প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সুুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মাঝে ক্রিকেট সামগ্রী প্রদান করলো জাগ্রত মানবিকতা

মাহফুজ নান্টু: ক্রিকেট তার ধ্যানজ্ঞান। সাকিব-তামিম,মুশফিক হচ্ছে তার কাছে সুপার হিরো। বলছিলাম ফয়সাল আলম তানভীরের কথা। ক্রিকেট ছাড়াও জাগ্রত মানবিকতার নামক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কো-অর্ঢিনেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এসব কাজের মাঝে থাকার কারণে কুমিল্লা শহরে একটি পরিচিত মুখ হয়ে উঠে তানভীর।

২০১৬ সালে অনুশীলনরত অবস্থায় ইনজুরিতে পরলেন। কিন্তু পায়ের সমস্যা নিয়েও অনুশীলন ক্যাম্পে নিয়মিত হাজির হতেন তানভীর। কিন্তু খেলতে না পারার আক্ষেপ তাকে কষ্ট দিত। পায়ের সমস্যার সাথে যুদ্ধ করে পারা যাচ্ছিলো না আর। খুব কষ্ট হতো না খেলতে পারার জন্য । নিজের উপর রাগও হতো তার।

স্টার ক্রিকেট একাডেমীর ছাত্র তানভীর ২০১৮ তে এসে আবারো জয়েন করলো প্রিয় ক্লাবে। কিন্তু ততদিনে ক্লাবের পরিচালক স্যার পুলিশে যোগ দিয়ে চলে গেছেন কর্মস্থলে। মনের ভেতর চাপা কষ্টটাকে চাপা দিয়ে সাথে ৩ বন্ধু মিলে একাডেমী পরিচালনা কওে দিলেন।

বর্তমানে স্টার ক্রিকেট একাডেমী’’র তে নিয়মিত অনুশীলন করে ২৮ জন খুদে ক্রিকেটার। তবে মজার বিষয় হলো এই একাডেমিতে সুবিধা বঞ্চিত শিশু ১৭ জন খুদে ক্রিকেটার আছে।যাদেও চোখে মুখে আগামীর ক্রিকেট বিশ্বকে শাসন করার দৃঢ় প্রত্যয় জ্বলজ্বল করছিলো। বর্তমানে স্টার ক্রিকেট একাডেমী থেকে অনূর্ধ্ব ১৮ তে ৫ জন খেলছে।

তবে এইসব শিশু কিশোর যারা ক্রিকেট খেলে দেশের সুনাম বয়ে আনতে বদ্ধ পরিকর কিন্তু খেলার জন্য যে সব অনুষঙ্গ প্রয়োজন ব্যক্তিগত ভাবে সুবিধা বঞ্চিত শিশুসহ একাডেমির কিশোরদের পক্ষে খেলার ব্যাট-বল,স্ট্যাম্প-জার্সির সবটুকু সরবরাহ করা প্রায় অসম্ভব।

শিশু কিশোরদের ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্ন দেখা,ক্রিকেটে দেশের হয়ে নেতৃত্ব দেয়ার মত একদল শিশু কিশোরের এমন দৃঢ়তার কথা পৌছে গেলো বিসিবির কাউন্সিলর কুমিল্লা জেলা এবং কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট উপ পরিষদের সভাপতি সাইফুল আলম রনির কাছে।

গত ২৫ নভেম্বর শিশু কিশোরদের ক্রিকেট খেলায় আরো উৎসাহী করতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন জাগ্রত মানবিকতার পক্ষ থেকে ক্রিকেট খেলার জার্সি -ব্যাট-বলসহ অন্যান্য অনুষঙ্গ উপহার হিসেবে তুলে স্বপ্নবাজ একদল শিশু কিশোরদের হাতে।

শিশু কিশোরদের মাঝে ক্রিকেট অনুষঙ্গ বিতরণ শেষে বিসিবির কাউন্সিলর কুমিল্লা জেলা এবং কুমিল্লা জেলা ক্রিকেট উপ পরিষদের সভাপতি সাইফুল আলম রনি তার অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে বলেন, এই ক্রিকেট খেলাই পুরো বিশ্বের মাঝে আমাদেরকে নতুনভাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে। ক্রিকেট থেকে আমাদের প্রাপ্তি অনেক। ক্রিকেটে আমরা অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছি। ক্রিকেটে বিশ্বকাপ জেতা এখন আর কোন স্বপ্ন নয়। সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর এই লক্ষ্য অর্জন এবং লক্ষ্য অর্জনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে শিশু কিশোরদেরকে পর্যাপ্ত সহযোগীতা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও কর্তব্য। আসুন প্রত্যেকে প্রত্যেকের অবস্থান থেকে ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে সচেতন হই। এই শিশুরাই আমাদের আগামীর ভবিষ্যত। একদিন হয়তো এখান থেকেই বেরিয়ে আসবে আমাদের বাংলার টাইগার।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ