প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

একুশ শতকেই রিয়াল মাদ্রিদে ৮ ব্যালন ডি’অর জয়ী!

স্পাের্টস ডেস্ক : ব্যালন ডি’অর জিততে চাও, রিয়াল মাদ্রিদে যোগ যোগ দাও। বিশ্ব ফুটবলে এরকম একটা প্রবাদই চালু হয়ে গেছে। রিয়াল মাদ্রিদ মানেই ব্যালন ডি’অর বিজয়ীদের ক্লাব। সেরা হওয়ার সর্বোত্তম কারখানা। প্রচলিত হয়ে যাওয়া প্রবাদটিকে আরও শক্ত ভিত্তি দিচ্ছে পরিসংখ্যান। অতীতের হিসাব বাদ দিন। একুশ শতকে, মানে গত ১৯ (২০০০ সালকে হিসেবে ধরে) বছরেই রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছেন ৮ জন ব্যালন ডি’অর বিজয়ী।

সর্বশেষ ৬ বছরের মধ্যে ৫ বারই ব্যালন ডি’অর গেছে রিয়ালের ঘরে। এর মধ্যে ২০১৩, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৭-এই ৪ বছরই জিতেছেন ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। সেই রোনালদো রিয়াল ছেড়ে চলে গেছেন জুভেন্টাসে। কিন্তু এবারও মর্যাদার ব্যালন ডি’অর উৎসবটা হলো সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতেই। মেসি-রোনালদোর রাজত্বে হানা দিয়ে এবার পুরস্কারটা জিতে নিলেন রিয়ালের ক্রোয়েশিয়ান মিডফিল্ডার ‍লুকা মড্রিচ।

২০০০ সালে রিয়ালের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ। আর দায়িত্ব পেয়েই তিনি বড় এক চমক দেন বিশ্বকে। টাকার জোরে বার্সেলোনা থেকে ছিনিয়ে আনে লুইস ফিগোকে। পর্তুগিজ কিংবদন্তি রিয়ালে যোগ দেওয়ার কদিন পরই হাতে তুলে নেন ব্যালন ডি’অর। ফিগোর পর পেরেজ একে একে দলে ভেড়ান জিনেদিন জিদান, রোনাল্ডো রোজারিও, মাইকেল ওয়েনদের। এদের প্রত্যেকেই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। তবে জিদান ও মাইকেল ওয়েন রিয়ালে যোগ দেওয়ার আগেই ব্যালন ডি’অর জেতেন।

জিদান ব্যালন ডি’অর জেতেন জুভেন্টাসের হয়ে, ১৯৯৮ সালে। মাইকেল ওয়েন জেতেন লিভারপুলের হয়ে ২০০১ সালে। পরে তারা যোগ দেন রিয়ালে। কাকার ঘটনাটাও ঠিক একই রকম। ব্রাজিলের সাবেক এই তারকা ব্যালন ডি’অর জেতেন ইতালিয়ান ক্লাব এসি মিলানের হয়ে, ২০০৭ সালে। এরপর ২০০৯ সালে তিনি যোগ দেন রিয়ালে।

ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোও ক্যারিয়ারে নিজের প্রথম ব্যালন ডি’অরটা জেতেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে, ২০০৮ সালে। পরে রিয়ালে যোগ দিয়ে জিতেছেন আরও ৪ বার। রোনাল্ডো রোজারিও, ফ্যাবি ক্যানাভারোরাও সরাসরি রিয়ালে খেলার সময়েই ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। জিতলেন লুকা মড্রিচও।

মানে একুশ শতকে যে ১২ জন ব্যালন ডি’অরের স্বাদ পেয়েছেন, তার ৮ জনই খেলেছেন রিয়ালে। একুশ শতকে ব্যালন ডি’অর জিতেছেন কিন্তু রিয়ালে খেলেননি, এ রকম খেলোয়াড় মাত্র ৪ জন! তারা হলেন পাভেল নেদভেদ, আন্দ্রেই শেভচেঙ্কো, রোনালদিনহো ও মেসি। ছোট্ট এই তথ্যই বলে রিয়ালের সঙ্গে ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্পর্ক কতটা গভীর!

ব্যালন ডি’অরের সঙ্গে রিয়াল মাদ্রিদের যোগসূত্রটা সেই প্রতিষ্ঠার বছর থেকেই। ফ্রান্সের বিশ্বখ্যাত ফুটবল সাময়িকী ‘ফ্রান্স ফুটবল’ মর্যাদার এই পুরস্কার প্রথম প্রবর্তন করে ১৯৫৬ সালে। প্রথম সেই বছরেই সেরা তিনের দুজন ছিলেন রিয়ালের। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রথম ব্যালন ডি’অরটা জিতে নেন ইংলিশ ক্লাব ব্ল্যাকপুলের সাবেক তারকা স্তানলি ম্যাথাউস। রিয়ালের দুই প্রতিনিধি আলফ্রেডো ডি স্টেফানো ও রেমন্ড কোপা হন প্রথম ও দ্বিতীয় রানারআপ।

পরের বছরই অর্থাৎ ১৯৫৭ সালেই ব্যালন ডি’অরটা যায় রিয়ালের ঘরে। জেতেন স্প্যানিশ-আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি আলফ্রেডো ডি স্টেফানো। এবারও রানারআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয় রেমন্ড কোপাকে। কিন্তু কয়বার আর রানারআপ হয়ে সন্তুষ্ট থাকা যায়! ১৯৫৮ সালে তিনি ঠিকই করেন ব্যালন ডি’অর উৎসব। ১৯৫৯ সালে আবার পুরস্কারটা জেতেন আলফ্রেডো ডি স্টেফানো।

মানে শুরুর প্রথম ৪ বছরেই ব্যালন ডি’অরের পুরস্কার মঞ্চে বলতে গেলে একচ্ছত্র রাজত্ব ছিল রিয়ালের। সেই রাজত্বে অবশ্য দীর্ঘ ছেদ পড়ে। ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত রিয়ালের আর কেউ পুরস্কারটা জিততে পারেননি। তবে ফ্লোরেন্তিনো পেরেজ দায়িত্ব পেয়েই বার্নাব্যুতে ‘গ্যালাকটিকো’ যুগের সূচনা করেন। মানে দলে বসান তারকার মেলা। প্রথম সেই ‘গ্যালাকটিকো’ যুগের হাত ধরে রিয়াল আবার ফিরে পেয়েছে ব্যালন ডি’অর মঞ্চের রাজত্বও।

সেই রাজত্ব গত ১৯ বছর ধরে চলছেই। মার্কা/ পরিবর্তন ডটকম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ