প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘এমপি-মন্ত্রীরা পেপসি’র বোতল’

মো. মামুন মোল্লা : স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি, বিয়ে বা অন্য কোন যে কোন অনুষ্ঠান হোক না কেন খাবারের পর হজমশক্তির জন্য পানীয় জাতীয় পেপসি বা অারসি যা কিছুই দেওয়া হোকনা কেন তার একটাই উদ্দেশ্য যাতে করে খাবারের পর এ্যাসিডিটি না হয়। যার কারণেই এই সু-ব্যবস্থাটি করা হয়। কাজ কতটুকু হবে তা কেউই জানেনা। তারপরও অামরা খুব সাদরে সেটাকে গ্রহণ করি।

বুঝে বা না বুঝেই অামাদের মধ্যেকার কোন বন্ধু বা ভাই তার মধ্যে একটু লবণ বা লেবুর রস দেয় যাতে করে অারও টেস্টি লাগে।

এরপর মনের অানন্দে যখন একটি জোরে ঝাঁকুনি মারা হয় তখন বোঝা যায় এর গতিটা কত। বোতলের মুখটা না খোলা পর্যন্ত মনে হতে থাকে এই বুঝি হাতের উপর হয়তো বোতলটা ব্লাস্ট হলো বুঝি। সেটা হলেও ভালো হতো অন্তত বোঝা যেতো তার ক্ষমতা কতটুকু। যাইহোক সেটা হওয়ার অাগেই অামরা নির্বোধের মতো বোতলের মুখটা এক সময় খুলে ফেলি যার কারনে তার বাকি রুপটা দেখা হয়না। শুধু লক্ষনীয় হয় ঝাঁকুনির কারণে যে গ্যাসটুকু উৎপন্ন হয়েছে সেইটুকু নিরবে বোতলটির মুখ গড়িয়ে বেরিয়ে যায়।

নির্বাচন অাসলে এমপি-মন্ত্রীরাও যেন এক একটি পেপসি’র বোতল হয়ে যায়। অার মিশ্রণের পরিমাণটা একটু বেশি হলে হয়ে যায় একেবারে পেপসি’র কারখানা। পেপসি’র(এমপি-মন্ত্রী) জন্য বড় অাগ্রহের সাথে হাতে হাত কাধে কাঁধ মিলিয়ে মিছিল করা হয় । মাঝে মধ্যে মিছিলের হট্টগোলে হারিয়ে যায় অামাদেরই কোন না কোন অাপন লোক। হারানোর বিনিময়ে পাই শান্ত্বনা অার অসংখ্য প্রতিশ্রুতি এ যেন কোন এক ঝাঁকুনি খাওয়া পেপসি’র বোতল।

যখন এই প্রতিনিধির পেছনে অক্লান্ত পরিশ্রম করে জয়যুক্ত করা হয় তার কিছুক্ষণ পরেই বোতলের মুখ খুলে যায় অর্থাৎ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর শপথ গ্রহণ করে নতুন ঠিকানা গড়ে, যে ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারে বড়জোড় তারই অাত্মীয়-স্বজন।

যারা লবণ মেশালো, লেবুর রঁস মেশালো অাবার কেউ বা সাদরে একটা ঝাকুনি দিলো অর্থাৎ যারা তার পক্ষে মিছিল করলো, জীবন দিলো অাবার কেউ বা বিজয়ের পর গলায় ফুলের মালা পরিয়ে দিলো তারা যেকোন কোম্পানির সক্রিয় সিম কার্ডের মতো অন্যদিকে নির্বাচিত এমপি বা মন্ত্রী কোন একটি নিষ্ক্রিয় সিমকার্ড। ডায়াল করলেই শোনা যায় -অাপনি যাকে কল করেছেন সে এখন ব্যস্ত অাছে।

অাজ লবণ, লেবুর রঁস, অার সেই ঝাঁকুনির হাতটা বড় অসহায় কারন পেপসি’টা খাবার টেবিলে অাজ নাই বরং সেটা অাছে সিড়ি বিহীন বিল্ডিংয়ের ছাদের উপরে।

অর্থাৎ নির্বাচনির এলাকার অসহায় জনগণ অাজও নিজ গ্রামে অাশায় বুক বেঁধে বসে অাছে অার এমপি/মন্ত্রী মহোদয় থাকেন মন্ত্রী পাড়ায়। এযেন টেকনাফ অার তেঁতুলিয়া।

নির্বাচিত হওয়ার পর এমপি-মন্ত্রী মহোদয়গণ কাজ করুক বা নাই করুক তারপরও তারাই অামাদের জনপ্রতিনিধি।

যাই হোক তারপরও অামাদের বারবার তাই করতে হবে যা গণতন্ত্র অামাদের চোখের সামনে রেখেছে। কিছু পাই বা না পাই তাতে কিছুই যায় অাসেনা। সর্বপরি বলতে হয় নাই মামার চাইতে কানা মামাও অনেক ভালো।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত