Skip to main content

আইনের রাজনৈতিক প্রয়োগ

প্রভাষ আমিন : ১. বাংলাদেশ আসলেই অদ্ভুত এক দেশ। এখানে এমপিরা পদে থেকে এমপি নির্বাচন করতে পারেন। কিন্তু স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা পদে থেকে এমপি পদের জন্য নির্বাচন করতে পারেন না। স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিরা পদে থেকে সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না, আইনে কিন্তু এমন কথা বলা নেই। বলা আছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে তারা আগের পদে থাকতে পারবেন না। তার মানে নির্বাচন করতে বাধা নেই। কিন্তু নির্বাচন কমিশন নিজেদের মতো করে আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের নির্বাচন থেকে বিরত রাখতে চাইছে। মজাটা হলো, প্রার্থী জোয়ার ঠেকাতে আওয়ামী লীগ এবার স্থানীয় সরকার প্রতিনিধিদের মনোনয়নই দেয়নি। কিন্তু সে বিলাসিতা করার সুযোগ ছিলো না বিএনপির। তারা অন্তত ৩০ জন স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি মানে পৌরসভা বা উপজেলা চেয়ারম্যানকে মনোনয়ন দিয়েছিলো। কিন্তু নির্বাচন কমিশন আইনের ভুল ব্যাখ্যা করে তাদের বিরত রাখতে চাইছে। বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা পদত্যাগ করেই মনোনয়নপত্র দাখিল করতে এসেছিলেন। কিন্তু তাদের পদত্যাগ গৃহীত হয়নি, এ অজুহাতে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এ ব্যর্থতা তো তাদের নয়। যাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করার কথা, তারা দেরি করলে, সে দায় ওই প্রার্থী নেবেন কেন? ২০১৪ সালের নির্বাচনে কিন্তু ফেনী পৌরসভার চেয়ারম্যান নিজাম হাজারী পদে থেকেই নির্বাচন করেছিলেন। একই আইনের প্রয়োগ দুই দলের ক্ষেত্রে দুই রকম হবে কেন? ২. নকল করার অপরাধে বাবা-মাকে ডেকে এনে তার সামনেই অপমান করেছিলো ভিকারুননিসা স্কুল কর্তৃপক্ষ। তাকে স্কুল থেকে বের করে দেয়া হয়েছিলো। অপমানটা সইতে পারেনি অরিত্রী অধিকারী। বাসায় ফিরে ফ্যানে ঝুলে সব গ্লানি থেকে মুক্তি চেয়েছে অরিত্রী। কিন্তু আমাদের গ্লানিতে ফেলে দিয়ে গেছে মেয়েটি। আমরা সন্তানদের স্কুলে পাঠাই মানুষ করার জন্য, উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য; আত্মহত্যার জন্য নয়। এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় তদন্ত কমিটি করেছে, হাইকোর্ট তদন্ত করতে বলেছে, প্রধান শিক্ষককে বরখাস্ত করা হয়েছে। কিন্তু এতো সবে কি ফিরে আসবে আমাদের সন্তান অরিত্রী? শুধু ভিকারুননিসা নয়, আরো অনেক স্কুলেই এমন নিষ্ঠুর আচরণ করা হয় শিক্ষার্থীদের সাথে। এ প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। ৩. ৯ ডিসেম্বর শুরু হচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ। সেটা সামনে রেখে অধিনায়ক মাশরাফি সংবাদ সম্মেলনে এলেন একদিন আগেই। এমন সংবাদ সম্মেলন আগে কখনো ফেস করেননি মাশরাফি। একের পর এক প্রশ্নবাণ ছুটে এলো। ক্রিকেট নয়, প্রায় সব প্রশ্নই রাজনীতি নিয়ে। তিনি সামলালেন সাবলিলভাবেই। তবে জানালেন, এখনো তিনি খেলাতেই আছেন। জানালেন, জনগণের জন্য বৃহৎ পরিসরে কিছু করতে চান বলেই তার রাজনীতিতে আসা। কিন্তু আওয়ামী লীগের হয়ে লড়ছেন বলে, এতোদিনের সবার প্রিয় মাশরাফি এখন কারো কারো চক্ষুশুল। রাজনীতিতে আমরা ভালো লোক চাই। আবার ভালো কেউ এলে, তাকে গালাগাল করবো, এ কেমন কথা! রাজনীতিতে মাশরাফিকে স্বাগত। লেখক : হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

অন্যান্য সংবাদ