নিয়েছে। এমনকি অনেকে হয়তো ওই দুর্ব্যবহারটিকেও মেনে নিয়েছেন। কিন্তু ঘটনাটি যখন তার সন্তানের সামনে ঘটে অথবা সন্তান যখন জানতে পারেন তার পিতামাতার অসহায়ত্বের খবরটি, কি প্রতিক্রিয়া হয় তার মধ্যে?

প্রত্যেকটি সন্তানের কাছে তার পিতা-মাতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বাবা তাদের প্রথম হিরো। যে সমস্যার সমাধান কেউ দিতে পারে না, তারা ভাবে সেটা তার পিতামাতার বাম হাতের কাজ। এমন একজন ক্যারেকটারকে যখন শিক্ষকদের কাছে অপমানিত হতে দেখে, নিতে পারে না তারা। তবে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, শিক্ষকরা কেন এতো নিষ্ঠুর হবেন? কেন হবেন এতোটা লোভী আর অমানবিক? এদের কাছ থেকে যারা শিক্ষা নেবে, তারা কি শিক্ষকদের ব্যক্তিগত চরিত্র ও আচার-আচরণ থেকেও শিখবে না? আজ চারদিকে যে মূল্যবোধের অবক্ষয় দেখি, সেসব কি তাহলে এই ‘শিক্ষক’ নামধারীদের অপশিক্ষারই ফসল?

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ