Skip to main content

মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অর্থমন্ত্রণালয়ের ‘সবুজ সংকেত’

রাশিদ রিয়াজ : রফতানি বৃদ্ধির প্রেক্ষিতে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে অর্থমন্ত্রণালয়ের ‘সবুজ সংকেত’ মিলেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিকভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে এখন এধরনের চুক্তি বা ‘ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সম্প্রতি এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সম্ভাব্য যাচাই করে উদ্যোগ নেয়ার জন্যে দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়। যেসব দেশের সঙ্গে বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে তা হ্রাস ও রফতানি বৃদ্ধি করতে এধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সহায়ক হবে বলে বাণিজ্যমন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে অর্থমন্ত্রণালয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে রফতানি পণ্য আরো বৃদ্ধির জন্যে উদ্যোগ নেয়ার তাগিদ দিয়েছে। এর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন নতুন পণ্য রফতানির সুযোগ খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের বাধা অপসারণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস প্রসঙ্গত: বাংলাদেশের প্রতিযোগী বিভিন্ন দেশ বাণিজ্য সম্প্রসারণে ইতোমধ্যে এ ধরনের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করছে । একারণে বাংলাদেশের এধরনের চুক্তি করা প্রয়োজন ও জরুরি হয়ে পড়েছে। চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, পাকিস্তান, জাপান, আর্জোন্টিনা, সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরবের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখছে অর্থমন্ত্রণালয়। ২০২৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশ উন্নত দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চায় এবং তার একটি উদ্যোগ হিসেবে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ট্যারিফ কমিশনের এক সমীক্ষায় এর আগে চীন, শ্রীলঙ্কা সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি হলে লাভবান হওয়া যাবে এমন অভিমত পাওয়া যায়। এছাড়া বিভিন্ন রফতানিকারক, বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষদের সঙ্গে আলোচনায় দেখা গেছে তারা মুক্তবাণিজ্য চুক্তির পক্ষে। বাংলাদেশের সঙ্গে বরং শ্রীলঙ্কা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি করতে কম আগ্রহী। তবে চীন ও কোরিয়ার সঙ্গে শ্রীলঙ্কা ইতিমধ্যে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করেছে। গত জুনে মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ভালমন্দ নিয়ে বাংলাদেশ ও চীন একটি যৌথ সমীক্ষা করে। সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য মুক্তবাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে কোনো দ্বিমত পোষণ না করে ইতোপূর্বে বলেছেন, এতে কোনো অসুবিধা হবে না। তবে তিনি এক্ষেত্রে শুল্ক হ্রাসের সুযোগ ও যে সব পণ্য রফতানির সুযোগ পাওয়া যাবে তা বাংলাদেশ উৎপাদন করে কি না তা পরখ করে দেখার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া মুক্তবাণিজ্য চুক্তি করলে কী পরিমান রাজস্ব আদায় হ্রাস পাবে তা যাচাই এবং এক্ষেত্রে অশুল্কগত বাধা অপসারণের তাগিদ দেন তিনি।