প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভিকারুননিসার শিক্ষার্থী অরিত্রির আত্মহত্যা
বুধবার আবারো প্রধান ফটকে অবস্থানের ঘোষণা শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের

সুজন কৈরী : ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিদ্ধেশ্বরী শাখার ইংলিশ ভার্সনের প্রভাতী শাখার নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী অরিত্রি অধিকারীর আত্মহত্যার ঘটনায় ৩দফা দবিতে বুধবার আবারো স্কুলের সামনে কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।

মঙ্গলবার বিকেলে তারা এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচিগুলো হলো- শিক্ষামন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তিন দিনের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার না হলে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সব পরীক্ষা বর্জন ও বুধবার সকাল ১০টায় আবারো স্কুলের প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়া।

এর আগে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তিন দফা দাবিতে স্কুলের সকল গেইটে তালা দিয়ে প্রধান ফটকের সামনে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রচলিত আইনে বিচার, প্রিন্সিপাল ও শাখা প্রধানের পূর্ণ বরখাস্তসহ গভর্নিং বডির সদস্যদের অপসারণ বা পদত্যাগ এবং প্রতিষ্ঠানটির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবিতে তারা বিক্ষোভ করেন।

বিক্ষোভকালে ‘এ কেমন শিক্ষক, যার জন্য শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়?’ ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’সহ বিভিন্ন ধরনের স্লোগান সম্মিলিত প্ল্যাকার্ড শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হাতে দেখা গেছে। আসাদুজ্জামান নামের একজন অভিভাবক বলেন, আমার দুই মেয়ে এখানে পড়ে। একজন কলেজে আরেকজন স্কুলে। তার মধ্যে ছোট মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া শিক্ষার্থীর অরিত্রির সহপাঠী। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির কিছু শিক্ষকের ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। তারা তুচ্ছ ঘটনায় অভিভাবকদের ডেকে আনেন। এর সংশোধন হওয়া অবশ্যই দরকার।

ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এত বড় একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অথচ এখানে শিক্ষার্থীদের কাউন্সিলিংয়ের কোনো ব্যবস্থা নেই। অভিভাবক দিলরুবা জাহান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর কাছে মোবাইল পাওয়া গেলে, তার সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করা হবে, তা শিক্ষকরা জানেন না। তাদের আরো প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন।

অপর এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক আমিনুল ইসলাম বলেন, আমার এক মেয়ে প্রতিষ্ঠানটির ছাত্রী। এই স্কুলটি দুর্নীতিতে ভরা। রয়েছে নানা অনিয়ম। এসব দূর হওয়া দরকার। তার অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকরা মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষার খাতাও নিরীক্ষা করেন না। সুদিপ ভট্টাচার্য্য নামের অপর অভিভাবক বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে কোটি কোটি টাকার ভর্তি বাণিজ্য হয়। মৃত এই অরিত্রির সিটটিও লাখ লাখ টাকায় বিক্রি করা হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা ভুল করবে। তবে তাদের সঙ্গে আচারণের বিষয়টিও শিক্ষকদের জানা উচিত। আন্দোলনে অংশ নেয়া দশম শেণীর এক শিক্ষার্থীর মা জাহানারা বেগম বলেন, এটি একটি দুঃখজনক ও নিন্দনীয় ঘটনা। স্কুল কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালির কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থী যদি নকল করে থাকে সেজন্য সে পা ধরে ক্ষমা চেয়েছে। তারা মাফ না করে বরং তার বাবা-মাকে অপমান করেছে, তাকে টিসি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষ সাধারণভাবে নিতে পারত, অরিত্রিকে অন্য শাস্তি দিতে পারতো। আমরা এটাকে হত্যা বলতে চাই। জড়িতদের বিচার চাই।

নবম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ইশরাত সুবর্ণ বলে, আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অধ্যক্ষের খামখেয়ালির কারণেই মরতে হয়েছে অরিত্রিকে, আমরা তার পদত্যাগ চাই। অরিত্রির সহপাঠীরা বলেন,সবাই শোকাহত থাকায় আমরা মঙ্গলবারের পরীক্ষা স্থগিত রাখার অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু তারপরও পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। অনেকেই পরীক্ষা দিতে পারেনি।

শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল (ভারপ্রাপ্ত) নাজনীন ফেরদৌস বলেন, স্কুলের অনেক শাখা, পরীক্ষা স্থগিত করলে, তার শিডিউল মেলানো কঠিন হয়ে যায়। তাই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়নি। তবে যারা পরীক্ষা দেয়নি, তারা পরবর্তীতে দিতে পারবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত