প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কর আদায়ে ঘাটতি ১৬ হাজার ৭’শ কোটি টাকা

রাশিদ রিয়াজ : অতিরিক্ত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ও কর মওকুফের কারণে চলতি অর্থবছরের চার মাসে কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১৬৭.৯৯ বিলিয়ন টাকা। প্রথম ত্রৈমাসিকে (জুলাই- সেপ্টেম্বর) এ ঘাটতি ছিল ১১ হাজার ৪’শ কোটি টাকা। মঙ্গলবার প্রকাশিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অস্থায়ী পরিসংখ্যানে দেখা গেছে গত অক্টোবরে কর আদায়ে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৩’শ কোটি টাকার বেশি অর্থাৎ ৫৩.৬৯ বিলিয়ন টাকা। গত জুলাই-অক্টোবরের এনবিআর’এর ৭৮৯.২৮ বিলিয়ন টাকার কর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৬২১.২৯ বিলিয়ন টাকা। তবে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এবছর প্রথম চার মাসে কর আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে ৬.২৮ শতাংশ। বিশেষজ্ঞ ও কর কর্মকর্তারা বলছেন উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা, কর ফাঁকি দেওয়ার পরও তা মওকুফ ও করদাতাদের নির্বাচনের আগে কর প্রদানে গরিমসি সার্বিকভাবে কর আদায় ও এর আওতা সম্প্রসারণের ওপর প্রভাব ফেলেছে। ফিনান্সিয়াল এক্স্রপ্রেস

ইনক্লুসিভ ফিন্যান্স এন্ড ডেভলপমেন্ট’এর নির্বাহী পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তাফা কে মুজেরি বলেন, কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রার এধরনের ঘাটতি ৭.৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রার ওপরও প্রভাব ফেলবে। অর্থনীতির ওপরও নানাবিধ জটিলতা সৃষ্টি করবে। নির্বাচনের কারণে সরকারের উন্নয়ন খরচ একটু ধীর গতির হলেও তা অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরো বেগবান করা প্রয়োজন হবে। নির্বাচনের বছর কর আদায়ে উচ্চাভিলাষী লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হলেও এক্ষেত্রে সঠিক প্রবৃদ্ধি অর্জন জরুরি। নির্বাচন ও জনপ্রিয়তার কারণেও কর মওকুফে সরকারকে বিশেষ ছাড় দিতে হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী কর আদায় না হওয়ায় সরকারকে উন্নয়ন বরাদ্দ অব্যাহত রাখতে উচ্চ সুদের সঞ্চয়পত্রের ওপর নির্ভরশীল হতে হবে।

এদিকে গত জুলাই-অক্টোবরে এনবিআর’এর আয়কর খাতে ১৮.৫৫,মূল্য সংযোজন কর ২৩.৯১ ও শুল্ক আদায়ে ২০.২৮ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। এর বিপরীতে মূল্যসংযোজন কর আদায়ে সর্বোচ্চ ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৭৬.৩৯ বিলিয়ন টাকা ও এর সর্বনি¤œ প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২.১১ শতাংশ। শুল্ক আদায়ে ঘাটতি হয়েছে। চলতি অর্থবছরে সরকার যে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা (২.৯৬ ট্রিলিয়ন টাকা) রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে তার ৪৪ শতাংশ আদায় সম্ভব হয়েছে। এনবিআর’এর পরিসংখ্যান বলছে গত ৫ বছরে রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি হয়েছে গড়ে ১৩.৬৪ শতাংশ। তবে এ বছর বড় ধরনের কর ছাড়ের সুযোগ দেয়ায় সার্বিক রাজস্ব আদায়ের ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েছে। সরকারিভাবে গ্যাস খাতে ছাড়া দেয়ায় ১১ হাজার কোটি টাকার মূল্যসংযোজন কর কম আদায় হয়েছে। সম্প্রতি পোশাক রফতানিকারকরা বড় ধরনের কর ছাড় পেয়েছেন। এর আগে রফতানিকারকদেরও একই সুবিধা দেয়া হয়েছে। সরকার ছাড় দিয়েছে করপোরেট কর খাতেও ১২ শতাংশ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ