প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোট প্রস্তুতির ছক তৈরি বিএনপির

ডেস্ক রিপোর্ট : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের সার্বিক বিষয় নিয়ে একটি প্রস্তুতির ছক তৈরি করছে বিএনপি। এই ছকের অধীনে নির্বাচন পরিচালনাসহ সার্বিক বিষয় দেখভাল করতে ১২টি উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচন পরিচালনা কমিটি, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা কমিটি, মিডিয়া কমিটি, সোশ্যাল মিডিয়া কমিটি, অর্থ কমিটি, প্রচার কমিটি ইত্যাদি।

নির্বাচন প্রস্তুতির এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। উপকমিটি গঠনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে কালের কণ্ঠকে তিনি বলেন, এসব কমিটির দায়িত্বে কোন কোন নেতা থাকছেন এর একটি খসড়া হয়েছে। শুক্রবারের আগেই তা চূড়ান্ত করা হবে।

জানা গেছে, ১২টি উপকমিটির মধ্যে মিডিয়া কমিটির প্রধান করা হয়েছে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদকে। তিনি এবার কুমিল্লা-৫ আসন থেকে নির্বাচন করবেন। তবে ৮ ডিসেম্বর তাঁর মনোনয়ন হাইকমান্ড চূড়ান্ত করলে তিনি এ দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। সে হিসাবে এই উপকমিটির প্রধান হিসেবে দ্বিতীয় পছন্দের তালিকায় রয়েছেন সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহ।

সূত্রগুলো বলছে, শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া বিএনপি এ ব্যাপারে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতি নিয়েছে। ভোটের শেষ পর্যন্ত কেন্দ্রে থাকার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোলিং এজেন্টদের করণীয় নিয়ে এরই মধ্যে একটি খসড়াও তৈরি করা হয়েছে। ১১ দফা নির্দেশনায় পোলিং এজেন্টদের সারা দিনের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হবে।

খসড়ায় থাকা উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে—জাতীয় পরিচয়পত্র, পোলিং এজেন্ট কার্ড, মামলার জামিনের কাগজপত্র, প্রয়োজনীয় অর্থ, খাবার, ভোটার তালিকা, কাগজ ও কলম সঙ্গে নিয়ে সকাল ৭টায় প্রস্তুত হয়ে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছ থেকে স্বাক্ষর নিয়ে পোলিং এজেন্ট হওয়ার বৈধতা নিশ্চিত করা; প্রথমেই ব্যালট বাক্সের হিসাব নেওয়া, ব্যালট পেপার ও কেন্দ্রের ভোটারসংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা, চিহ্নিত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের কর্মীরা ভোট দেওয়ার সময় কোনো অতিরিক্ত ব্যালট পেপার যেন বাক্সে না ঢোকে সেদিকে খেয়াল রাখা, প্রতিটি স্বচ্ছ বাক্স লক করে নম্বর নিয়ে তা কাগজে লিখে রাখা, ভোট শেষে বাক্স লক করে নম্বর লিখে রাখা, ভোট গণনার সময় প্রতিপক্ষের ব্যালট পেপার বেশি দেখানোর অপচেষ্টার দিকে নজর রাখা, কোনো পুলিশ সিভিল ড্রেসে এলে এবং প্রতিপক্ষের কর্মীর সঙ্গে জোর করে ব্যালট পেপার নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ‘ডাকাত’ বলে চিৎকার করে বাইরের সাহায্য নিশ্চিত করা, এক সেকেন্ডের জন্যও বাইরে বের না হওয়া, গণনার পর নতুন ধরনের ভোট ডাকাতি চেষ্টার দিকে নজর রাখা, প্রতিটি বুথে ভোটারসংখ্যা অনুযায়ী ব্যালট পেপার ও বাক্স বুঝে নেওয়া ইত্যাদি।

নির্দেশনায় আরো বলা থাকছে, ভোট শেষে মূল পোলিং এজেন্টকে ব্যালট পেপার-বাক্সসহ আগের সংখ্যার সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। মূল পোলিং এজেন্ট ভোট গণনার পর ভোট বুঝে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার স্বাক্ষর দেওয়া থেকে বিরত থাকা।

সূত্র মতে, নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয়ভাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে একটি নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি আসনে কেন্দ্রভিত্তিক একাধিক কমিটিও গঠন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দলের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, ক্ষমতাসীনদের গত ১০ বছরের নানা অনিয়মের বিষয় ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিকে প্রাধান্য দিয়ে একটি লিফলেট তৈরি করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিক প্রচার শুরু হলে প্রতিটি ঘরে এই লিফলেট পৌঁছে দেওয়া হবে।

অন্যদিকে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার তৈরির কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে। তারুণ্যের জন্য পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ ২০৩০ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ গড়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এই ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের ইশতেহার কমিটি এর খসড়া স্টিয়ারিং কমিটিতে পাঠিয়েছে। স্টিয়ারিং কমিটি দ্রুতই এই ইশতেহার অনুমোদন করবে।
সূত্র : কালের কন্ঠ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ