প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আমরা স্তম্ভিত, আমরা লজ্জিত!

মোহাম্মদ আবদুল অদুদ : অরিত্রির আত্নহনন শিক্ষক হিসেবে আমাদেরকে অনেক ছোট করেছে। আমরা স্তম্ভিত, আমরা লজ্জিত। সারাদেশের মানুষের নিকট ভিকারুননিসা নুন স্কুলের মান-সম্মান শুধু তলানিতে পৌঁছে যায়নি, গিয়েছে শিক্ষকদের মর্যাদাও। এতো কঠোর হতে হয় না। বলতে পারবেন মেয়েটা বা তার বাবা আর কী করলে তার কৃত অপরাধের যথাযোগ্য শাস্তি হতো? বাবা-মেয়ের ক্ষমা চাওয়ার পরও টিসি প্রদান অনেকটা বাড়াবাড়ি, যা কোনো শিক্ষক করতে পারেন কি-না সেই প্রশ্ন ওঠেছে দেশব্যাপি। বাবার প্রতি সেই অপমানের ধাক্কা সামলে নিতে না পেরে মেয়েটি আতœহননের পথ বেছে নেয়, সংবাদমাধ্যমে ভেসে আসা তথ্য থেকে আমরা সেটাই জানতে পেরেছি।

ছোট একটি স্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে বলতে পারি, আমাদের কোনো মেয়ে শিক্ষার্থী ভিকারুননিসায় চান্স পেলে গর্বে বুকটা ভরে ওঠে। একই অনুভ’তি সেসকল অভিভাবকের, যাদের মেয়েরা সেখানে চান্স পায়। তারা সারা বছরব্যাপি তাদের সেই মেয়েকে নিয়ে গর্ববোধ করেন। মানুষকে বিভিন্ন কায়দায় বলেন, আমার মেয়ে ভিকারুননিসায় পড়ে। অথচ আজ পত্রিকায় দেখলাম, জনৈক অভিভাবক লিখেছেন, আমার মেয়েকে ভিকারুননিসায় পড়াব না। কি সাংঘাতিক কথা!

কিন্তু আমি বলব, ভিন্ন কথা। শিক্ষকদের তো মর্যাদাবোধ থাকা উচিৎ। এটা হারিয়ে ফেললে আমরা যাবো কোথায়? এমন খামখেয়ালিপনা করে শিক্ষক সমাজকে ছোট করায় আমরা লজ্জিত। অরিত্রি আমাদের এই গুণেধরা সমাজের উপরও একটি চপেটাঘাত করে গেলেন। গোটা শিক্ষক সমাজকে আরো ভদ্র হওয়ার দীক্ষা দিয়ে গেলেন। সত্যিই আমরা এ অবস্থা থেকে মুক্তি চাই। শিক্ষক সমাজকে অরিত্রির নিকট ক্ষমা চাওয়ার জায়গায় নিয়ে যাওয়া কতটুকু অসম্মানজনক, তা বলে বুঝাতে পারব না। অতএব, অরিত্রি আমাদের ক্ষমা করো। আমরা লজ্জিত।
লেখক : প্রধান শিক্ষক, আল-হেরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল, নারায়ণগঞ্জ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ