প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘ব্রিজ-সেতু আমরা স্বপ্ন দেখি, বাস্তবে নয়

আমিনুল ইসলাম, আশুলিয়া : ‘ব্রিজ-সেতু আমরা স্বপ্ন দেখি, বাস্তবে নয়। জানি না এ স্বপ্ন বস্তবে কোনদিন রূপ নিবে কী-না। কারণ এখানে বছরের ৬ মাস পানি থাকে এবং বাকী ৬ মাস বাঁশের সাকোতে পারাপার হতে হয়। অর্থাৎ বছরের কার্তিক মাসে তৈরি করা হয় বাঁশের সাকো। তাও আবার বর্ষা এলেই নদীর পানির স্রোতে ভেসে যায়। বছরের পর বছর ধরে এরকম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।’

কথাগুলো বলছিল আশুলিয়ার ধামসোনা ইউপি’র গোপালবাড়ি নবীন প্রগতি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সিনথিয়া ।

সে আশুলিয়ার গোপালবাড়ি গ্রামের উত্তর পাশ এবং ধামসোনা গ্রামের দক্ষিণ পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া বংশাই নদীর কথা বলছিল। এ নদী পারাপারের একমাত্র ভরসা এখন একটি বাঁশের সাকু। তাও আবার বর্ষা আসলেই নদীর পানির স্রোতে ভেসে যাবে। ফলে বছরের ছয় মাস সাকো দিয়ে এবং বাকী ছয় মাস নৌকা দিয়ে এ নদী পারাপর হতে হয় কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষকে। এতে চরম ভোগান্তি আর দূর্ভোগে পোহাতে হয় ওই অঞ্চলের লোকজনদেরকে।

সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন বয়সের লোকজনের সাথে কথা বলে জানা যায়, চরম দূর্ভোগ ও ভোগান্তি শিকার হাজার হাজার মানুষ নদী পারাপারের জন্য একমাত্র ভরসা বাঁশের সাকো। আবার এ সাকো নির্মাণের ছয় মাস যেতে না যেতেই তা নদীর পানির স্রোতে ভেঙ্গে যায়। তখন এ নদী পারাপরের একমাত্র ভরসা থাকে নৌকা। নৌকাযোগে পারপার হতে গিয়ে অনেকেই নদীর পানিতে পড়ে গিয়ে আহত হয়েছে। স্কুল-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা তাদের বই পুস্তক নিয়ে নদীর পারাপার হতে গিয়ে অনেকেই নদীতে পড়ে গিয়েছে। ফলে তাদের বই খাতা ভিজে যাওয়ায় স্কুল ও মাদ্রায় স্রোতে পারতো না।

অনেকেই ক্ষোভ নিয়ে জানান, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা এ নদীর উপর দিয়ে চলাচলরত মানুষের দূর্ভোগ লাঘব করার জন্য প্রতিশ্রুতি দেয় একটি ব্রিজ নির্মাণের। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে কেউ আর খবর রাখে না। তবে এবার নির্বাচনে ধামসোনা ইউপি থেকে মো. সাইফুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর এ নদীর উপর বাঁশের একটি সাকো তৈরী করে দিয়েছে। তাতে একটু হলেও ছয় মাসের জন্য চলাচল করা যায়।

এভাবেই বছরের পর বছর এ নদীর উপর একটি ব্রিজের স্বপ্ন দেখে এ অঞ্চলের লোকজন। চোখে স্বপ্ন নিয়ে চরম দুর্ভোগ আর ভোগান্তির মধ্যে পারাপার হচ্ছে দুই পারের হাজার হাজার মানুষ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত