প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মুক্ত খালেদাকে নিয়েই নির্বাচন করবে বিএনপি

বিডি২৪লাইভ : বিএনপির সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে ১১টি রাজনৈতিক দল। বুধবার (৫ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিএনপি। এর আগে ১১ নভেম্বর আটটি দল এই প্রতীকে নির্বাচন করবে বলে কমিশনকে জানানো হয়েছিল।

বুধবার বিকেলে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের নেতৃত্বে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিত ওই চিঠি ইসিতে পৌঁছে দেওয়া হয়।

এছাড়া একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘মুক্ত খালেদা জিয়াকে’ সঙ্গে নিয়েই বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দলের যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল।

তিনি বলেন, ‘আমরা সর্বশেষ সময় পর্যন্ত আশাবাদী যে, মুক্ত বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়েই আমরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো।’

আজ কমিশনকে দেওয়া চিঠিতে উল্লেখ করা নতুন তিনটি দল হলো, ড. কামাল হোসেনের দল গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি ও কাদের সিদ্দিকীর বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ।

আলাল বলেন, ‘মনোনয়ন বাতিলের আপিলের শুনানি ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। আমরা বলেছি এটা ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত না নিয়ে ৬-৭ তারিখের মধ্যে শেষ করা হোক। অতিদ্রুত শেষ করলে প্রার্থীদের জন্য মঙ্গল হবে। কারণ ৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন।’

তিনি বলেন, ‘গ্রেফতার ও হয়রানি এখনও চলছে। বাম্পার ফলন যেভাবে হয়, সেভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও গ্রেফতারের বাম্পার ফলন শুরু হয়েছে। গতকালও একজন মহিলা কমিশনারসহ ও কয়েকজন প্রার্থীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের গাড়িতে সশস্ত্র হামলা হয়েছে। সেটিও অবহিত করেছি এবং এ গ্রেফতার বাণিজ্য বন্ধে নির্বাচন কমিশনকে দ্রুত এবং জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বলেছি।’

ইসির সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘আর কোথাও যদি কেউ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না হন এমন কেউ যদি জোটে থেকে থাকেন তাদের মধ্যে যদি কেউ কোথাও আলাদাভাবে মনোনয়ন জমা দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে এমন প্রার্থীদেরকে নিজেদের চিঠি দিয়ে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ব্যবস্থা করতে হবে এবং সেই দল থেকে বলে দিতে হবে। সেই দল যদি নিবন্ধিত না হয় তারপরও নির্বাচন কমিশন তাদের কথাটা শুনবেন।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে নিবন্ধিত ৮টি দল ছিল। বিএনপির প্রতীক ধানের শীষে যারা নির্বাচন করবে। পরবর্তীতে সেখানে ১১টি দল হয়েছে। সে সম্পর্কিত একটি চিঠি ইসিকে আমরা আগেই দিয়েছিলাম। সেই চিঠিটি আবার দিয়ে পুনরায় মনে করিয়ে দিয়েছি। যাতে নির্বাচন কমিশন যে প্রচণ্ড কর্মযজ্ঞের মধ্যে আছেন কোনেও ধরনের ত্রুটির কারণে এ জিনিসটির মধ্যে যেন ভুল বোঝাবুঝি না হয়।’

এ পর্যন্ত যতগুলো চিঠি দিয়েছেন তার কতগুলোর প্রতিকার পেয়েছেন বা আপনারা নির্বাচন কমিশনের প্রতি কতটা আস্থাশীল- জানতে চাইলে আলাল বলেন, ‘আমরা নির্বাচন কমিশনের প্রতি যদি আস্থাশীল থাকতাম তাহলে তো সরকারে এখন যারা আছেন, সরকারের প্রতিনিধিদের মতো একমাস পরে একদিন আসতাম। আমাদের তো প্রতিদিনই আসতে হচ্ছে। আমাদের তো যাওয়ার আর কোনও জায়গা নেই।’

তিনি বলেন, ‘সরকার ক্ষমতায় থেকে এই প্রথম বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে। ২০১৪ সালটা অংশগ্রহণমূলক ছিলো না। যেহেতু পরিস্থিতি ভিন্ন, নির্বাচন কমিশন ছাড়া আমাদের অন্য কোনও জায়গা নেই। সুতরাং আস্থা থাকা না থাকার চেয়েও বড় প্রশ্নতো হচ্ছে যে, আমরা যাবো কোথায়? আমাদের তো এখানেই আসতে হবে। সেজন্যই আসা।’

জানা যায়, ইসিকে উদ্দেশ্য করে পাঠানো চিঠিতে ইসিকে উদ্দেশ্যে করে লেখা হয়, গত ১১ নভেম্বর দেওয়া চিঠিতে মোট আটটি দল ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে বলে আপনাদের জানানো হয়েছিল। তবে ইতিমধ্যে আরও তিনটি দল এই আট দলের সঙ্গে যৌথভাবে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করবে বলে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে—বিষয়টি আপনাদের (ইসি) অবগতি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

চিঠিতে দলীয় নিবন্ধন নম্বরসহ এই ১১টি দলের তালিকা উল্লেখ করা হয়। তালিকায় বিএনপির পরপরপরই যথাক্রমে গণ ফোরাম, জেএসডি ও বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নাম উল্লেখ করা হয়। এই চার দলের পর যথাক্রমে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি- বিজেপি, খেলাফত মজলিস, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, জাগপা, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ-এর নাম উল্লেখ করা হয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ