প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নবী সা. এর কয়েকটি প্রিয় অভ্যাস

সাইদুর রহমান: স্বাস্থ্যসম্মত, সংগঠিত এবং রুটিন মাফিক জীবনাভ্যাস মানব জীবনকে সফল করে তোলে। যেসব অভ্যাস অতীত জরুরী নি¤েœ কয়েকটি অভ্যাস তুলে ধরা হলো :
সকাল সকাল ঘুম থেকে ওঠা : রাসূল (সা.) এর অভ্যাস ছিল এশার নামাযের পরপরই ঘুমাতে যাওয়া এবং ফজরের নামাযের একটু আগেই তিনি ঘুম থেকে উঠে যেতেন। তাড়াতাড়ি ঘুমাতে যাওয়া এবং সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার উপকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবেও প্রমাণিত হয়েছে। বিজ্ঞান বলে, মানুষের সুস্থতা, সৃষ্টিশীলতা ও কর্মদক্ষতার সাথে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠার সম্পর্ক রয়েছে। হাদীসে এসেছে, সকাল বেলার আয় রোজগারেও বরকত বেশী হয়।

কম খাওয়া :কম খাওয়ার মাধ্যমে শরীরের রোগ ও অসুস্থতার পরিমাণ কমে আসে। রাসূল (সা.) এর এই অভ্যাসটি বৈজ্ঞানিকভাবেই প্রমাণিত হয়েছে। ইসলামী আচার অনুযায়ী, পেটের তিন ভাগের এক ভাগ খাবার, এক ভাগ পানি এবং এক ভাগ শ্বাস-প্রশ্বাসের জন্য খালি রাখা উচিত।

চিবিয়ে খাওয়া : মাড়ির দাত দিয়ে চিবিয়ে খেলে খাদ্য সহজেই হজম হয়। রাসূল (সা.) এটি নিজেও পালন করেছেন এবং অন্যকেও এটি পালন করার জন্য উপদেশ দিয়েছেন।
একাকী না খাওয়া : নবী সা. বলেন, “একত্রে খাও এবং একাকী নয়, একত্র হওয়ার মধ্যে কল্যাণ রয়েছে।” (ইবনে মাযাহ) অন্য হাদীসে বরকতের কথা এসেছে। একজনের খাদ্য দুইজনে খাওয়া যায়। দুইজনের খাদ্য চারজন খাওয়া যায়। এতেই বরকত। খাবারে বরকত না হওয়ার কারণ একাকী খাওয়া।

এক নিঃশ^াসে পানি পান না করা : “এক নিঃশ্বাসে পানি পান করো না, বরং দুই বা তিন নিঃশ্বাসে পান করো।” এবং বসে পান করা। পানি পান করার এটিই ছিল রাসূল (সা.) এর অভ্যাস। ধীরে পান করলে নিঃশ^াস নিতে সহজ হয়।
রোযা রাখা : হাদীসে বলা হয়েছে, তোমরা রোজা রাখো, সুস্থ থাকবে। অর্থ্যাৎ সুস্থ থাকার অন্যতম অবলম্বন হলো রোজা রাখা। যা খাদ্যাভাস নিয়ন্ত্রণ করে এবং শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করে। রোগ থেকে মুক্ত থাকা যায়।
প্রিয় নবী (সা.) এর একটি নিয়মিত অভ্যাস ছিল রোযা রাখা। তিনি শুধু রমযানেই নয়, বরং প্রতি সপ্তাহের সোমবার এবং বৃহস্পতিবার তিনি রোযা রাখতেন। এছাড়া প্রতিমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখেও তিনি রোযা রাখতেন।
কর্মঠ থাকা : ইসলামের পাঁচটি ভিত্তির মধ্যে তিনটির বাস্তবায়ন একজন মুসলিমকে সুন্দর স্বাস্থ্য ও শারীরিক কাঠামো অর্জনে সাহায্য করে। নামায এর মধ্যে একটি নিয়মিত পালনের বিষয়, যা আপনার শরীরের অঙ্গপ্রতঙ্গ ও পেশীর জন্য ব্যায়াম হিসেবে কাজ করবে। রোযা ও হজ্জ্ব একইভাবে স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট, যা আপনার সুস্থতার জন্য সহায়ক হবে।
রাসূল (সা.) শারীরিক পরিশ্রম এবং শরীরচর্চার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন। মুসলিম পিতা-মাতাদেরকে রাসূল (সা.) তাদের শিশুদের শরীরচর্চার জন্য সাতার, ঘোড়সওয়ারী এবং তীরন্দাজীর শিক্ষা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন। এবং তিনি নিজেও সাহাবীদের সাথে সাতার কাটাসহ দৌড়ে শরিক হয়েছেন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ