প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভ্রমণ
অনিন্দ্য সুন্দর শ্রীনগর জামে মসজিদ

মোস্তফা কামাল গাজী : কাশ্মীরের গ্রীষ্মকালীন রাজধানী শ্রীনগরে যখন ট্রেন থামল তখন আকাশে গনগনে রোদ। স্থানীয় ছেলে এজাজ ভাইয়ের সঙ্গে দেখা হলো ঝিলাম নদীর তীরে। তিনি আমাদের সঙ্গে দারুল উলুম দেওবন্দে পড়েছেন। সেখান থেকেই পরিচয় আমাদের। খুব ভালো মানুষ। নদীর আশপাশটা ঘুরিয়ে দেখালেন আমাদের।

নদীটা একসময় দুকূল ছাপিয়ে প্রবাহিত হলেও এখন মৃতপ্রায়। পানির রং ঘন কালো। অধিকাংশ সৌন্দর্য এখন বিলীন। শীতকাল বলে হয়তো সৌন্দর্যের অভাব পড়েছে নদীর গায়ে। নদীর ওপর মাঝারি আকৃতির একটা ঝুলন্ত সেতু। সেটায় চড়ে দেখে নিলাম দূরে বয়ে চলা নদীর শেষ মোহনা। দিগন্তে গিয়ে মিশেছে যেন। ব্রিজ পার হয়ে এজাজ ভাই একটা ট্যাক্সি ভাড়া করলেন। ড্রাইভারকে বললেন জামে মসজিদে নিয়ে যেতে।

 

ঝিলাম নদীর পাড় ধরে চলতে শুরু করল আমাদের মাইক্রো। দু’পাশের অপরূপ সৌন্দর্য দেখে বারবার হারিয়ে যাচ্ছিলাম নন্দন মুগ্ধতায়। আধঘণ্টার মধ্যে পৌঁছলাম জামে মসজিদের গেটে। একতলা বিশিষ্ট এশিয়ার সর্ববৃহৎ জামে মসজিদটি দেখতে অনেকটা রাশিয়ার সেইন্ট পিটার্সবুরগের মতো। বাইরে থেকে এর নির্মাণশৈলী দেখে ভেতরে প্রবেশ করার আগ্রহ তীব্র থেকে তীব্রতর হলো। প্রধান গেটের সামনেও রাইফেল নিয়ে বসে আছে কয়েকজন সেনা সদস্য। এ মসজিদ নিয়েও ক্ষণে ক্ষণে চলে সংঘর্ষ। এ জন্য অধিকাংশ সময় বন্ধ করে দেওয়া হয় মসজিদটি।

১৩৯৪ সালে সুলতান শিকান্দার শাহ সাইয়াদুল আউলিয়া সাইয়্যেদ আলী হামাদানির ছেলে মীর মোহাম্মাদ হামাদানির নির্দেশে মসজিদটি নির্মাণ করেন। মসজিদে স্বাভাবিক অবস্থায় মুসল্লি ধারণক্ষমতা একসঙ্গে ১ লাখ লোকের। তবে লাইলাতুল কদর, ঈদের জামাত, জুমাতুল বিদাসহ অন্যান্য বিশেষ দিনে এ মসজিদের অভ্যন্তর চত্বর ও পাশ্ববর্তী স্থানে একসঙ্গে দুই লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

 

মসজিদের মোট পরিধি ১ লাখ ৪৬ হাজার বর্গফুট। মসজিদের ভেতর রয়েছে ৩৭৮টি সম্পূর্ণ গাছের পিলার, যার মধ্যে ২১ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট পিলার ৩৪৬টি। আর ৪৮ ফুট উচ্চতা বিশিষ্ট পিলার রয়েছে ৩২টি। কথায় কথায় এসব তথ্য জানালেন এজাজ ভাই।

প্রাচীন আমলে এত বিশাল পিলার কীভাবে দাঁড় করিয়ে স্থাপন করা হয়েছে, সেটাই বিস্ময়ের। কথিত আছে, মসজিদের নির্মাণ কাজ যখন শেষের দিকে তখন একটি পিলার কম পড়ে গেল। সুলতান সিকান্দর শাহ বললেন, ‘কাল ইনশাআল্লাহ একটা পিলার বানিয়ে লাগানো হবে।’ পরদিন সকালে দেখা গেলো কে বা কারা যথাস্থানে একটা পিলার বসিয়ে দিয়ে গেছে। কিন্তু কোন জায়গার পিলার কম পড়েছিল সেটা মনে নেই কারও। হয়তো একে ঘিরে নানা রকমের বেদাত শুরু হবে, তাই আল্লাহ তায়ালা সবাইকে পিলার ও তার স্থানটি ভুলিয়ে দিয়েছেন।

মসজিদের অভ্যন্তর বিশাল হলরুমের মতো চারপাশে তৈরি হয়েছে। নিচে বিছানো হয়েছে নরম গালিচা। মাঝখানটায় খোলা আকাশের নিচে খালি প্রান্তর।

 

সেখানে রয়েছে ওজু করার স্বচ্ছ পানির ফোয়ারা, নানা রংয়ের ফুলের বাগান ও সবুজ প্রান্তর। পাখিদের কিচিরমিচির ডাকে মিশে যাচ্ছিলাম যেন প্রকৃতির মাঝে। আমাদের তখনও জোহরের নামাজ পড়া হয়নি।

ওজু করে নামাজ আদায় করে নিলাম তাড়াতাড়ি। এতো সুন্দর স্থাপত্য দেখানোর জন্য আল্লাহ দরবারে শুকরিয়া আদায় করতে করতে বের হয়ে এলাম মসজিদ থেকে।

 

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ