প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

নির্বাচনী-ব্যয়বিধি প্রয়োগ করলে কেউ নির্বাচন করতে পারবে না : সলিমুল্লাহ খান

মারুফুল আলম : ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস এর অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, সব আইন কেউ মেনে চলছে না। এমনকি নির্বাচন কমিশনের পক্ষেও সম্ভব না। মঙ্গলবার চ্যানেল ২৪ এর টক’শোতে তিনি আরো বলেন, বিধি অনুযায়ী একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা খরচ নির্বাচনে করতে পারবে। তফসিল ঘোষণার পর থেকেই যদি হিসেব করা হয়, এই পর্যন্ত অনেকে ২৫ কোটি টাকা খরচ করে ফেলেছে। তাহলে সেটা মনিটরিং করার ব্যবস্থা করা হবে কি হবে না নির্বাচন কমিশন মুখে হলফনামা নিয়ে বলতে পারবে? নির্বাচন কমিশন কি এভাবে বলতে পারবে যে, আমরা সমস্ত আইন প্রয়োগ করবো? দেখা যাবে, হলফনামা ভঙ্গের দায়ে নির্বাচন কমিশনকেই মুখোমুখি করতে হচ্ছে কাঠগড়ায়। এজন্য বলছি, কোনো জায়গায় আইনের প্রয়োগ হচ্ছে খুব কঠিনভাবে, আবার কোনো জায়গায় হচ্ছে খুবই ঢিলাভাবে।

তিনি বলেন, সুন্দর পরিবেশের জন্য যে সমস্ত শর্ত তৈরি করা দরকার, সরকার সবগুলো করেছিলো। এখন হঠাৎ করে মনোনয়ন বাতিলের ক্ষেত্রে যে অসাম্য দেখানো হলো, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠবেই। কারণ কিছু প্রশ্নের উত্তর আপনি নিজেই দিয়েছেন, যেমন কেউ যদি স্বাক্ষর করতে ভুলে যান সেটা শিথিলভাবে দেখা হবে ইত্যাদি। একারণেই আমরা বলছি, আইনকে নানাভাবে ব্যখ্যা করা যায়। সেদিকে এখন যাচ্ছি না। শুধু একটা কথার উত্তর দেন, নির্বাচনের ব্যয়বিধি কেন আমরা প্রয়োগ করছি না। এই আইনটি প্রয়োগ করলে কেউ নির্বাচন করতে পারতো না।

তিনি আরো বলেন, সংবিধানে আছে রাষ্ট্রভাষা বাংলা। হাইকোট-সুপ্রিমকোর্টে প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অবিশ্যাস্য হলেও সত্য যে, আমাদের দেশের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা বলছে, আমার কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি নেই। এসব হচ্ছে আসলে আইনের ফোকরেই। ওবায়দুল কাদের সাহেবের ভাষায়, বিরোধীদলে ‘পিএম ফেস’ নেই। ওনি ‘পিএম ফেস’ বলতে যা-ই বোঝাক, এই অতিরিক্ত ইংরেজি কথা বলা এটা কি নির্বাচনবিধি অনুযায়ী বৈধ? কথায় কথায় ইংরেজী শব্দের ব্যবহার বাংলা সংস্কৃতির সঙ্গে যায় কি যায় না জানা দরকার। জনগণের সাথে ছলা করে যারা নামের আগে ব্যারিস্টার লিখছেন সবার শাস্তি হওয়া উচিত। ব্যারিস্টার বলাটাও সংবিধানের সুস্পষ্ট লংঘন। সেদিক দিয়ে বিবেচনা করলে সব প্রার্থীকেই অবৈধ ঘোষণা করতে হয়।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, এই নির্বাচনে সারগর্ভ কোন ইস্যু নেই। যেমন চলছে, তেমন আরো চলবে এটাই নির্বাচনী ইশতেহার। আরেকটি হচ্ছে, যেমন চলছে তেমন না, আমরা ভিন্ন কিছু করবো। পাকিস্তান আমলে ৬ দফা একটি পরিষ্কার ইস্যু ছিলো। তারপর রাষ্ট্রভাষা বাংলা ভালো একটি ইস্যু। ৭০-এর টাও তাই বলবো। এখন আমাদের দেশ জাতীয় রাষ্ট্র হয়ে গেছে বলে আমাদের উদ্বেগের কোনো কারণ নেই মনে করলে হবে না।

সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার ফুটপাত থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক সবকিছুকেই অন্তর্ভূক্ত করার মাধ্যমে ইশতেহার করা উচিত। পান থেকে সামান্য চুন খসা যাবে বা একজন ক্রেডিট কার্ডে ৫ হাজার টাকা দেয়নি বলে তার প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যাবে এমন হতে পারে না। সরকারি দলের কেউ হলে বাতিল হতো কী না সেটাও দেখতে হবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত