প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশের ব্যাংকখাত ঝুঁকিতে রয়েছে : অর্থনীতিবিদরা

রমজান আলী : দেশের অর্থনীতি অনেক ভালো হলেও ব্যাংকিং খাতের অবস্থা নাজুক। খেলাপি ঋণ বাড়াতে চরমভাবে ব্যাংকিংখাত ঝুঁকিতে রয়েছে। এছাড়া ঋণের প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াতে আয় কমে যাচ্ছে ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ব্যাংকিংখাত এমনটাই জানান দেশের অর্থনীতিবিদরা।

এব্যাপারে অর্থনীতিবিদ ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, যে হারে ঋণ খেলাপি বাড়ছে তাতে ভবিষ্যতে ব্যাংকখাতে ঝুঁকি বাড়ছে। এছাড়া বেসরকারি ব্যাংকখাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি কমেছে। সেক্ষেত্রে আয়ের পরিমাণ কমে যাবে। এছাড়া ব্যাংকখাতে ডিপোজিডের হার আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। তাই ঝুঁকিতে রয়েছে ব্যাংকখাত।

তিনি আরও বলেন, ঋণ খেলাপির মামলায় আটকে আছে ২ লাখ ১০৭ কোটি টাকা টাকার মত। ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯০ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে আরও ৪৫ হাজার কোটি টাকা অবলোপন (রাইট অফ) করা; যা পাওয়ার আশা নেই বললেই চলে। এছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, সার্বিকভাবে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়ে গেছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধনের ঘাটতি রয়েছে। ব্যাংক খাতের ওপর মানুষের আস্থা কমে গেছে। যার ফলে আমানত কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বেসরকারি খাতে ঋণের চাহিদা কমে গেছে।

এছাড়া তিনি আরও বলেন, বর্তমানে এসএমই খাতে ঋণের ক্ষেত্রে ব্যাংক উদাসীনতা রয়েছে। নতুন কোন উদ্যোক্তা তৈরি করছে ব্যাংক। দক্ষতার ঘাটতিও রয়েছে। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংক হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকও ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করছে না। তাই এর উত্তরণ যদি না ঘটে তাহলে সার্বিকভাবে ঝুঁকিতে পড়বে ব্যাংকখাত।

এব্যাপারে অর্থনীতিবিদ কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ বলেন, বর্তমানে যে হারে খেলাপি বাড়ছে তাতে ব্যাংক খাতে ঝুঁকি রয়েছে। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক উচিত এর জোরালোভাবে ভূমিকা নেয়া। যারা ঋণ খেলাপি রয়েছে তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি ব্যবস্থা করা। শাস্তির ব্যবস্থা করে হলে অনেকটাই কমে যাবে ঋণ খেলাপি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, তাদের গবেষণা তাদের দিক থেকে ঠিক হতে পারে। তবে আমাদের দিক থেকে তেমন একটা নেতিবাচক দেখছি না। কারণ যে সমস্যা রয়েছে তা দূর করার জন্য ব্যাংকগুলো নিজেরাই কাজ করছে। সম্পদের গুণগত মানের সঠিক ব্যবহার যাতে হয় সে বিষয় বাংলাদেশ ব্যাংক তদারিক করছে।

সম্প্রতি ক্রেডিট রেটিং সংস্থা মুডি’স ইনভেস্টর্স সার্ভিস প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তেজিভাব থাকার পরও ব্যাংক খাত দুর্বল অবস্থায়। এর অন্যতম কারণ সম্পদের গুণগত মানের চরম অবনতি। ব্যাংক পরিচালনার পরিবেশ, সম্পদ ঝুঁকি, মূলধন, মুনাফা ও দক্ষতা, অর্থায়ন ও তারল্য এবং সরকারি সহায়তা, এই ছয়টি চলকের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে মুডিস। সম্পাদনা : প্রিয়াংকা আচার্য্য

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ